রাজবাড়ী, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

ভূমি ও গৃহহীন

পাংশার ৩০টি সহ জেলার ৪৩০টি পরিবার স্বপ্নের ঘরে উঠবে রোববার

প্রকাশ: ১৯ জুন, ২০২১ ৬:০৯ : অপরাহ্ণ

॥ মাসুদ রেজা শিশির ॥ রাজকন্ঠ ডট কম


স্বপ্নের ঘরে ওঠার অপেক্ষায় রাজবাড়ীর ৪৩০টি গৃহহীন হতদরিদ্র পরিবার। সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় ‘মুজিব শর্তবষে থাকবে না কোন গৃহহীন’ কর্মসূচীতে দ্বিতীয় পর্যায়ে এসব ঘর প্রদান করা হবে। আগামী ২০ জুন সারা দেশে একযোগে ঘরগুলো হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অধিকাংশ ঘরের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় শেষের দিকে। আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর হলেই স্বপ্নের ঘরে উঠবেন গৃহহীন পরিবার গুলো।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন সুত্রে জানাগেছে, আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজবাড়ীতে ৪৩০ টি ঘর হস্তান্তর করা হবে। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৩০০টি, পাংশা উপজেলায় ৩০টি, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৭০টি এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় ৩০টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিটি ঘরে নির্মাণ ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা। মোট ব্যয় হচ্ছে ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা। তবে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ২৫০টি ঘর হস্তান্তর করা হবে। অবশিষ্ট ৫০টি ঘরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। ২০১৯ সালে রাজবাড়ীতে ক শ্রেণির ১ হাজার ২০০ জন ভূমিহীনদের তালিকা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ঘর দেওয়া হবে।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ আলী জানান,সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে পাংশা উপজেলায় গৃহহীনদের জন্য ৩০ টি ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে আগামী কাল রোববার এ ঘরের উদ্বোধন করা হবে। ভূমি ও গৃহহীন প্রতিটি পরিবার ২শতাংশ জমিসহ ২কক্ষ বিশিষ্ট একটি আধাপাকা ঘর পাবেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিস কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে বালিয়াকান্দি উপজেলায় গৃহহীনদের জন্য ৭০ টি ঘর প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভূমি ও গৃহহীন প্রতিটি পরিবার ২শতাংশ জমিসহ ২কক্ষ বিশিষ্ট একটি আধাপাকা ঘর পাবেন। ঘরটিতে একটি রান্নাঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা থাকবে। এছাড়াও বিশুদ্ধ খাবার পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকবে। ঘরের পাশে সবজি চাষসহ আয়বর্ধক নানা সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘরগুলোর তদারকি করছেন।

একাধিক গৃহহীন ঘর পাওয়া ব্যক্তিরা জানান, উপজেলা থেকে জানতে পেরেছি আগামী ২০ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হন্তান্তরের পর উপজেলা থেকে আমাদের কাছে ঘরের চাবি দেয়া হবে। ঘর পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি কোনদিন এরকম ঘরে বাস করতে পারবো। এসময় তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঘর পাওয়া হাবাসপুর ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকার এক বাসিন্দা আনন্দে অশ্রুশিক্ত হয়ে বলেন টিনের চালা পাট কাঠির বেড়া দেয়া ছাপড়ায় বাস করতাম। নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে ইটের ঘর করবো কিভাবে! কখনো কল্পনাও করিনি নিজেদের ঘর হবে, তাও আবার ইটের ঘর। সরকার প্রধানকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখুক। শেখের বেটি আমাদের নিজের ঘর ও জমি দিয়েছে। আমরা এখন অনেক খুশি। এর চেয়ে খুশি আর কি হতে পারে বলেন! তিনি আরো বলেন, শেখের বেটির (বঙ্গবন্ধু কন্যা) দেয়া উপহার আমার বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছে, শেখের বেটির জন্য আমি আজীবন দোয়া করবো। আল্লাহ যেন ওনাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আম্বিয়া সুলতানা বলেন, মুজিব শতবর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহহীনদের জন্য উপহার স্বরুপ আশ্রয়স্থল করে দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পেরে বালিয়াকান্দি প্রশাসন গর্বিত। ইতোমধ্যে ঘরের কাজ শেষ, বৃষ্টির কারণে রঙের কাজ শেষ হতে সামান্য সময় লাগছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা অধিকতর গুরুত্বের সাথে কাজের মানগুলো তদারকি করেছি। জানাগেছে ঘরের কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এমপি,স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, সহকারী কমিশনার ভূমি, উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর, পিআইও, আশ্রয়ন বিষয়ক উপজেলার টাস্কফোর্স, ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়োজিত কর্মকর্তা,ইউনিয়ন ভূমি অফিস সমাপ্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আগামী রোববার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের পর প্রশাসন হতদরিদ্র পরিবারকে তাদের ঘর বুঝে দিতে পারবে যা আমাদের জন্য খুবই আনন্দের।

স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতারা বলেন আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে হতদরিদ্র গৃহহীনদের জন্য যা করেছে সেটি সারা বিশ্বের মধ্যে মডেল। বঙ্গবন্ধু যেভাবে দেশের মানুষের কল্যানে কাজ করেছেন, তার কন্যা আজ সে ভাবেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় বারের মতো আগামী ২০ তারিখে অত্র উপজেলার ৭০টি গৃহহীন পরিবারের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তর করতে পারা এটিও আমাদের জন্য গর্ব করার মতো’ ।

উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলায় ৭৬০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। এরমধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ১২০টি, পাংশা উপজেলায় ১০০টি, কালুখালী উপজেলায় ৪০টি, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৭০টি এবং গোয়ালন্দ উপজেলায় ৪৩০টি। নির্মাণ ব্যয় হয় ১২ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।