রাজবাড়ী, ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০

সমকামিতার জেরে আশুলিয়ার সৌদি প্রবাসীকে হত্যা

প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২:৪৮ : অপরাহ্ণ

হাসান ভূঁইয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাভারের আশুলিয়ায় সেন্টু সরকার (৩৫) নামে এক সৌদি প্রবাসীকে গলাকেটে হত্যার ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের ৬ দিন পর নোয়াখালী থেকে শাকিল আহমেদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শাকিল দু’জন মিলে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত অপর আসামী অভিযুক্ত রাব্বী হোসেন এখনো পলাতক রয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত শাকিল নিহতের ফেসবুক বন্ধু ছিলো।

গ্রেপ্তার শাকিল আহমেদ (২১) নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার মীরওয়ারিশপুর গ্রামের আবুল খায়ের চৌধুরীর ছেলে। সে ঢাকার চকবাজার এলাকায় একটি কসমেটিকস দোকানের কর্মচারী। পলাতক রাব্বী হোসেন (২৩) মানিকগঞ্জ সদর জেলার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট আশুলিয়ার মধুপুর এলাকার নিজ নির্মাণাধীন বাড়ির কক্ষ থেকে সেন্টু সরকার নামে সংখ্যালঘু পরিবারের এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় লাশের পাশ থেকে একটি ভাঙ্গা ছুরি ও বটি উদ্ধার করেন তারা। নিহত সেন্টু গত ৭-৮ মাস পূর্বে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এই বাড়িতে একাই বসবাস করে আসছিলেন। যদিও তার স্ত্রী ও পরিবারের বাকীরা ঢাকার ধামরাই এলাকায় আলাদা বসবাস করতেন।

ক্লুলেস এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন কবির জানান, নির্মম এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোন ক্লু পাচ্ছিলেন না তারা। পরে ফেইসবুকে শাকিল ও রাব্বী নামে দুই যুবকের সাথে নিহত ওই প্রবাসীর ঘনিষ্ঠ সমকামিতার সম্পর্কের তথ্য বেরিয়ে আসে। এরই সূত্র ধরে ৩১ আগস্ট (সোমবার) ভোরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে শাকিলকে আটক করা হয়। পরে শাকিল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে।

এসআই মামুন আরও বলেন, ফেসবুকে শাকিল ও রাব্বীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে সৌদি প্রবাসী সেন্টু সরকারের। কিন্তু আগে থেকেই রাব্বী ও শাকিল সমকামিতার গভীর প্রেমঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল। আর তাদের দুই জনের মাঝে প্রবাসী সেন্টু ফাঁটল সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিল জানতে পেরে হত্যার পরিকল্পণা আঁটা হয়। পরে শাকিল ও রাব্বী এক সপ্তাহ আগে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় প্রবাসী সেন্টু সরকারের বাড়িতে আসে। এরপর রাত্রিযাপন শেষে সেন্টুকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে দূর্বল করে হাত-পা বেঁধে ফেলে ওই দু’জন। পরে তাকে জবাই করে হত্যার পর পালিয়ে যায় তারা।

এঘটনায় গ্রেপ্তার শাকিল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সমকামিতার জেরে সেন্টু সরকারকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে হত্যাকান্ডে জড়িত রাব্বী নামে অপরজন পলাতক রয়েছে। আজ মঙ্গলবার রিমান্ড চেয়ে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Facebook Comments