• শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

ব্যক্তিগত ঘটনায় হাতাহাতি: মামলা হলো মন্দির ভাংচুরের॥

Reporter Name / ৪৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১

॥ রাজবাড়ী প্রতিনিধি॥


রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত খাগজানা গ্রামে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তাদের হামলায় রাম সাহা, সুদেব কর্মকার ও সেন্টু কর্মকার নামে তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় সুদেব কর্মকার বাদী হয়ে কালুখালী থানায় মামলা করেছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ জিল্লুল ও বারেক নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কর্মকার বাড়ি দুর্গামন্দিরে রাত ১১টার দিকে হইহই রব করে ৫০ থেকে ৬০ জন দুর্বৃত্ত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এলাকাবাসী একজোট হয়ে তাদের বাধা দিতে যায়। ওই সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় সুদেব কর্মকার, রাম সাহা ও সেন্টু কর্মকার আহত হয়। এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বেশ কয়েকটি বাড়ির বেড়া ভাঙচুর করে তারা। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় আমরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি। এর জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। শাল্লায় যাদের অনুসারীরা হামলা করেছে, এখানেও তারাই এ হামলার চেষ্টা করেছে।
সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের সাথে এবং ওই মন্দিরের আশপাশের কয়েকজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাতে বোয়ালিয়া ইউপির খাগজানা মিলন সংঘ ঘর থেকে গ্রাম খেলে কয়েকজন বেড় হয়ে বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। এমন সময় সুদেব কর্মকার এসে ইউপি সদস্য জামির হোসেন জয়কে গালি দিয়ে বলেন শার্টের কলাট চেপে ধরে। সে সময় তাদের দুজনের মধ্যে কথা কাটির এক পর্যায়ে হাতাতাতির ঘটনা ঘটে। এসময় স্থানীয়রা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এখানে কোন মন্দির বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি ভাংচুরের কোন ঘটনা ঘটে নাই।

অপরদিকে রাতে ঘটনাস্থলে থানা প্রত্যক্ষদর্শী হোসেন পাটয়ারীর সাথে কথা হলে তিনি জানান র্দীঘদিনের বন্ধুমত চলাফেরা সুদেব কর্মকার ও জামির হোসেন জয়ের।বর্তমানে জামির হোসেন জয় একজন উদিয়মান সমাজসেবক হিসেবে বোয়ালিয়া ইউপিতে পরিচিত হয়ে উঠেছে এবং সে বর্তমানে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারানা চালানোর কারনে তার উপর কিছু মানুষের শ্রুতা হয়েছে।তারাইধারাবাহিকতায় ঐ দিন রাতে সুদেব কর্মকার বিনা কারনে একটা ছোট্ট বিষয় নিয়ে সামান্য মারামারি পর্যায়ে নিয়ে যায়।কিন্তু সেখানে কোন বাড়ী বা মন্দিরে হামলা বা ভাংচুর হয় নাই।

কালুখালী উপজেলা যুবলীগীগের অন্যতম সদস্য ও বোয়ালিয়া ইউপি সদস্য জামির হোসেন জয় বলেন আমিসহ বেশ কয়েকজন ক্লাব ঘরে ক্রাম খেলে বাড়ি যাচ্ছিলাম এমন সময় সুদেক কর্মকার মাতাল বেশে অতরকিত ভাবে আমাকে প্রশ্ন করে তুই নাকি পুলিশ ভেরিভিকেশনের জন্য ৪ হাজার করে টাকা নিচ্ছিছ এই কথা শোনে আমি তাকে বলি আপনি কার থেকে শোনলেন অমনি আমাকে সে গালিগালাজ শুরু করে এক পর্যায় হাতাহাতি হয় কিন্তু সেখানে কোন প্রকার বাড়ী বা মন্দিরে হামলা বা ভাংচুরের মত কোন ঘঠনা ঘটে নাই।তিনি বলেন কখনো কার কাছ থেকে ইউপি সদস্য হিসেবে মানুষকে সেবা দেওয়ার নামে কোন প্রকার কোনদিন অর্থনৈতিক লেনদেন করিনাই কখনো করি না,আমি একজন সেবক হিসেবে মানুষের কাজ করি।তিনি আরো বলেন আমি যে ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেই ওয়ার্ডে অর্ধেক এর ও বেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক, তাদের ভোটেই আমি নির্বাচিত, সব বিষয় আমি হিন্দু সম্প্রদায়ে সাথে মিলেমিশে কাজ করি কেউ আমাকে আজ পর্যন্ত বলতে পারবে না কোন হিন্দুৃকে সরকারী সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছি।কিন্তু আজ যেটা তারা প্রচারনা করছে সম্পন্ন মিথ্যা সাজানো একটা নাটক এবং এটা আমার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র মাত্র

কালুখালী থানার ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সেখানে মন্দিরও ভাংচুর বা সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের লোকের বাড়ি ভাংচুরের কোন ঘটনা ঘটে নাই।এটা একটা মহল রং লাগানোর চেষ্ঠা চালাচ্ছে।
এঘটনায় রবিবার(২১ মার্চ) উপজেলা পরিষদে অভিযুক্ত সুদেব কর্মকারসহ শতাধীক হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের উপস্থিতে উপজেলা নিবার্হী অফিসার, কালুখালী থানার ওসি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মন্দিও ভাংচুর বা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ভাংচুরের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

বিকেল ৫ টায় খাগজানা মিলন সংঘ মাঠে শতাধীক হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের উপস্থিতে কালুখালী থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের আহবানে থানা পুলিশ আইন শৃখংলা বিষয় মতবিনিময় সভা করেছে।উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান চৌধুরী টিটোর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) শেখ নুরুল আলম।উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য খাইরুল ইসলাম খায়ের সঞ্চলনায় কালুখালী থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, বোয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হালিমা বেগম,রাজবাড়ী জেলা হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক জয়দেব কর্মকার,কালুখালী উপজেলা পূজা উৎযাপন কমিটির সহ-সভাপতি সনৎ কুমার দত্ত,বোয়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ লুৎফর রহমান মোল্লা,কালুখালী সরকারী কলেজের প্রভাষক মোঃ মিজানুর রহমান,বোয়ালিয়া বিট পুলিশ এসআই জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যকালে সেখানে কোন বক্তাই বাড়ী বা মন্দিরে হামলা ভাংচুর এমন ঘটনা হয়েছে বলে কোন বক্তব্য রাখেন নাই।বক্তরা বলেন খাগজানা হলো হিন্দু মুসলিম বসবাস এলাকা,এখানে স্বাধীনতা পরবর্তী কোন দিন হিন্দু মুসলিম কোন প্রকার অশান্তি হয় নাই।সকল বক্তাই বলেন এখানে ছোট্ট একটা বিষয় নিয়ে মারামারি হয়েছে কিন্তু কোন প্রকার বাড়ী বা মন্দির ভাংচুর হয় নাই পরবর্তীতে যে এ ধরনের কোন প্রকার অশান্তিমূলক কার্যক্রম না হয় সেই ব্যাপারে সর্তক থাকার আহবান রাখেন।

Facebook Comments


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Recent Comments