রাজবাড়ী, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

স্বপ্নের ঘরে ভিটা হারা মানুষ

এবার রাজবাড়ীতে ঘর পেলেন গৃহহীন ৪৩০পরবিার

প্রকাশ: ২০ জুন, ২০২১ ৬:৫৬ : অপরাহ্ণ

॥নিজস্ব প্রতিবেদক ॥রাজকন্ঠ ডট কম


স্বপ্নের ঘরে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন রাজবাড়ীর ৪৩০টি গৃহহীন হতদরিদ্র পরিবার।সেটা পুরণ হলো ২০ জুন রোববার। সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় ‘মুজিব শর্তবষে থাকবে না কোন গৃহহীন’ কর্মসূচীতে দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব ঘর প্রদান করা হলো। ২০ জুন সারা দেশে একযোগে ঘরগুলো হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর পর স্বপ্নের ঘরে উঠলেন জেলার ৪৩০টি গৃহহীন হতদরিদ্র পরিবার গুলো।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন সুত্রে জানাগেছে, আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজবাড়ীতে ৪৩০ টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে।। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৩০০টি, পাংশা উপজেলায় ৩০টি, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৭০টি এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় ৩০টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হলো। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিটি ঘরে নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা। মোট ব্যয় হচ্ছে ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা।তাতে ৪৩০টি ঘরের জন্য মোট ব্যয় হলো কোটি ১৭ লাখ টাকা।দুশতক জমিসহ সেমিপাকা ঘরে আছে দুইটি কক্ষ একটি টয়লেট,রান্না ঘর ,কমনস্পেস ও একটি বারান্দা। তবে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ২৫০টি ঘর হস্তান্তর করা হলো। অবশিষ্ট ৫০টি ঘরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। ২০১৯ সালে রাজবাড়ীতে ক শ্রেণির ১ হাজার ২০০ জন ভূমিহীনদের তালিকা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ঘর দেওয়া হবে।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ আলী জানান,সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে সারা দেশে একযোগে ঘরগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের মাধ্যমে হস্তান্তর করার পর আমরা স্থানীয় প্রশাসন পাংশা উপজেলায় গৃহহীনদের জন্য ৩০ টি ঘর রোববার স্ব-স্ব গৃহহীন হতদরিদ্র পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হলো। ভূমি ও গৃহহীন প্রতিটি পরিবার ২শতাংশ জমিসহ ২কক্ষ বিশিষ্ট একটি আধাপাকা ঘর পেলেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিস কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে বালিয়াকান্দি উপজেলায় গৃহহীনদের জন্য ৭০ টি ঘর দেওয়া হলো। ভূমি ও গৃহহীন প্রতিটি পরিবার ২শতাংশ জমিসহ ২কক্ষ বিশিষ্ট একটি আধাপাকা ঘর পেলেন। ঘরটিতে একটি রান্নাঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা থাকবে। এছাড়াও বিশুদ্ধ খাবার পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। ঘরের পাশে সবজি চাষসহ আয়বর্ধক নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘরগুলোর তদারকি করেছেন।

একাধিক গৃহহীন ঘর পাওয়া ব্যক্তিরা জানান, উপজেলা থেকে জানতে পেরেছিলাম ২০ জুন রোববার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হন্তান্তরের পর উপজেলা থেকে আমাদের কাছে ঘরের চাবি দিবেন। সেই ঘরের চাবিটি আজ আমরা পেলাম,ঘর পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি কোনদিন এরকম ঘরে বাস করতে পারবো। এসময় তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঘর পাওয়া হাবাসপুর ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকার এক বাসিন্দা আনন্দে অশ্রুশিক্ত হয়ে বলেন টিনের চালা পাট কাঠির বেড়া দেয়া ছাপড়ায় বাস করতাম। নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে ইটের ঘর করবো কিভাবে! কখনো কল্পনাও করিনি নিজেদের ঘর হবে, তাও আবার ইটের ঘর। সরকার প্রধানকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখুক। শেখের বেটি আমাদের নিজের ঘর ও জমি দিয়েছে। আমরা এখন অনেক খুশি। এর চেয়ে খুশি আর কি হতে পারে বলেন! তিনি আরো বলেন, শেখের বেটির (বঙ্গবন্ধু কন্যা) দেয়া উপহার আমার বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছে, শেখের বেটির জন্য আমি আজীবন দোয়া করবো। আল্লাহ যেন ওনাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখেন।

উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলায় ৭৬০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। এরমধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ১২০টি, পাংশা উপজেলায় ১০০টি, কালুখালী উপজেলায় ৪০টি,বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৭০টি এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় ৪৩০টি। নির্মাণ ব্যয় হয় ১২ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।