রাজবাড়ী, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রোববার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

গোয়ালন্দে নিখোঁজ সুলতানের পরিবার দিশেহারা

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট, ২০২১ ১১:০৩ : অপরাহ্ণ

॥ জহুরুল ইসলাম হালিম ॥রাজকন্ঠ ডট কম


বাবা অন্যত্র বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন প্রায় ৩০বছর আগে। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালালেও মাত্র ৭বছর বয়সে দৌলতদিয়া ল ঘাট এলাকায় কুলির কাজ করে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে শিশু সুলতানকে।
সেই থেকে সংগ্রামী জীবনের শুরু এরি মধ্যে বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। মা, ২মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ৫ জনের ছোট সংসার সুলতানের।

নিজস্ব কোন জায়গা জমি না থাকায় দৌলতদিয়া ২নং ও ৩নং ফেরিঘাটের মাঝামাঝি ছিদ্দিক কাজীর পাড়া এলাকায় অন্যের জমিতে ভাঙা চোরা একটি ঝুঁপড়ি ঘর করে সবাইকে নিয়ে বসবাস করেন। অভাবের তাড়নায় প্রতিদিন কাজ করতে হয় তার। কাজ না করলে খাবার জোটে না। আর তাইতো ঘাটে সিমেন্ট বোঝাই কার্গো জাহাজে কুলির কাজ করে পরিবারের সদস্যদের আহারের ব্যবস্থা করতো। সেই কাজ করে ভালই চলছিল তাদের জীবন কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেই সুখ ও তার কপালে সইলো না।

নিত্য দিনের মত ১৮আগস্ট সন্ধ্যার একটু আগে কাজ শেষ করে ২নং ফেরিঘাটের মাথায় নদী পারে লুঙ্গি, মোবাইল ও টাকা রেখে গোসল করতে নামেন প্রবাহমান পদ্মায়। কিন্তু সেই যে পদ্মায় নেমেছেন আজ ৬দিন হয়ে গেলেও উদ্ধার করা যায়নি তাকে, মাইকিং করেও খোঁজ মেলেনি পদ্মা নদীর কোথাও। এক দিকে তাকে খুঁজে না পাওয়ার কষ্ট অন্যদিকে একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে পরিবারটি।

এদিকে নিখোঁজের ৬দিন পার হয়ে গেলেও এ পর্যন্ত সুলতানের অসহায় পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ বিত্তবানদের কেউ।
মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সামনের দিনগুলোর কথা ভেবে নিখোঁজ স্বামীর জন্য কাঁদতেও পাড়ছেন না সুলতান শিকদারের স্ত্রী অসহায় সেলিনা আক্তার (২৭)। একই অবস্থা বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগমেরও (৫৪) ছেলের শোকে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন তিনি। অবুজ শিশু শান্তি (১১) ও রাবেয়া (৫) ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে নদীর পানে কখন তাদের বাবা ঘরে ফিরে আসে সেই আসায়।

নিহত সুলতানের স্ত্রী সেলিনা আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, উনিই ছিল আমাদের সব। তার আয়েই চলত আমাদের সংসার। কিন্তু আজ ৬দিন হয়ে গেল আমাদের ছেড়ে চলে গেল সে, এখন আমাদের কি হবে। দুই মেয়ে ও শাশুড়ীকে নিয়ে আমি কোথায় যাব, কিভাবে চলবো, কি খাওয়াবো তাদের, আমাদের তো বাঁচার মত কোন অবলম্বনই রইলো না।

ছেলে হারানোর শোকে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম, কথা বলার শক্তিও হাড়িয়ে ফেলেছেন তিনি, এ অবস্থায় তিনি বলেন, আমাদের কেউ নেই বাবা , আমাদের এখন কি হবে, আমরা কিভাবে বাঁচবো। আমার ছেলেরে তোরা আইনা দে এই কথা বলতে বলতে তিনি কাঁদতে থাকেন।

স্থানীয়রা জানান, সুলতানের পরিবারটি নিতান্তই গরিব। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতো। বাড়িতে উপার্জনক্ষম কেউ নেই। চারজন নারী এক প্রকার নিঃস্ব হয়ে গেল বলা যায়। এই অবস্থায় সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান তারা।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক খান মামুন বলেন, সুলতান নিখোঁজে দ্বিতীয় দিন আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার পরিবারের খোঁজ খবর নেই। উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ব্যবস্থা করা হবে।

গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. মোস্তফা মুন্সি জানান, তিনি খোঁজ নিয়ে অসহায় পরিবারের জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করার চেষ্টা করবেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় গোসল করতে নেমে পদ্মায় নিখোঁজ হন সুলতান শিকদার। নিখোঁজের ৬দিন (মঙ্গলবার, ২৪আগস্ট) পার হলেও আজও সুলতানকে খুঁজে পাওয়া জায়নি।