রাজবাড়ী, ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১

বদলে যাচ্ছে মাধ‌্যমিকের সিলেবাস-পরীক্ষা পদ্ধতি

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর, ২০২০ ৮:২২ : অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক:রাজকন্ঠ ডট কম

বদলে যাচ্ছে  মাধ‌্যমিক স্তরের সিলেবাস। নবম-দশম শ্রেণিতে থাকছে না কোনো বিভাগ। সব শিক্ষার্থীকে ১০ বিষয়ে পাঠ নিতে হবে। পরীক্ষা পদ্ধতিতেও আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। প্রথম পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে দশম শ্রেণিতে। এক্ষেত্রে  শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির আলোকেই পরীক্ষা নেওয়া হবে।  যদিও বর্তমানে নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচি মিলিয়ে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের যে ১০ বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে, সেগুলোর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞানে পরীক্ষার মাধ্যমে ৫০ শতাংশ মার্ক ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের (শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন) মাধ্যমে আরও ৫০ শতাংশ মার্ক নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে এই রূপরেখার আলোকে কারিকুলাম ও পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন পর্যায়ক্রমে শুরু হবে।  নতুন শিক্ষাক্রম রূপরেখায় মূল্যায়নকে কেবল শিক্ষার্থীর শিখন মূল্যায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা ও শিখন পরিবেশের মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এই মূল্যায়ন পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে শুরু করা হবে। পাঠদানের সময় ‘ধারাবাহিক মূল্যায়ন’(শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন) ও বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে ‘সামষ্টিক মূল্যায়নের’ ভিত্তিতে শিক্ষার্থী পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে। আর প্রথম পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ‘দশম শ্রেণির’ পাঠ্যসূচি অনুযায়ী দশম শ্রেণিতেই। এছাড়া, একাদশে একবার ও দ্বাদশ শ্রেণি শেষে আরেকবার পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সম্মিলিত ফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি শেষে একটি পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই স্তরে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও ৭০ শতাংশ পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন হবে।

নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। এসব শ্রেণিতে কোনো বার্ষিক পরীক্ষা হবে না। প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২০২২ সালে এবং ২০২৩ সাল থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে নতুন এই মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হবে।

চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ নম্বরের ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং বার্ষিক পরীক্ষা হবে ৩০ শতাংশ নম্বরের। এই পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হবে চতুর্থ শ্রেণিতে ২০২৪ সালে এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ২০২৫ সালে। এছাড়া, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ৬০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং ৪০ শতাংশ বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন হবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে ২০২২ সালে এবং ৮ম শ্রেণিতে ২০২৩ সালে এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এনসিটিবির সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান বলেন,  ‘শিক্ষানীতির বর্তমান রূপরেখায় প্রাথমিকের সমাপনী ও অষ্টম শ্রেণির জেএসসির কথা উল্লেখ নেই।  সরকার চাইলে পরীক্ষা নিতে পারবে। তবে মূল্যায়নের কাঠামো এই রূপরেখা অনুযায়ী হবে।’

মাধ্যমিকে বিভাগ তুলে দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘আমরা কেন একজন শিক্ষার্থীকে চাপিয়ে দেবো? ১১-১২ বছর বয়সে একজন শিশু কতটুকু বোঝে? ওই সময় তাকে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক বিভাগ চাপিয়ে দেওয়া  উচিত নয়। বরং ওই বয়স তার মেধা বিকাশের সময়। অন্তত ১৫-১৬ বছর পর শিক্ষার্থী কোন বিভাগে যাবে, তার দক্ষতা অনুযায়ী সে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘জোর করে তাকে একটি বিভাগ চাপিয়ে দিয়ে অসুস্থ প্রতিযোগিতার মাঝে ফেলে দিচ্ছি।  ফলে তার শিক্ষা ফলনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। সে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না। ’

শিক্ষাপদ্ধতে পরিবর্তন সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ‘এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত নিয়েছি। আরও নেবো। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আমাদের বৈঠক হয়েছে।  দুই মন্ত্রণালয় বসেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ঢেলে সাজাতে হবে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে পাঠপুস্তক তৈরি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।  পুরো বছর  চলবে প্রস্তুতি। ২০২২ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিভাগ তুলে দিলে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে, দলগতভাবে শিক্ষা অর্জন করতে পারবে।’ ব্যক্তিগতভাবে একজন শিক্ষার্থী কী করতে পারে, তাও স্পষ্ট হবে বলেও তিনি মন্তব‌্য করেন।

Facebook Comments