রাজবাড়ী, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

এলাকাবাসীর দাবী পুলিশের সহযোগীতায়

কালুখালীতে দূর্বৃত্তদের হাতে যুবক খুন

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট, ২০২০ ১০:৩৯ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজকন্ঠ ডট কম


শনিবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দূর্বৃত্তদের হাতে যুবককে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত যুবকের নাম রবিউল বিশ্বাস (৩৩)।

রবিউল মাঝবাড়ী ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের আছিরুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। তার ৩টি কন্যা সন্তান রয়েছে। রবিউলের বোন মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাশের বাড়ীর ইলিয়াস, রাকিব ও রফিক সহ স্থানীয় কয়েকজন যুবক এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাঁদের বাগবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি এবং ধাওয়া করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইউসুফ হোসেন মেম্বারকে জানালে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতা করার উদ্যোগ নেন।তারা বলেন ইউসুফ হোসেন মেম্বারই পুলিশ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে টাকা রবিউলকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে।

গত শুক্রবার বিকেলে বাবুল বিশ্বাসের বাড়িতে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক হয়নি। রাতে কালুখালী থানার এসআই ফজলুল হক সহ পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তাড়া খাওয়া যুবকেরা বাবুল বিশ্বাসের বাড়িতে যান। এ সময় তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাঁরা রবিউলের বাড়িতে যান। সেখান থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। বাবুলকে পুলিশ হেফাজতে রাখলেও রবিউলকে দুর্বৃত্তদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে মুনাইয়ের বিলে নিয়ে হত্যা করা হয়। শনিবার ভোররাতে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা পুলিশ কর্মকর্তাদের অবরূদ্ধ করে রেখে লাঞ্ছিত করেন। তাঁরা মরদেহ নিতে বাধা দেন। সকাল ১১ টার দিকে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

নিহত ব্যক্তির স্ত্রী অভিযোগ করেন, গতকাল রাত আড়াইটার দিকে বাড়িতে পুলিশ আসে। এসময় পুলিশের সাথে পাশের বাড়ীর ইলিয়াস, রফিক ও রাকিব সহ দূর্বৃত্তরা উপস্থিত ছিলো। এরপর পরদিন সকালে মুনাই বিলে আমার স্বামীর লাশ পাওয়া যায়। আমার স্বামীর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত পুলিশ ও ইউসুফ হোসেন মেম্বারসহ তার ভাড়া করা সন্ত্রাসী বাহীনির বিচার চাই।

কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর ভুল বোঝাবোঝিতে তিন পুলিশ সদস্যকে অবরূদ্ধ করে রেখেছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন এসআই ও একজন কনস্টেবল। আমি, এএসপি (পাংশা সার্কেল) লাবীব আব্দুল্লাহ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সালাউদ্দিন সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। পরে মরাদেহ থানায় নিয়ে এসে লাশের সুরত হাল রিপোর্টের জন্য রাজবাড়ী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।