রাজবাড়ী, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০২২

পদ্মা সেতু উদ্বোধন: ঢাকা এখন দক্ষিণাঞ্চলের হাতের মুঠোয়

প্রকাশ: ২৫ জুন, ২০২২ ৭:১০ : অপরাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

॥নিউজ ডেস্ক॥ রাজকন্ঠ ডট কম

পদ্মাসেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকা এখন দক্ষিণাঞ্চলবাসীর হাতের মুঠোয়। তাই স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। দেশের প্রধানতম নদীর একটি পদ্মা। রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলাকে পৃথক করে রেখেছে প্রমত্তা পদ্মা নদী। রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাতে হলে দেশের অন্যতম দুটি নৌপথ মাদারীপুর-মুন্সীগঞ্জ জেলার বাংলাবাজার-শিমুলিয় ফেরিঘাট এবং রাজবাড়ী-মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট পার হতে হয়। এছাড়াও ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের মৈনটঘাট পার হয়েও রাজধানীতে পৌঁছানো যায়। ওই ঘাট পার হতে হলেও পদ্মানদীকেই অতিক্রম করতে হয়। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভালো না হওয়ায় দূরবর্তী জেলার যাত্রীরা ওই রুটটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। অর্থাৎ দক্ষিণাঞ্চলকে রাজধানী ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে একমাত্র পদ্মানদীই।

দিন গুনতে গুনতে অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর। শনিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টায় উদ্বোধন হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর। ২৬ জুন সকাল থেকে সাধারণ যাত্রীরা পদ্মা সেতু ব্যবহার করতে পারবে। আর এই সেতুর মাধ্যমে রাজধানীর দুয়ারে পৌঁছে গেল দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলা। এই সেতুবন্ধনের মধ্য দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়ে গেল।

দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর ফলে এই অঞ্চলের মানুষের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী সহজেই ঢাকায় পৌঁছানো যাবে। আবার ঢাকা থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি গ্রামাঞ্চলে নিয়ে আসা যাবে। সেতুর ফলে সময়ও যেমন বাঁচবে, তেমনি খরচও কমে আসবে। এতে করে ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে পদ্মাপাড়ের এই অঞ্চলে। তাতে করে বাড়বে জীবনযাত্রার মানও।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উৎরাইল নয়াবাজারের ব্যবসায়ী মো. সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘উৎরাইল হাট থেকে রসুনসহ নানা শস্য কিনে ঢাকার টঙ্গীতে পাঠাই। সপ্তাহে দুই/তিন দিন ঢাকা যেতে হয়। ভোরে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে বিকেলে রওনা দিয়ে বাড়ি ফিরি। ঝড়-বৃষ্টি হলে ঘাটে আটকে থাকতে হয়। অনেক সময় প্রয়োজন হলেও ঢাকা যেতে পারি না। সেতু চালু হলে ঢাকা যাওয়া নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। মালামাল পৌঁছাতেও সমস্যায় পড়তে হবে না। সরাসরি মালামাল নিয়ে ঢাকায় যাওয়া যাবে। সময়ও কম লাগবে। ফলে ব্যবসায়-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।’

স্থানীয় শিক্ষক আজিজুল হক বলেন, ‘এই পদ্মা নদী পার হতে গিয়ে পিনাক-৬ নামে লঞ্চ ডুবে প্রাণহানি হয়ে অসংখ্য মানুষের। স্বজনহারা হয় অসংখ্য পরিবার। অনেকের মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি স্বজনেরা। পদ্মানদী পার হতে গিয়ে স্পিড বোট ডুবে একসঙ্গে নারী-শিশুসহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এই নৌরুটে। কাল পদ্মাসেতু চালু হচ্ছে। এ নৌরুটে দুর্ঘটনার শিকার হতে হবে না যাত্রীদের। পদ্মা সেতু শুধু সেতু নয়, এটি আমাদের আবেগের বিষয়।’

সহিদুজ্জামান সোহেল নামের শিবচরের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি ঢাকায় চাকরি করি। বাড়িতে মা থাকে। মাকে দেখতে যখন-তখন ছুটে আসতে মন চাইলেও পদ্মা নদী বাধার সৃষ্টি করে। বাড়ি আসতে চাইলে হিসাব-নিকেশ করতে হয় ফেরি পাব কি-না, রাত হয়ে যাবে কি-না বা ঝড়-বৃষ্টি হলে তো নৌযান বন্ধ থাকবে ইত্যাদি। আমরা যারা পদ্মার ওপারে বাস করি, তাদের কাছে এই সেতুর গুরুত্ব অনেক। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিনটি আমাদের কাছে স্মরণীয় হবে থাকবে।’