রাজবাড়ী, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

অগোরুবিক কোরবানী——–এড. লিয়াকত আলী বাবু

প্রকাশ: ৩০ জুলাই, ২০২০ ১১:০২ : অপরাহ্ণ

রাজকন্ঠ নিউজ ডেস্ক:

ভারতের পাঞ্জাব সংলগ্ন হরিয়ানা রাজ্যের এক নিন্মবর্নের হিন্দু পরিবারে আমার জন্ম। লিঙ্গে ছিলাম উত্তম পুরুষ। বড় হয়ে আমরাই উন্মত্ত ষাঁড় হই। হরিয়ানা রাজ্যে জন্ম হওয়ার কারনে আমাদের নাম হয় হরিয়ানা ষাঁড়। গরু হিসাবে বড়ই গরীব ঘরে জন্ম আমার। গরীব ঘরে জন্ম হলেও আমরা গরু জগতের কুলিন বংশ হিসাবে একটা আলাদা সন্মানে ভূষিত হয়ে থাকি। জন্মের পর থেকেই আমাকে এক অন্য রকম আদর-আহ্লাদে লালন পালন করা হচ্ছিল। রাত হলেই আমাকে বড় একটা মশারীর মধ্যে ঢুকিয়ে রাখা হতো। আমাকে যেন মশায় কামড়াতে না পারে। অতি অল্প বয়সেই আমাকে দুধ ছাড়িয়ে নেওয়া হলো। কি কারনে যে অতি অল্প বয়সে আমাকে দুধ ছাড়িয়ে নেওয়া হল তা বলতে পারবো না। দুধের মুখে ঘাস কিংবা ভূষি-খৈল খেতে একটুও ভাল লাগতো না। তার পরেও আমার মনিব কিছুটা জোড় করেই আমাকে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর গো-খাদ্য খাওয়ানো শুরু করে দেয়। এর কিছু দিন পরই গরু মোটা-তাজা করন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে আমাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলো। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মশাই আমাকে বয়ো-বৃদ্ধির মত ‘মোটাতাজা’ করানোর জন্য কিছু বিশেষ ধরনের ঔষধ সেবনের প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়ে গেলেন। ছোট বেলা থেকেই লেখা-পড়া না জানার কারনে আজ ঐ ঔষধের নাম গুলো বলতে পারছি না। ঐ যে কথায় বলে না ব্যাটা একটা ‘গো-মূর্খ’। অর্থাৎ গরুর মত মূর্খদের’কে ‘গো-মূখ’বলে বলা হয়। শুধু এই যায়গাটাতে এসে আশরাফুল মাকলুকাত মানুষের সাথে গরুর তুলনা করা হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার-এর প্রেসক্রিপশন মতে ঔষধ সেবন করানোর কিছু দিন পর থেকেই আমার শরীরের মধ্যে খুব দ্রত একটা পরিবর্তন আসতে শুরু করে দিলো। ঔষধ প্রস্তুতকারক বিজ্ঞানীরা আসলে পারেনও বটে। অতি অল্প বয়সেই অতিরিক্ত মেদ-ভূঁরিতে শরীরটা আমার অসম্ভব রকমের ভারি হয়ে উঠতে থাকে। অ-বয়সে চোখে মুখে যৌবনের জোয়ার এসে যায়। একটা বিশ্রী রকমের অকালপক্ক ভাব ফুটে উঠে আমার চেহারার মধ্যে। ভীতরে ভীতরে একটু আধটু লজ্জা লজ্জা ভাবও অনুভূত হতে থাকে। আশে পাশের আধ বুড়ো গাভী গুলো আমার দিকে ড্যাব-ড্যাব করে তাকিয়ে থেকে মুচকী মুচকী হাসতে শুরু করে দিলো। প্রথম প্রথম ঐ বুড়ো গাভী গুলোর হাসির অর্থ বুঝতাম না। তবে ওদের হাসি দেখে ভীষন লজ্জা পেতাম। এ ভাবেই আমি অতি অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত গতিতে বড় হয়ে যেতে থাকি। আমার বয়সের এক বছর পার হতে তখনও এক মস বাঁকী। এরই মধ্যে হঠাৎ একদিন আশ্মিনের কুয়াশা ভেজা এক সকালে ভয়ংকর কুৎশিত চেহারার একজন মধ্য বয়সী লোক আমার মনিবের বাড়ীতে এসে হাজির। মাথায় ছাতা আর বোগলে বেশ লম্বা একটা লাঠি। বিশাল বাঁকানো মোছ দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা। এমন একজন ভয়ংকর চেহারার লোকের সাথে আমার এই প্রথম দেখা হলো। এর পরের বিষয়টি বেশ লজ্জাস্কর। লোকটি আমার পেছনে গিয়ে হঠাৎ করেই লেজের আগার দিকে ধরে জোড়ছে একটা ঘোরান মেরে দেয়। লজ্জা পাওয়ার চাইতেও প্রচন্ড চোট