রাজবাড়ী, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

গোয়ালন্দে কথিত স্বামীর হাতে বিষাক্ত ইনজেকশনে প্রাণ গেল যৌনকর্মীর

প্রকাশ: ১৪ জুন, ২০২১ ৯:৫৯ : অপরাহ্ণ

॥জহুরুল ইসলাম হালিম ॥

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় দেশের সর্ববৃহত্তম যৌনপল্লী দৌলতদিয়ায় শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করিয়ে ফারজানা আক্তার মুন্নি (২৬) নামের এক যৌনকর্মীকে হত্যা করেছে তার কথিত স্বামী। সে ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের আবু তাহেরের মেয়ে।

রোববার (১৩ মে) বেলা ২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুন্নির মৃত্যু হয়। এ ঘটনা ঘটিয়ে ঘাতক কথিত স্বামী রাশেদ খান মুন্নির ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিস পত্র নিয়ে পালিয়েছে। সে পাবনা সদর থানার শনিরদিয়া ভবানীপুর গ্রামের ছলিম খানের ছেলে।

যৌনপল্লীর একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়, ফারজানা আক্তার মুন্নি দীর্ঘদিন ধরে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাস করে। তার কাছে আসা-যাওয়া করত রাশেদ খান। এক পর্যায়ে রাশেদ খান মুন্নির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় রাশেদ খান মুন্নির উপার্জিত টাকা হাতিয়ে নেয়। যৌনকর্মী মুন্নিও তার সর্বস্ব দিয়ে রাশেদ খানকে বিয়ে করে অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি নিতে চায়। কিছুদিন আগে মুন্নি রাশেদ খানকে নগদ ৩ লাখ টাকা দেয়। এরপর রাশেদ খান তাকে কাবিন রেজিস্ট্রি করে বিয়েও করে। কিন্তু রাশেদ খান চায় মুন্নি যৌনপেশা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করুক। মুন্নি রাশেদ খানের কাছে স্বাভাবিক জীবন চায় আর রাশেদ চায় মুন্নি ওই পেশা চালিয়ে টাকা আয় করে তার হাতে তুলে দিক। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়।

মুন্নিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া একাধিক ব্যক্তি অসুস্থ্য মুন্নির বরাত দিয়ে জানায়, রোববার (১৩ জুন) ভোরে রাশেদ খান তাকে বলে তোমার শরীর দুর্বল একটি ভিটামিন স্যালাইন দিলে ঠিক হয়ে যাবে। তার কথা বিশ্বাস করে মুন্নি রাজি হয়। এরপর রাশেদ খান নিজেই মুন্নির গায়ে স্যালাইন পুশ করে। কিছুক্ষণের মধ্যে মুন্নির শরীরে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। এসময় কথিত স্বামী রাশেদ খান তার ব্যবহার করা মোবাইল ফোনসেটসহ ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা মুন্নিকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐদিন বেলা ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নিতাই চন্দ্র জানান, প্রথমে ওই রোগীকে মারামারি করে আহত হওয়ার রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু সময় বাড়ার সাথে সাথে তার শরীরে বিষক্রিয়ার উপস্বর্গ ধরা পরে। একপর্যায়ে আমরা নিশ্চিত হই তার শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। ক্রমেই তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোজাম্মেল হক জানান, যৌনকর্মী মুন্নির লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ও একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তিনি আরো জানান ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।