রাজবাড়ী, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

গ্রেপ্তারের পর হত্যার দায় শিকার

শিশু মুরসালিনকে হত্যা করেছেন দাদা ও চাচাতো ভাই 

প্রকাশ: ২১ মে, ২০২১ ১০:০৮ : অপরাহ্ণ

॥জহুরুল ইসলাম হালিম॥রাজকন্ঠ ডট কম


রাজবাড়ী পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের সাজুরিয়া গ্রামে শিশু মুরসালিনকে হত্যার ৭২ ঘন্টা পর বস্তাবন্দি লাশ পাট ক্ষেতে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সেই মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পাংশা মডেল থানা পুলিশ। আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের কাছে।

গত বৃহস্পতিবার (২০ মে) রাতে নিহত শিশু মুরসালিনের দাদা মো. হাবিবুর রহমান (৬২) এবং চাচাতো ভাই মো. শাকিল আহমেদ রনি (১৫)কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

পাংশা মডেল থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে সকাল বেলা শিশু মুরসালিন ঘুম থেকে উঠে বাবার সঙ্গে দাদার বাড়িতে বেড়াতে যায়। মুরসালিনের বাবা নবাব মন্ডল পাট ক্ষেত দেখতে মাঠে যায়। এক পর্যায়ে শিশু মুরসালিন তাহার চাচাতো ভাই আরিয়ানের সাথে খেলাধুলা শুরু করে। খেলাধুলার মাঝে মুরসালিন আরিয়ানকে একটি চর মেরে বসে। এসময় সেটা দেখে ফেলেন আরিয়ানের ভাই শাকিল আহমেদ রনি। তখন রনি ক্ষিপ্ত হয়ে মুরসালিনকেও একটি চর মারলে মুরসালিন দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।

মুরসালিনের চাচাতো ভাই রনি তড়িঘড়ি করে পাশে থাকা অর্ধেক পানি ভরা লাল রংয়ের বালতিতে মুরসালিনকে ডুবিয়ে রাখে। কিছুক্ষণ পর মুরসালিনকে পানি থেকে তুলে সাদা একটি বস্তার মধ্যে ভরে। পরে সেই বস্তা আবার বালতির মধ্যে ঢোকায়। তারপরে বস্তাটি রনির দাদার ঘরের পিছনে টয়লেটের হাউজের উপরে রেখে বাঁশের চাটাইয়ের মধ্যে ঢেকে রাখা হয় ছেড়া জাল দিয়ে।

গত ১৯ মে সকাল বেলা হাবিবুর রহমানের স্ত্রী কাঞ্চনমালা বাথরুমের সামনে গেলে কিসের যেন গন্ধ পায় তখন কাঞ্চনমালা বিষয়টি তাহার স্বামী হাবিবুর রহমানের নিকট বলে। রনির দাদা হাবিবুর রহমান বাথরুমের পিছনে গিয়া দেখতে পায় হাউজের উপরে একটি বস্তা। বস্তার মুখ খোলা থাকায় মুরসালিনের লাশ দেখতে পায়। তখন তিনি তার স্ত্রী কাঞ্চনমালার অগোচরে বস্তাভর্তি লাশটি বাড়ির উত্তর পাশে বাছিরের পাট ক্ষেতের মধ্যে ফেলে আসে এবং পরে বালতিটা ভেঙ্গে মো. মাহাতাব খানের পাট ক্ষেতের পূর্ব পাশের ভিতরে ফেলে আসে।

পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০ মে (বৃহস্পতিবার) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামীদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মুরসালিনকে হত্যার কথা স্বীকার করে ২১ মে (শুক্রবার) আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।