রাজবাড়ী, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

জেলেদের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ ২০ কেজি নয় দেওয়া হয়েছে ১৭ কেজি

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর, ২০২০ ৬:৫৯ : অপরাহ্ণ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি:রাজকন্ঠ ডট কম

রাজবাড়ীতে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার বিশেষ ভিজিএফ এর বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলেদের জন প্রতি ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ১৭ থেকে ১৮ কেজি চাল। ইউপি সদস্যরা বলছে,পরিবহন খরচসহ অন্যান্য কারণে চাল কম দেওয়া হচ্ছে। আর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছে, পরিবহনের জন্য টন হিসাব করে ২৫০ টাকা খরচ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। জেলেদের চালে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে প্রশাসন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ৪৭১ জন জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ এর বরাদ্দকৃত চাল গতকাল রবিবার বিকালে বিতরণের কাযক্রম শুরু করেছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডঃ ইমদাদুল হক বিশ্বাস,জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আরিফুজ্জামান ,উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রোকনুজ্জামান, মিজানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আতিয়ার রহমানসহ ইউপি সদস্যরা।
পাঁচজন জেলের হাতে ২০ কেজি করে চাল তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে চাল বিতরণের উদ্বোধন করেন। এরপর অতিথিরা ওই এলাকা ছেড়ে চলে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্য ও ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে জেলেদেরে মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। ২০ কেজি চালের পরিবতে দেওয়া হয় ১৭ থেকে ১৮ কেজি চাল। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে প্রকৃত জেলেদের চাল না দিয়ে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা তাদের নিকটতম আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে কার্ড দিয়ে চাল বিতরণ করছে।
এসময় ভিজিএফ এর চাল নিতে আসা গৌতম,লক্ষন,শ্রীকান্ত কুমার,নাদরে আলী,দারোগ আলী মন্ডলসহ বেশ কয়েকজন জেলের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই বালতি চাল দিয়েছেন। এতে ২০ কেজি হবে না। ১৭ থেকে ১৮ কেজি হবে। প্রতিবছর এভাবেই আমাদের চাল দেওয়া হয়। চাল নিয়ে বাড়িতে গিয়ে ওজন দিলে ২ থেকে ৩ কেজি কম পাওয়া যায়। জেলেদের অভিযোগের ভিত্তিত্বে কয়েকজনের চাল একটি দোকান থেকে ওজন করেন এই প্রতিবেদক।ওজনে জেলেদের অভিযোগের সত্যতার প্রমান পাওয়া যায়।
জেলেদের ওজনে চাল কম দেওয়ার ব্যাপারে ৯ নং ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ মনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের একটা খরচ আছে।গুদাম থেকে চাল আনতে গাড়ি ভাড়া। এরপর গাড়ি থেকে নামানো। ওই চাল যারা ওজন করছে তাদের দুই চার কেজি ,দৌকিদার-দফাদার তাদেরও দুই চার কেজি দিতে হবে। এছাড়া কিছু পাবলিক আছে তাদেরও কয়েক কেজি করে দিতে হবে। সেই জন্যই ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে।
মিজানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আতিয়ার রহমান বলেন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে আলোচনা করেই ২০ কেজির স্থানে ১৯ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে জেলেদের। যাদের কার্ড নেই তাদের ৫ থেকে ১০ কেজি করে দিতে হবে। আমাদরে সাথে উপেজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে যে ভাবে আলোচনা হইছে সে ভাবেই দিচ্ছি । কাদের সাথে আলোচনা করে জেলেদের চাল ওজনে কম দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আতিয়ার রহমান এইতো কথা শেষ বলে চলে যান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, জেলেদের চাল কম দেবার কোন সুযোগ নাই। ২০ কেজির স্থানে ২০ কেজিই পাবে। পরিবহন খরচসহ অন্যান্য কারণে চাল কম দেবে তারও কোন সুযোগ নাই।কারণ পরিবহনের জন্য টন হিসাব করে ২৫০টাকা খরচ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আরিফুজ্জামান বলনে, বিষয়টা আমি আপনার কাছ থেকে এই মাত্র শুনলাম।জেলেদের চাল কম দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেলে যারা ওজনে কম দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments