রাজবাড়ী, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

মুক্তি পেতে চায় গ্রামবাসী

পাংশায় কাঁচা সড়কে গ্রামবাসীর চরম দুর্ভোগ

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ৪:৩৬ : অপরাহ্ণ

মো. শামীম হোসেনঃরাজকন্ঠ ডট কম

রাজবাড়ীর পাংশায় কাঁচা সড়কে অভাবনীয় দুর্ভোগ মানুষের। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিদের প্রতীশ্রুতিই এক মাত্র ভরসা। থেমে আছে গ্রামবাসীর মানোন্নয়ন। এই অভাবনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে চায় গ্রামবাসী।

উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের বসাকুষ্টিয়া গ্রামের একটি কাঁচা সড়কের বেহালদশা। বেহালদশার কারণে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছে না গ্রামবাসী ও ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য শহরে বিক্রি করতে এবং ক্রয়কৃত পণ্য আনতে পোহাচ্ছে অভাবনীয় দুর্ভোগ। এছাড়াও গ্রামের স্কুলগামী ছেলে-মেয়েরা দুর্ভোগের শেষ নেই। দুর্ভোগও মহামারি আকার ধারণ করে বর্ষাকালে। সামান্য বৃষ্টিতে গ্রামের সড়কটি হাটু সমান কাঁদাপানিতে ডুবে যায়।

কথা হয় এই গ্রামেরই সন্তান আইনজীবি আব্দুর রাজ্জাকের সাথে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের এই দুর্ভোগ আজ থেকে নয়, অনেক আগে থেকেই। সবাই নির্বাচনের সময় কথা দিয়ে যায়, কিন্তু কাজের কাজ কেউ কর না। গ্রামের স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের সব থেকে বেশী সমস্যা। অভাবনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের । বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে। এই এলাকার অবহেলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সড়কটি পাকা করণের দাবি জানান তিনি।

বসাকুষ্টিয়া বাজারের ব্যবসায়ী চুন্নু বলেন, আমাদের দোকানের মালামাল আনতে কিজে কষ্ট হয় যা বলে বোঝাবার নয়। কোন ভ্যানগাড়ি আসতে চায় না। এই কাদা পানির জন্য দুই গুন বেশী ভাঁড়া। প্রতিদিনই দোকানের পন্য বেঁচে যে টাকা লাভ হয়, ভাড়া গুনতেই শেষ।

ব্যবসায়ী শাহীন জানান, এই এলাকা থেকে কিছু পাট কিনেছি। এই সড়কে কোন গাড়ি পাচ্ছিনা। সময়মত বিক্রয় না করতে পারলে ব্যবসায় লোকশান হবে। পাট কিনে যেন বিপদে পরেছি।

বসাকুষ্টিয়া জামে মসজিদের ইমাম বলেন, এই কাদাপানির জন্য গ্রামের মানুষ ঠিক মত নামাযে আসতে পারে না। বিশেষ করে ছোট বাচ্চারা এবং বৃদ্ধরা নামাজে আসতে পারে না, তাদের জন্য এই কাঁদা মাটির রাস্তায় চলাচল খুবই সমস্যা।

এলাকার ইউপি সদস্য আইনুদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমিও চাই গ্রামে একটা পাকা রাস্থা হোক, কিন্তু সেটা তো ব্যক্তিগত ভাবে করা সম্ভব না। আমি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে দেখি, কিছু করা যায় কিনা।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ আলী বলেন, আসলে এই বিষয়ে তো আগে কেউ আমাকে জানাইনি, যেহেতু আমি এখন জানলাম। দেখি কি করা যায়।

জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, আমি চাইনা আমার অধীনে থাকা কোন গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে থাকুক। যত দ্রুত সম্ভব আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।