রাজবাড়ী, ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, রোববার, ২৬ জুন ২০২২

সড়কে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে

সাভার দূর্ঘটনায় আরও এক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নিহত

প্রকাশ: ১০ জুন, ২০২২ ৮:২৩ : অপরাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

মাসুদুর রহমান রুবেল,সাভার॥ রাজকন্ঠ ডট কম


সাভারের বলিয়ারপুরে সেফ লাইন নামের একটি বাসের ধাক্কায় পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্টাফ বাসে থাকা আরেক নারী বৈজ্ঞানিক গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

নিহত কর্মকর্তার নাম ফারহানা ইসলাম নিপা (৩৫)। এ নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের ৫ জন নিহত হলেন।

উক্ত ঘটনায় সেইফ লাইনের চালক মারুফ হোসেন মুন্নাও মারা গেছেন। ফলে এ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ জনে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা।

জানা গেছে, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারহানা ইসলাম নিপা সাভারের পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নিউক্লিয়ার সাইন্সে কর্মরত ছিলেন।

তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজিক্যাল সাইন্স ডিপার্টমেন্টের (৩৫ ব্যাচ) সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ধামরাই এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে রাজধানীর কল্যাণপুরে বসবাস করতেন।

নিহত কর্মকর্তার ভাই তানভীর রায়হান রিফাত বলেন, আমার বোন নিপা তার স্বামীর সাথে রাজধানীর কল্যাণপুরে বসবাস করতো। সেখান থেকে সাভার অফিস করতো। তার মরদেহ ধামরাই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে দাফন করা হবে।

পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ টি এম ফয়েজুল ইসলাম জানান, গত রবিবার (৫ জুন) দুর্ঘটনার পরপর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। দুর্ঘটনায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় ভেঙে যায় এবং মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন ফারহানা।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকাল ৯টার দিকে-আরিচা মহাসড়কের সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকামুখী সেফ লাইন বাসটি চলন্ত অবস্থায় প্রথমে বাঁ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসকে ধাক্কা দিয়ে ডান পাশে থাকা গরুবোঝাই ট্রাকটিকে সামনের দিকে ধাক্কা দেয়। এরপর তা সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে মহাসড়কের সাভারমুখী লেনে চলে যায়। এসময় বিপরীত লেনের সাভারমুখী পরমাণু শক্তি গবেষণার স্টাফ বাসের সঙ্গে সেইফ লাইনের বাসটির সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে পরমাণু শক্তি কমিশনের আরিফুজ্জামান ও পূজা সরকার নামে দুজন বিজ্ঞানী, কাউছার রাব্বি নামে একজন প্রকৌশলী, ওই স্টাফ বাসের চালক রাজিব এবং সেইফ লাইনের চালক মারুফ নিহত হন। আহত হন ২০ জন। ঘটনার দিন রাতে অজ্ঞাত চালককে আসামি করে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।