রাজবাড়ী, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

প্রতারক ট্রাফিক পুলিশের প্রেমের ফাঁদে জীবন গেল কলেজ ছাত্রী ইতির

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট, ২০২০ ৬:২৪ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজকন্ঠ ডট কম

প্রতারক ট্রাফিক পুলিশের প্রেমের ফাঁদে জীবন গেল কলেজ ছাত্রী ইতি খাতুন নামের (২২) বছরের এক তরুণীর। এমনই এক বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের পারভেল্লাবাড়ীয়া গ্রামে।মেয়েটার নাম ইতি খাতুন বাবার নাম ফজলু মন্ডল। ইতি খাতুন এই বছর এইচ এস সি পরিক্ষারর্থী ছিলো পাংশা গার্লস কলেজ থেকে।ইতি মেধাবী ছাত্রী ছিলেন।কিন্তু দুখের বিষয় হলো, ইতি, এক প্রতারক ট্রাফিক পুলিশ সদস্যর প্রেমের জালে পা দেয়। তাদের প্রেম সম্পর্ক ছিলো প্রায় তিন বছর। কে জানতো এই প্রেম প্রতারনা হবে ইতির মৃত্যুর কারন।ইতির প্রেমিক এর বাড়ী পাংশা উপজেলার বাহাদুর পুর ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের মোঃ কুরবান আলীর ছেলে শাহাবুদ্দিন ওরফে শাহা। পেশায় শাহা একজন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য ।এই শাহার প্রেমিকা ইতি খাতুনকে ভালোবাসার কথা বলে ঘুরাইতে থাকে দিনের পর দিন।এবং তাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো অনেক গভীরে। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ শাহবুদ্দিন ওরফে শাহা ইতি খাতুনকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের নামে নাটক করেন ইতি তা বুঝতে পারে তার পর ইতি শাহাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু শাহাবুদ্দিন বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে কিন্তু ইতি খাতুন নিরুপায় হয়ে শাহার কর্মস্থল কুষ্টিয়াতে যায় কিন্তু শাহাবুদ্দিন ওরফে শাহা তাকে মানুষিক টর্চার করে তার পর ইতি খাতুন পয়জন খেয়ে নিজেকে শেষ করে দিতে চায়।সেখানে স্থানীয় এক অটোরিকশা চালোক তাকে উদ্ধার করে ০৫/০৮/২০২০ কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং ইতির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ০৭/০৮/২০২০ ইং তারিখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। ইতি বাড়ী চলে আসলে ঐদিন আবার বিয়ের দাবিনিয়ে ইতি খাতুন শাহাবুদ্দিন ওরফে শাহার বাড়ীতে অনশন করে কিন্তু কে শোনে কার কথা শাহাবুদ্দিন ওরফে শাহার মা বাবা সহ পরিবারের সবাই ইতি খাতুনকে খুব খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং অনেক মারধর এবং অমানুষিক নির্যাতন করেন এক পর্যায়ে ইতি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এ কথা জনাজানি হলে স্থানীয়রা ইতিকে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে
দেয় তার পরিবারের কাছে । মারধর এর পর এক পর্যাযে শাহাবুদ্দিন ইতির পরিবারের সাথে ইতিকে বিয়ে করবো এ কথা বলে ইতিকে কুষ্টিয়া নিয়ে আসতে বলে ইতি ও তার পরিবার খুব আসস্থ হয়ে কুষ্টিয়া যায়। ইতির ছোট চাচা মোঃ লিটন মন্ডল বলেন তুমি অনেক প্রতারনা করেছো তোমাকে কি ভাবে বিশ্বাস করবো ঐ দিকে শাহা বলেন আমার তো ছুটি নাই আপনাদের কুষ্টিয়া আসতে হবে আর এখানে আমাদের বিয়ে হবে কুষ্টিয়া যাওয়া হলো বিয়ের আয়োজন হলো কিন্তু সেখানেও শাহা নাটক শুরু করল কিন্তু বিয়ে হলো না।সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জজ কোটের ২ জন উকিল আর সরকারি কাজী এ বিয়ের আয়োজন করা হয় কুষ্টিয়াতে ইতির আত্নীয়র বাড়ীতে। শাহাবুদ্দিন ওরফে শাহা আইনজিবীদের দেখে বিয়ে অন্য জায়গায় করবে বলে জানায় এবং সে আবার বড় ধরনের প্রতারনার আশ্রায় নেয়।এবং বিয়ে করবে না বলে তালবাহানা শুরু করে। শাহাবুদ্দিন ওরফে শাহা ইতি খাতুন কে বলে তুমি কতটাকার দেনমোহর করতে চাও ইতি বলল আমি আপনার এক টাকার বউ হতে চাই, আপনার পায়ে পড়ি, আপনি একটাকার দেনমোহর দিয়ে আমাকে বিয়ে করেন ততেই আমি খুশি । তার পড়েও প্রতারক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য তাকে বিয়ে করলনা। বিয়ের নামে নাটক করে সেখান থেকে পালিয়ে গেল । প্রেমের নামে ছিনিমিনি খেলেছে পরে প্রতারক পুলিশ সদস্য তার বন্ধুর মাধ্যমে ইতি খাতুনকে জানায় যে শাহাবুদ্দিন ওরফে শাহা বিয়ে করেছে এ ইতির মতন নস্টা মেয়েকে বিয়ে করব না। কুষ্টিয়া থেকে বাড়ী এসে এই অপমান সইতে না পেড়ে নিজে গত ১০/০৮/২০২০ তারিখে দুপুর আনুমানিক দুইটা আড়াইটার সময় গলায় ওড়না পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে অাত্নহত্যার পথ বেঁচে নেয় পরে তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে নিতে বলে ফরিদপুর হাসপাতালে ঐ দিনই চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায় ইতি খাতুন।এভাবেই একজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যর প্রেমের বলিদান হতে হলো এই অবলা তরুণী ইতি খাতুন কে। কয়েজন গ্রামবাসি বলেন এর বিচার হওয়া দরকার এই পুলিশ সদস্য জঘন্য অপরাধ করেছে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। পুলিশ বাহিনী যেনো তদন্ত করে এই প্রতারক ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে শাস্তি দেয়।মেয়ের চাচা মোঃ আব্দুস সালাম বলেন এটা একটি পরিকল্পিত হত্যা, আমি এই হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করছি। তিনি আরো বলেন আমার আদরের ভাতিজি খুব ভালো জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল কিন্তু সেই বিয়ে শাহাবুদ্দিন ওরফে শাহা বিয়ে ভেঙে দেয় এভাবে তিনটা বিয়ে ভেঙে দেয়।আর আমার ভাতিজি কে বিয়ের নাটক করে সেখান থেকেও পালিয়ে যায়। এই ছেলে আমার ভাতিজিকে অনেক মারধর করেছিলো কুষ্টিয়া নিয়ে গিয়ে আমরা জানতে পেরেছি। শাহাবুদ্দিন ওরফে সাহা পুলিশের চাকরি করায় আমার ভাতিজি কে অনেক হয়রানি করছে এবং ইতিকে শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতন করেছে।যার কারনে এই জঘন্য অপমান সইতে না পেরে আমার ভাতিজি আত্মাহত্যা করেছে। আমি এই প্রতারক পুলিশের কঠোর বিচার দাবি করছি।মেয়ের চাচা আব্দুস সালাম পাংশা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে আমরা এর ব্যাবস্থানিব। শাহবুদ্দিন ওরফে শাহা বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলায় ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

Facebook Comments