রাজবাড়ী, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

রাজবাড়ী হেল্পলাইনের উদ্যোগে

ফোন করলেই ঘরে ঘরে পৌছে যাচ্ছে অক্সিজেন

প্রকাশ: ১৩ জুলাই, ২০২১ ৬:৩৫ : অপরাহ্ণ

॥মোখলেছুর রহমান॥ রাজকন্ঠ ডট কম

চলো রাজবাড়ী এক সাথে,দাড়াও তোমার রাজবাড়ীর পাশে এই স্লোগানকে সামনে রেখে একটি সেবামূল্যক সংগঠন রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশন নামক সংগঠটি এই মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলো চিকিৎসাসেবা দিতে হিমমিম খেতে হচ্ছে।এমন সময় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীর সেবায় এগিয়ে এসেছে রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশন।

মোবাইল ফোনে কল করলেই রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা স্বল্প সময়ের মধ্যে বাড়িতে পৌছে দিচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার।

বিনা মূল্যে অক্সিজেন সেবার উদ্দোগটিতে সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন রাজবাড়ীর হেল্পলাইন ফাউন্ডেশনের আহবায়ক ও কালুখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়ন্ত কুমার দাস।তিনি বলেন বর্তমানে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হাড়ে বেড়ে যাচ্ছে।সেই সাথে রাজবাড়ীতে করোনার ভয়াভয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।এমন অবস্থায় হাসপাতাল বা অনেক ব্যক্তির পক্ষে তাৎক্ষনিকভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় না।সে সকল অসহায় ও জরুরি রোগীদের বিনা মূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার আমরা সরবারহ করছি এবং আগামীতে করে যাবো।আমরা করোনার শুরুতেই রাজবাড়ী জেলার ৫টি উপজেলাতেই এই সেবা দিয়ে চাচ্ছি।জেলায় ২০ জন স্বেচ্ছাসেবী ১৫টি অক্সিজেন দিয়ে প্রথম কার্যক্রম শুরু করি,বর্তমানে ৩০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে পুরা জেলার ৫টি উপজেলাতে সেবা প্রদান করে যাচ্ছি।সংগঠনটি থেকে জরুরি অক্সিজেন সেবা নেওয়ার জন্য হটলাইন ০১৮৭৪ -৬৯৬৯৫৯,০১৬১৯-৬৩৩০৭৩ ও ০১৭১১-৪৫৫১৬৮ নম্বরে ফোন করতে হবে।

এদিকে তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমাজের সর্বস্তরের গনগণ।জয়ন্ত কুমার দাস বলেন,জেলা মানুষের সহযোগিতা পেলে  আমরা আরো ব্যাপক মানুষের সেবা দিতে পারবো।তাই আপনাদেও সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারেন বিকাম নম্বর-০১৭১৭-৭৫৩৬৩২,০১৭১২-৯০৯৭১৫ ও নগদ নম্বর ০১৭২৭-০৫৩৭৮৭।

এ ব্যপারে রাজবাড়ী হেল্পলাইনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. সুমন হুসাইন বলেন ঠিক এক বছর আগে ২০২০ সালের ১লা মে পথচলা শুরু আমাদের। করোনা মহামারীতে তখনও প্রিয় জন্মভূমি ধুঁকছে। শুরু থেকেই আমাদের পথচলাটা অনেক কঠিন ছিল। তবে সত্যি বলতে এই পথ চলাটা আমাদের কখনো নিঃসঙ্গ ছিলনা। আমরা সব সময় পাশে পেয়েছি একঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীকে। যারা হার মানতে খুব কম জানে, যারা পাগলের মতো ভালোবাসতে জানে ।

আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো রাজবাড়ীর মানুষ বুঝতে শিখুক, কোন বিপদে তারা একা নয়। উদ্দেশ্য ছিলো রাজবাড়ীর মানুষ অন্য কারো বিপদে এগিয়ে আসতে শিখুক। বিশ্বাস করতে ভালো লাগবে যে, আমাদের এই উদ্দেশ্যে আমরা অনেকাংশেই সফল । আর এসব সফলতার কৃতিত্ব এই গ্রুপের প্রতিটা মানুষের। ব্যর্থতার দায়ভারগুলো আমরা মাথা পেতে নিলাম ।

গ্রুপটা শুরু হয়েছিলো কয়েকজন ডাক্তার আর মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে। একে একে আমরা পাশে পেয়েছি সকল পেশার মানুষকে। সবাই সবার জায়গা থেকে তাদের সর্বোচ্চ করেছেন, করে যাচ্ছেন। সবার প্রতি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা।

বর্তমান এডমিন, মডারেটর প্যানেলের বাইরেও আরো অনেক অনেক মানুষের অনেক রাত জাগা শ্রম আছে এই প্ল্যাটফর্মের জন্য। রাজবাড়ী হেল্পলাইনের জন্য যারা কয়েক মিনিট শ্রম দিয়েছেন, তারাই রাজবাড়ী হেল্পলাইন এর গর্বিত পথচলায় অংশীদার ।

রাজবাড়ীর করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এবং প্রশাসনের পাশাপাশি রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশন নিম্নরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, চেষ্টা করছে মানুষগুলোর পাশে থাকার ।

রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফ্রি অক্সিজেন সার্ভিস মোট ৩১ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলায় অক্সিজেন সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি আমরা । চালু আছে তিনটা হটলাইন নাম্বার। করোনায় টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান, গ্রুপে নিয়মিত লাইভ প্রোগ্রাম,বন্যায় ত্রাণ ও মেডিক্যাল ক্যাম্পিং, শীতবস্ত্র বিতরণ ,স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পিং,বই বিনিময় প্রোগ্রাম,অসহায় রোগীদের পাশেদাঁড়ানো,ফ্রি  ইফতার বিতরণ কর্মসূচি ,রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে অসহায় এক বুড়িমাকে এডমিন প্যানেলের পক্ষ থেকে নতুন দোচালা টিনের ঘর তুলে দিয়েছি। রাজবাড়ী হারানো গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা  এবং সবপরি তথ্য সেবা প্রদান করা হয়।

রাজবাড়ী হেল্পলাইনের কার্যক্রম বিষয়ে জেলা প্রশাসক দিলশাদ বেগম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান,এটা অত্যন্ত মহৎ উদ্যোগ সাধুবাদ জানাই রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডশেনকে,রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডশেন এর কার্যক্রম আরো গতিশীল হোক এই কামনা করি।তিনি উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে কার্যক্রম পরিচালনার আহবান রাখেন।