রাজবাড়ী, ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১

গোপালগঞ্জে ৫৮ ভিক্ষুকের চাকরিজীবী হওয়ার স্বপ্ন

প্রকাশ: ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ৯:০৩ : অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক:রাজকন্ঠ ডট কম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের চৌরখুলী গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের লালমন বিবি (৭০)। বিধবা। এই বয়সে এসেও নিজের পেট নিজেকেই চালাতে হয়। অন‌্য কোনো বিষয়ে দক্ষতা না থাকায় পেশা হিসেবে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। দিনভর কোটালীপাড়া সদরসহ বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা করেন। এতে যে অর্থ আর চাল সংগ্রহ করতে পারেন তাই দিয়ে কোনমতে চালিয়ে নেন।

শুধু লালমন বিবি নয় ওই গ্রামের ৫৮ জন নারী-পুরুষ দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় জড়িত। বিভিন্ন সময়ে এর থেকে উত্তরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কখনই তাদের নিবৃত করা যায়নি।

তবে হাল ছাড়েননি কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহফুজুর রহমান। গতকাল বুধবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ওই গ্রামে আলোচনায় বসেন তিনি।

এতে উপস্থিত ছিলেন কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাদল ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান শুভ। দীর্ঘ আলোচনার পর ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে কাজ করে উপার্জন করবেন এমন আশ্বাস দেন তারা।

জানাগেছে, প্রশাসন-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ-জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গৃহীত বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নকল্পে ভিক্ষুকদের আশ্বস্ত করা হয়। আগামী ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তারা সবাই চাকরিজীবী হিসেবে পরিচিত হবেন। তবে চাকরি পাওয়ার পর থেকে ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়তে হবে তাদের।

এ লক্ষ্যে চৌরখুলী গ্রামে সরকারি অর্থায়নে একটি প্যাকেজিং ফ্যাক্টরি নির্মান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ফ্যাক্টরি নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে জমিও নির্বাচন করা হয়েছে। সবার সহযোগিতায় বিজয়ের এ মাসেই ফ্যাক্টরি নির্মাণ সম্পন্ন করে নতুন এক বিজয় অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ হন সবাই। এ আহ্বানে ভিক্ষুকরা আশ্বস্ত হয়ে আশ্বাস প্রদান ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

চৌরখুলী গ্রামের ভিক্ষুক আমেনা বেগম, আমিরোন বেগম, শাহানা বেগম জানান, সংসারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তারা বিক্ষাবৃত্তি বেছে নেন। এ পেশায় কোনো মান নেই। উপার্জনও খুব কম। কোনোমতে জীবন চালিয়ে নিচ্ছেন তারা। সরকারি সহযোগীতা না পাওয়ায় ইচ্ছা থাকলেও তারা এ পেশা ছাড়তে পারেননি বরে জানান।

একই গ্রামের আকবর আলী মোল্যা, মোহাতার মোল্যা ও পলাশ শেখ বলেন, ইচ্ছা না থাকলেও তাদের ভিক্ষাবৃত্তি পেশা বেছে নিতে হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্যাকেজিং ফ্যাক্টরি নির্মাণ হলে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে সেখানে চাকরি করবেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘নতুন বছরের শুরুতেই এইসব ভিক্ষুকদের ভিক্ষাবৃত্তির জীবন থেকে সরিয়ে চাকরির ব‌্যাবস্থা করা হবে। এজন্য চৌরখুলী গ্রামে একটি প্যাকেজিং ফ্যাক্টরি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই এ ফ্যাক্টরিতে তাদের চাকরির ব‌্যাবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের এ পরিকল্পনা সার্থক হলে পরিবর্তিত হবে চৌরখুলীর, পরিবর্তন হবে কোটালীপাড়ার। এভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তনেই হবে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। একদিনে হয়তো হবে না, তবে একদিক হবেই নিঃসন্দেহে।’

Facebook Comments