রাজবাড়ী, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা

গোয়ালন্দে চরম ভোগান্তিতে তিনটি গ্রামের পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ

প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২১ ৯:৫০ : অপরাহ্ণ

॥ জহুরুল ইসলাম হালিম॥রাজকন্ঠ ডট কম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি দেখলে মনে হয় এযেন ধান চাষের জমি কিন্ত না, এটা চর-মজলিশপুর, চর-মহিদাপুর ও চরের নতুন পাড়ার তিন গ্রামের যাতায়াতের জন্য এটাই তাদের প্রধান সড়ক। দীর্ঘ দিনেও এ রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছেনা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁদা মাটিতে একাকার হয়ে যায় কাঁচা এই রাস্তাটি। এতে ভোগান্তিতে রয়েছে এলাকার পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ বলে জানান, স্থানীয় সোহাগ গাজী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাম্প্রতি বর্ষায় খানাখন্দে পানি জমে প্রায় ডোবায় পরিণত হয়েছে যা প্রতিনিয়ত জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে।

৩ থেকে ৪ কিলোমিটারের এই কাঁচা রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে পুরো অংশজুড়ে কাঁদায় পরিপূর্ণ থাকে। ফলে এই পথে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়ে চর বাসীর। রাস্তাটিতে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের হামেদ মৃধার হাট হয়ে ঐ চর এলাকায় যেতে হয়। ঐ এলাকায় চলাচলের জন্য একমাত্র যানবাহন ঘোড়ার গাড়ি। পুরো রাস্তায় কাঁদা থাকলেও রাস্তার মাঝখানে মরা পদ্মার খালে একটি ব্রিজ না থাকার বর্ষা এলেই পানির মধ্যে দিয়ে খাল পাড়ি দিতে হয় এলাকাবাসির।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে কাঁদামাখা রাস্তাটি দিয়ে এলাকাবাসীকে চলাচল করতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় নৃত্যদিনই। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধা, প্রসূতি নারী, অসুস্থ রোগী, ছাত্র-ছাত্রীর স্কুলে যাতায়াত ও মসজিদের মুসল্লিদের দূর্ভোগের যেন শেষ নেই। এছাড়াও জয়নাল মৃধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৫০ জন শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ঐ রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করতে পোহাতে হয় চরম দূর্ভোগ। করোনা ভাইরাসের পাদুর্ভাবের কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নাই। প্রাইভেট পড়তে যাওয়াসহ এলাকায় চলাফেরা করতে একমাত্র এই রাস্তাটিই তাদের ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া ওই রাস্তা দিয়ে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে যাতায়াত সহ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্য সামগ্রী কেনাকাটা করতে যেতে হয় এলাকাবাসীকে।

স্থানীয় চর মজলিসপুর, চরমহিদাপুর, নতুন পাড়া গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন, মো.জলিল পাল, ফরিদ শেখ, মো. আজিজুল হক, শিক্ষার্থী বিজলী খাতুন, আব্দুল আলিম ও জেরিন সহ বেশ কিছু ভুক্তভোগী জানান, শুকনো মৌসুমে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হয় এ সড়কে। অনেক কষ্টে এ রাস্তায় বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করে এলাকার মানুষ। বর্ষা শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় এ সব বাহন। মানুষকে চলাচল করতে হয় পায়ে হেঁটে। সামান্য বৃষ্টি হলে কাঁদা মাটিতে একাকার হয়ে যাতায়াত অযোগ্য হয়ে পরে রাস্তাটি। গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণের কারণে পুরো সড়কটি কাঁদামাখা ও পিচ্ছিল এবং কিছু জায়গায় বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। প্রচণ্ড কাঁদায় চলতে গিয়ে অনেকেই পা পিছলে পড়ে গিয়ে গন্তব্যে যাবার আগেই বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হন। ফলে মানুষকে জুতা খুলে পথ চলতে হয়। সড়কে কাঁদা থাকায় একমাত্র যানবাহন ঘোড়ার গাড়ি সেটিও চলতে পারে না। যদিও ঝুকি নিয়ে ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে সময় মতো নিতে না পারায় বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এই কাঁচা সড়কটি উপজেলা উজানচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শেষের দিকে চর এলাকায় অবস্থিত।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক জানান, রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে ২৫০ জন স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী, রোগী এবং জরুরি যাতায়াতে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তিনি আরো বলেন , কয়েকবার লোকজন এসে রাস্তাটি মেপে গেছে, কিন্তু রাস্তাটি সংস্কার বা পাঁকা করণের কোন কাজ এ যাবত হতে দেখলাম না। একটি ব্রিজ ও কাঁচা রাস্তাটি উন্নয়ন বা সংস্কার হলে শিক্ষার্থী সহ সর্বস্তরের মানুষ চলাচলের পথ সুগম হবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন ফকির এর মুঠোফোনে দুই দিন ধরে ফোন করে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি (তার ফোনটি বন্ধ দেখায়)।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কাদের শেখ এলাকাবাসীর দূর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, এই এলাকার লোকজনের চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়। সরকার বাজেট দিলে আমরা উন্নয়ন করবো।