রাজবাড়ী, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশন: আমাদের দায়বদ্ধতা! কতটুকু করতে পারছি আমরা?

প্রকাশ: ১০ জুলাই, ২০২১ ৯:২৪ : অপরাহ্ণ

আমরা সবাই চরম একটা সংকটকাল পার করছি। অক্সিজেন সংকট, নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সংকট, করোনায় ঊর্ধ্বমুখী মৃত্যু হার, লকডাউনে নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস। রাজবাড়ীও ধুঁকছে করোনায়, আমাদের স্বজনদের মৃত্যু ব্যথিত করছে আমাদের।

রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশন করোনায় মৃত রোগীর স্বজনদের সাথে সমব্যথী এবং গভীর শোক প্রকাশ করছে। এসব মৃত্যুতে আমাদেরও দায় আছে- আমাদের অপারগতায় আমরা লজ্জ্বিত, আরো অনেক কিছু করার ছিলো আমাদের, করতে পারিনি ।

রাজবাড়ীর করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের পাশাপাশি রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশন নিম্নরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, চেষ্টা করছে মানুষগুলোর পাশে থাকার ।

১। রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফ্রি অক্সিজেন সার্ভিস॥ এপ্রিল মাসে করোনায় আক্রান্ত রোগীর জন্য ফ্রি অক্সিজেন সার্ভিস চালু করি আমরা ১৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে। প্রায় ৫০ জন রোগীর খুবই সংকটসময়ে আমরা এই অক্সিজেন সরবরাহ করতে পেরেছি ।

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি সংকট মোকাবিলায় আরো ১৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার যুক্ত করা হয়েছে ৯ই জুলাই থেকে। মোট ৩১টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে রাজবাড়ী জেলার ৫টি উপজেলায় অক্সিজেন সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি আমরা। চালু আছে তিনটা হটলাইন নাম্বার ।

“রাজবাড়ী হেল্পলাইনের অক্সিজেন পেয়েছিলাম বলেই বেঁচে আছি”-গতকাল বলছিলেন একজন বৃদ্ধ মা। আমাদের চাওয়া নেই, এই প্রাপ্তিটুকু আমাদের শত রাত জাগা শ্রমের প্রাপ্তি ।

২। রাজবাড়ী হেল্পলাইনের “ডক্টরস হেল্পলাইন” টেলিমেডিসিন সেবা ॥করোনা মহামারীর শুরু থেকেই রাজবাড়ীর সন্তান, বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার রা টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন অন্তত ৫০ জন রোগীকে করোনা এবং বিভিন্ন  রোগের চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

৩। করোনায় মৃত রোগীর দাফন এবং সৎকারের জন্য টিম ॥মাওলানা মোঃ সিদ্দিক উল্লাহ রুম্মানকে টিম প্রধান করে রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশন ১৩ জনের একটা টিম গঠন করেছে। চালু আছে হটলাইন নাম্বার। কোনো ব্যক্তির দাফন-কাফনের জন্য কোনো লোক পাওনা না গেলে হটলাইন নাম্বারে ফোন দিলেই তারা গিয়ে দাফন কাফনের ব্যবস্থা করছেন । সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটা সৎকার টিম প্রস্ততকরণের কাজ চলছে ।

৪। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা সেল ॥মহামারী সময়ে আমরা আমাদের শিকড়ের মানুষগুলো না খেয়ে থাকবে, সেটা জেনেও তাদের পাশে দাঁড়াবো না আমরা -এতটা অমানবিক আমরা হতে পারি না। ওই মানুষগুলোর জন্যই জরুরী খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশন। হটলাইন নাম্বারে ফোন করে কিংবা আমাদের ফেসবুক পেজ অথবা গ্রুপে জানালেই খাবারের ব্যবস্থা করছি

আমরা ।

আমরা চেষ্টা করছি, কতটুকু পারছি বা পারবো- সেটা হয়তো সময়ই বলবে। রাজবাড়ী অনেক কৃতি সন্তানের জন্ম দিয়েছে, স্ব স্ব জায়গায় তারা নিজ কর্মগুণে ভাস্বর। আমরা তাদেরকে নিয়ে গর্ব করি। যে মাটি তাদেরকে লালন-পালন করেছে, পরিস্থিতির কারণে সেই মাটির অসহায় মানুষের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা আছে, তাদের সেই দায়বদ্ধতার জায়গাটা আমরা খুব করে আশা করি ।

আমরা আমাদের জনপ্রতিনিধিদেরকে এই দুঃসময়ে জনগণের পাশে দেখতে চাই, যে জনগণের জন্য আজ আপনারা নেতৃত্বে তাদের দুঃসময়ে পাশে থাকা আপনাদের উচিত বলে আমরা মনে করি। আমরা আমাদের জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে গর্ব করতে চাই, বুক ফুলিয়ে বলতে চাই তারা মানুষের পাশে থাকেন ।

আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, যেই মহান মানুষগুলোর প্রতি, শুধুমাত্র নৈতিক দায়বদ্ধতার কারণে রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে রাজবাড়ীর মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন । এই সংকটে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ আমাদের কর্মসূচি গুলোতে আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আশা আশা করছি ।

ধন্যবাদ জানাতে চাই, রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশনের শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ, সকল স্বেচ্ছাসেবীবৃন্দ, ফাউন্ডেশনের  আহবায়ক কমিটির সকল সদস্য এবং রাজবাড়ীর সকল মানুষকে যারা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগতভাবে  প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে রাজবাড়ীর মানুষের জন্য করে যাচ্ছেন এই দুঃসময়ে। স্যালুট জানাই সকল করোনাযোদ্ধা- ডাক্তার, নার্সসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবাইকে।

আমাদের দেখা হোক মৃত্যু হেরে গেলে

আমাদের দেখা হোক আগের মতো করে

আমাদের দেখা হোক সুস্থ শহরে…

আমাদের এ করুণ, অসহনীয় দুঃসময় কেটে যাক দ্রুত। দারুণ আলোর এক সকাল আসুক। এই কামনায়- ডাঃ সুমন হুসাইন, প্রতিষ্ঠাতা, রাজবাড়ী হেল্পলাইন ফাউন্ডেশন।