রাজবাড়ী, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১

রাজবাড়ীতে নিরলসভাবে করোনায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবীরা চান প্রধানমন্ত্রীর সুনজর

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট, ২০২০ ৮:১৫ : অপরাহ্ণ

॥এস,কে পাল ॥রাজকন্ঠ ডট কম

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকেই ডাক্তার, নার্সদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক হয়ে কাজ করছেন অনেক শ্রেণিপেশার মানুষ। তবে এদিক দিয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। দেশে করোনা শুরু হলে চিকিৎসা সেবায় যে জনবল সংকট দেখা দেয়; তা পূরণ করতে সারাদেশেই এসব স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করেছেন। কোনো প্রাপ্তির আশায় কাজ শুরু না করলেও প্রধানমন্ত্রীর একটি প্রতিশ্রুতি তাদের আশান্বিত করেছে।
তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে স্বেচ্ছাসেবকদের বিষয়টি দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে গত ২৩ জুলাই ৫৭ জন স্বেচ্ছাসেবক টেকনোলজিস্টদের চাকরি সরকারিকরণ করা হয়েছে। এর আগে ২৮ জুন মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্দেশে প্রথম দফায় ১৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবক টেকনোলজিস্টদের চাকরি সরকারিকরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বিষয়টি আশাবাদী করেছে রাজবাড়ী জেলায় কাজ করা ৭ জন স্বেচ্ছাসেবীকেও। তাই প্রধানমন্ত্রীর সুনজর প্রত্যাশা করেছেন তারা।
দেশের অন্যান্য জেলার মতো রাজবাড়ীতেও করোনা ভয়াবহ আকার ধারন করে। সরকারি চিকিৎসক, সেবিকাদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কাজ করে এসব স্বেচ্ছাসেবী। এরমধ্যে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাজ করছেন আশিকুজ্জামান শুভ ও জান্নাতুল ফেরদৌস। রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে কাজ করছেন মোঃ সোহেল আহমেদ, মোঃ জিহাদুর জামান, আবু হানিফ, আফরোজা খাতুন ও মনিবুর রহমান।

এদের মধ্যে পাংশায় কর্মরত জান্নাতুল ফেরদৌস দায়িত্ব পালনকালে গর্ভবতী অবস্থায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এসব স্বেচ্ছাসেবক টেকনোলজিস্টরা। প্রথমদিকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন চিকিৎসক, নার্সসহ চিকিৎসা সেবা কাজে নিয়োজিত কর্মীরা। প্রথমদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কয়েকজন চিকিৎসকও মারা যান।

দিন দিন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খায় স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসপাতালগুলোতে নিয়োজিত কর্মীরা আক্রান্ত হতে থাকলে করোনাকালে কাজ করার জন্য সারাদেশে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার জন্য বঙ্গবন্ধু টেকনোলজিস্ট পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে সরকার জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক টেকনোলজিস্ট হিসেবে কাজ করার অনুমতি প্রদান করেন।

দেশকে ভালবেসে দেশের কাজে এগিয়ে আসার লক্ষ্যে এ সকল মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার জন্য সরকার প্রধানও বেশ প্রশংসা করেছেন। তাই রাজবাড়ী জেলায় কর্মরত স্বেচ্ছাসেবক টেকনোলজিস্টরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরি সরকারিকরণ করার দাবীও করেছেন।

এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ী জেলা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের সভাপতি ও পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবক আশিকুজ্জামান শুভ বলেন, আমরা স্বেচ্ছাসেবকগণ স্বেচ্ছায় কাজ করার অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছি। করোনা রোগীর পাশে গিয়ে আমরা বিভিন্ন ভাবে সেবা প্রদান করছি। পাশাপাশি করোনার স্যাম্পল সংগ্রহের কাজেও আমরা নিয়োজিত আছি। কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক স্বেচ্ছাসেবক বন্ধু করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। করোনাকে জয় করে তারা আবার পুনরায় কাজে যোগ দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে মহান জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যায়ক্রমে করোনাকালে স্বেচ্ছায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে গত ২৩ জুলাই ৫৭ জন স্বেচ্ছাসেবক টেকনোলজিস্টদের চাকুরি সরকারিকরণ করা হয়েছে। এর আগে ২৮ জুন মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্দেশে প্রথম দফায় ১৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবক টেকনোলজিস্টদের চাকুরী নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারিকরণ করা হয়েছে।

আশিকুজ্জামান শুভ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের প্রতি সুনজর দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের সদস্যরা দেশের ৬৪ জেলায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন।