রাজবাড়ী, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল

আড়াই বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় এক্স-রে মেশিন! মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়রের অভাবকে দায়ি করছে কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ: ২০ জুন, ২০২১ ৬:২৯ : অপরাহ্ণ

॥জহুরুল ইসলাম হালিম॥রাজকন্ঠ ডট কম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ আড়াই বছর যাবত বিকল হয়ে পড়ে আছে। যান্ত্রিক ত্রুটির

কারণে বিকল হওয়া ওই মেশিনটি মেরামত করা হয়নি এখন পর্যন্ত। পাশাপাশি সেখানে অপর একটি নতুন এক্স-রে মেশিন আনা হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরে। তখন থেকে নতুন ওই মেশিনটিও এক্স-রে কক্ষের ভিতরে তালাবদ্ধ হয়ে আছে। এতে সরকারি ওই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অনেক রোগী বিপাকে পড়ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এক্স-রে পরীক্ষা করাতে না পেরে তারা বাইরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
জানা যায়, পঞ্চাশ শয্যাবিশিষ্ট গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটি ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। স্বাস্থ্য সেবা পেতে উপজেলা এলাকার দেড় লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। সেখানে প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক বিভিন্ন রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিন অকার্যকর থাকায় সরকারি ওই হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান (রেডিওলজী) মো. কামরুল হাসান জানান, জাপানের তৈরী ‘একোমা-১০০’ মডেলের এনালগ এই এক্স-রে মেশিনটি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম স্থাপন করা হয় ১৯৮৫ সালে। তখন থেকে এই
হাসপাতালে আসা বিভিন্ন রোগী প্রয়োজনীয় এক্স-রে পরীক্ষা সেবা পেয়ে আসছিল। কিন্তু বৈদ্যুতিক কারণে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই এক্স-রে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। অনেক চেষ্টা করেও বিকল মেশিনটি সচল করা সম্ভব হয়নি। পরে গত বছরের ডিসেম্বরে সেখানে নতুন একটি এক্স-রে মেশিন আনা হয়। কিন্তু মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়রের অভাবে নতুন মেশিনটি চালু করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নিতাই কুমার ঘোষ বলেন, এক্স-রে মেশিন বিকল থাকায় হাসপাতালে আসা অনেক রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে পারছি না।
গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মুন্সী জানান, হাসপাতালে আসা অনেক রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এক্স-রে পরীক্ষা করাতে না পেরে তারা বাইরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই নতুন আনা এক্স-রে মেশিনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করা খুব জরুরী। গোয়ালন্দ পৌরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নিজাম উদ্দিন শেখ বলেন, সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে পুরনো এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর যাবত বিকল হয়ে
পড়ে আছে। নতুন আনা মেশিমনটিও এক্স-রে কক্ষের ভিতরে তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়রের অভাবে নতুন এক্স-রে মেশিনটি চালু করা যাচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।