রাজবাড়ী, ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১

কালুখালীতে বাড়ির আঙ্গিনায় হরিণ পালন:শখ থেকে বাণিজ্যি করণের স্বপ্ন

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১০:০১ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজকন্ঠ ডট কম

রাজবাড়ীর কালুখালীর মোহনপুর গ্রামের জনাব আলী মন্ডলের ছেলে মো: রিয়াজ মাহমুদ (৩০)। ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স শেষ করেন। ছাত্র অবস্থায় তার শখ ছিল বাড়ির আঙ্গিনায় হরিণ পালনের। কিন্তু জীবিকার তাগিদে  বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রকল্পে চাকরি নেন তিনি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ফিরি আসেন বাড়ি।

বন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে ২০১৮ সালে শখের বশে দুটি হরিণ পালন শুরু করেন তিনি। সেই দুটি থেকে এখন মোট ৬ টি হরিণ হয়েছে তার খামারে। নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় শখের বশে  হরিণ পালন করে অভাবনীয় সাফল্যে অর্জন করেছেন তিনি। চিড়িয়াখানা বা পার্কে হরিণের দেখা মিললেও বাড়ির আঙ্গিনায় হরিণের পাল দেখা একটি অসাধ্য ব্যাপার। আর এই অসাধ্য কাজটিকেই সাধ্য করেছেন রিয়াজ মাহমুদ।

এখন তিনি স্বপ্ন দেখছেন ভবিষ্যতে এই খামারটি  সম্প্রসারণ করে দুই শতাধিক হরিণ পালনের। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে সেটি সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চিত এই যুবক। আইনি জটিলতা থাকার কারনে তাকে এগোতে হচ্ছে ধীর গতিকে। তবে তিনি হাল ছাড়তে নারাজ।

তরুণ এই উদ্যেক্তা মো: রিয়াজ মাহমুদ  বলেন, হরিণ এখন বিলুপ্তীর পথে। এই প্রাণিকে টিকিয়ে রাখতে হলে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। হরিণ একটি লাভজনক প্রাণিও বটে। এটিকে যদি বাণিজ্যিক ভাবে পালনের জন্য সরকার আইনি প্রক্রিয়া সহজজাত করেন তাহলে এটি দেশের অর্থনৈতিক খাত অনেক ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, হরিণ যাতে সবাই পালন করতে পারে সে জন্য নীতিমালা শিথিলসহ ট্যাক্স কমানো ও লাইসেন্স গণহারে দেওয়া উচিত। হরিণের বিলুপ্তী ঠেকাতে গবাদী পশুর ন্যায় হরিণের খামারের অনুমোদন দেওয়া উচিত।

তরুণ এই উদ্যেক্তা বলেন, বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে ২০১৮ সালে দুটি হরিণ কিনে আনি বরিশালের একটি খামার থেকে। সে দুটি হরিণ থেকে এখন আমার এখানে ছয়টি হরিণ হয়েছে। যার প্রতিটি সরকারি মূল্য ৭০ হাজার টাকা করে। বর্তমান ৪৪ শতাংশ জমির উপর আমার এই খামারটি। এটিকে সম্প্রসারণ করে এক একর জমির উপর করার ইচ্ছা রয়েছে। সরকারি অনুমতি পেল সেটি করার স্বপ্ন দেখছি। যেখানে দুই শতাধিক হরিণ পালন করা যাবে।তিনি আরো জানান প্রতিদিন হরিণ দেখার জন্য এলাকা ও এলাকার বাহির থেকে বিভিন্ন স্কুল পড়ুয়া ও অন্যান্য মানুষ এখানে এসে হরিণ দেখে।

কালুখালী উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা: প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, হরিণ যেহেতু একটি অর্থকারি প্রাণি সেহেতু বাণিজ্যিক ভাবে হরিণের খামার তৈরি করা গেলে দেশের অর্থনৈতিকখাতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। কালুখালীতে যে খামারটি রয়েছে সেটিতে আমরা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সব সময় সহযোগিতা করছি। এ সহযোগিতার ধারা অব্যহত থাকবে।