রাজবাড়ী, ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা

গোয়ালন্দে নদী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের আলটিমেটাম

প্রকাশ: ২৩ জুন, ২০২১ ৯:২৮ : অপরাহ্ণ

॥ গোয়ালন্দ প্রতিনিধি ॥রাজকন্ঠ ডট কম


রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নদী ভাঙন প্রতিরোধে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মুন্সী।

বুধবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলার দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে তিনি সাংবাদিক ও উপস্হিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্যকালে এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে নদী ভাঙন অব্যহত রয়েছে। ভাঙনে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ী বিলীন হচ্ছে।অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের অবশিষ্ট কয়েকটি গ্রাম,দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট,দৌলতদিয়া টার্মিনাল, বাজার ও অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান । কিন্তু এতদিনেও ভাঙন প্রতিরোধে কোন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

প্রতিদিন শত শত মানুষ নদী ভাঙনের অভিযোগ নিয়ে আমার বাড়ীতে এবং অফিসে আসেন। আমি তাদের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ভাঙন রোধে আমি তাদের জন্য কিছুই করতে পারছি না। তাই সরকারী দলের একজন নেতা হয়েও আজকে বাধ্য হয়ে আমাকে আলটিমেটামের কথা বলতে হচ্ছে।

তিনি বলেন,গত কয়েক মাসে আমি পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে বারবার কথা বলেছি।

কিন্তু এখনো পর্যন্ত দৃশ্যত উল্লেখযোগ্য কোন কিছুই হলো না।তিনি বলেন,যখন ভাঙন তীব্র হবে,তখন জরুরি ভিত্তিতে হয়তো কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হবে।কিন্ত তাতে কোনই কাজ হয় না।তখন জিও ব্যাগ ফেলা আর টাকা জলে ফেলা একই কথা।

উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন,আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সাত দিন সময় বেঁধে দিলাম।এই ৭ দিনে কতৃপক্ষ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে আগামী ২ জুলাই (শুক্রবার) নদীভাঙন কবলিত হাজার হাজার মানুষ নিয়ে ঢাকা- খুলনা মহাসড়কে অবস্থান করে সড়ক অবরোধ করবো।

তিনি যোগ করেন , মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে,হচ্ছে।আমার বিশ্বাস তার কাছে নদীভাঙন কবলিত মানুষের অর্তনাদ পৌছালে তিনি অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গেলে নদী পারের শত শত মানুষ তাদের অসহায়ত্ত্ব প্রকাশ করেন।এ সময় তারা স্হানীয় এমপি,মন্ত্রী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকার বাইরে তাদের আপাতত নদী ভাঙন প্রতিরোধে তাদের কোন কাজ করার সম্ভাবনা নেই।তবে ভাঙ্গন পরিস্হিতি তীব্র হলে উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশক্রমে জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে।

নদী ভাঙন পরিদর্শন কালে উপস্হিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ আলী মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন রনি, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম সালু, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন, সাধারন সম্পাদক শফিকুর রশিদ টিটু, গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তর প্রতিনিধি শামীম শেখ প্রমুখ।