রাজবাড়ী, ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১

শিক্ষানুরাগী শাহ মকবুল হোসেনের জানাযায় হাজারো মানুষের ঢল

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৮:৪৮ : অপরাহ্ণ

॥ মাসুদ রেজা শিশির ॥ রাজকন্ঠ ডট কম


রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামের বিশিষ্ঠ শিক্ষানুরাগী কসবামাজাইল এ এইচ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সদস্য শাহ মোঃ মকবুল হোসেন শুক্রবার বার্ধক্যজনিত কারনে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহী—– রাজিউন) মুত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল (৯৩) বছর। শুক্রবার বাদ আছর জানাযা নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শাহ মোঃ মকবুল হোসেন ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ, নিজে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারলেও তার সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন। পাংশা উপজেলার প্রাচীনতম স্কুল কসবামাজাইল এ এইচ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। (১৯৭৭-১৯৯৩) দীর্ঘ ১৬ বছর কসবামাজাইল এ.এইচ. হাই স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন শাহ মোঃ মকবুল হোসেন। তৎকালীন দায়িত্বপালন কালে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে তার অবদান অনস্বীকারর্য্য বলে মনে করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
শাহ মোঃ মকবুল হোসেন স্থানীয়দের কাছে মকবুল বিশ্বাস নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ১৯৩০ সালে ভাতশালা গ্রামের বিখ্যাত শাহ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। এই বৃদ্ধ বয়সে তথা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজ গ্রামের হেফজখানা পরিচালনাসহ নানাবিধ সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভ’মিকা পালন করেছেন তিনি।
শাহ মোঃ মকবুল হোসেন ৫ম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন সময়ে তাঁর পিতাকে হারান, এর মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে বড় ভাইয়ের মৃত্যু ঘটলে সংসারের দায়িত্ব তাঁকে নিতে হয়। তিনি স্বাস্থ্য সহকারি পদে সরকারি চাকরিতে যোগদান করলেও সংসারিক প্রয়োজনে ৩ বছরের মাথায় চাকরি ছেড়ে এলাকায় ফিরে এসে ব্যবসা শুরু করেন। বাস্তবতার কারণেই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হলেও, তাঁর পাঠাভ্যাস ছিল সক্রিয়। ফলে, ধর্ম, রাজনীতি, সমাজ ও সমসাময়িক বিষয়ের অনেক কিছুই এই প্রখর স্মৃতি শক্তিসম্পন্ন মানুষটির নখদর্পনে ছিল। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এই শিক্ষানুরাগীর নামাজে জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন সেই সাথে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।