পেলাম লেজের গোড়ায়। লেজটা ব্যাথায় টন টন করে উঠলো। এখানেই শেষ নয়। লোকটি বে-শরমের মত আমার শরীরে হাত বোলাতে বোলাতে শরীরের মাঝামাঝি এসে পিঠের উপর এমন একটা থাপ্পর মারলো যে আমার চোখের সামনে সব সর্র্ষের ফুলের মত সব কিছুই গাঢ় হলুদ রঙ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হল। অসভ্য লোকটি আমার লজ্জাস্থানে হাত দিতেও কুন্ঠাবোধ করলো না। আমাকে যারপর নাই বিব্রত করে ছাড়ল। ঐদিনের কুয়াশা ভেজা সুন্দর সকালটাই যেন একেবারে মাটি হয়ে গেল। লোকটি কিছুটা ফাঁকে গিয়ে আমার মনিবের সাথে কি নিয়ে যেন কানা ঘুঁষা করতে লাগলো। এক পর্যায়ে লোকটি বেশ মন খারাপ করে ছাতা ফুটিয়ে হন হন করে বড় রাস্তার দিকে ফিরে যেতে থাকে। বেশ কিছুটা পথ চলার পর লোকটা আবার ফিরে এসে আমার মনিবের হাতের মধ্যে অনেক গুলো টাকা গুঁজে দিলো। মাঝে মধ্যে টাকার গল্প শুনলেও টাকা সম্পর্কে আমার তেমন কোন ধারনাই ছিলো না। এর পর আর এক মুহুর্ত দেরী না করে ঐ গোঁফ ওয়ালা লোকটি খুঁটির থেকে একটানে আমার দড়ি খুলে ফেলে। তারপর লোকটার হাতের সাথে দড়ি পেচিয়ে এক হেঁচ্কা টানে আমাকে নিয়ে হাঁটতে শুরু করে দেয়। স্ন্দুর একটা কুয়াশা ভেজা মনোরম মিষ্টি সকাল নিমিশেই আমার চোখের সামনে ধূসর হয়ে গেল। আমার পেছনের দুই পা’য়ে সপাং সপাং করে লাঠির আঘাত পরতে থাকে। লোকটা আমার দড়ি ধরে হুর হুর করে টানতে টানতে যখন বড় রাস্তার দিকে নিয়ে যেতে লাগলো তখন বুঝলাম আমি টাকায় বিক্রি হয়ে গেছি। আমি অনেক কষ্টে পেছন ফিরে অসহায়ের মত আমার মনিবের দিকে একবার তাকালাম। দেখলাম আমার মনিব তখনো তার হাতের টাকা গুলো খুব ব্যাস্ততার সাথে গুনে চলেছে। আমার মনিব মাত্র কয়টা টাকা হাতে পেয়ে এত নিষ্ঠুর হয়ে যেতে পারলো ? হায়রে হৃদয়হীন টাকা ! মনিবের ছোট ছেলেটি দৌড়ে আমার দিকে আসতে গিয়েও তার বাবার ইশারায় হঠাৎ করেই থেমে গেল। ছোট ছেলেটির বিষন্ন মুখের অষ্পষ্ট কথা গুলো আমি বুঝতে চেষ্টা করলাম। ঐ ভয়ংকর চেহারার লোকটি বুঝতে পারছিল যে আমি তার সাথে যেতে মোটেও ইচ্ছুক নই। আর সে কারনেই লোকটি আমার লেজে মোঁচড় দিয়ে ধাক্কা দেওয়া সহ শক্ত লাঠি দিয়ে বেদমভাবে পেটাতে পেটাতে দৌড়ানোর মত করে তাড়াতে থাকে। ইতোমধ্যে কুয়াশা মুছে গিয়ে মেঘ ভাঙ্গা সূর্য উঠে গেছে। কাঠ ফাটা রোদে পিট পুড়ে যাচ্ছিল। কিন্ত দু’দন্ড দাঁড়িয়ে জিড়িয়ে নেওয়ার কোন উপায় নেই। থামতে গেলেই সপাং সপাং লাঠির আঘাত। ইতোমধ্যে আমি বুঝে ফেলেছি যে আমি আজ একজন ভয়াবহ গরুর দালালের হাতে বন্দি হয়ে গেছি। ঐ মুহুর্তে খুব করে আমার মায়ের স্মৃতিকথা গুলো মনে পরছিল। মানুষ সম্পর্কে এই প্রথম আমার ধারনা পল্টে যেতে থাকে। মানুষ এত হৃদয়হীন নির্মম পাষান্ড এবং নিষ্ঠুর হতে পারে ? মানুষ কী এতটাই অবিবেচক পাষান ? দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যাচ্ছে। ক্ষুধার যন্ত্রনায় পেটের মধ্যে আগুন ধরে যাওয়ার মত অবস্থা। পানি পিপাসায় বুকের ছাতি ফেটে যাওয়ার উপক্রম। মাত্রাতিরিক্ত ভারী শরীর নিয়ে আর কিছুতেই হাঁটতে পারছিলাম না। লোকটি তার গামছায় বাধা চিড়ে আর গুর খেতে খেতে আমার পেছনে পেছনে দৌড়ের মত করে হেঁটে আসছে। অবশেষে ঘোর কালি-সন্ধ্যার সময় লোকটার তার বাড়ীতে পৌঁছে গেল। এরপর ঐ বদ মেজাজী কাঠখোট্টা লোকটি আমাকে সোজা একটা গোয়াল ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। অত্যন্ত অপরিস্কার একটা অপ্রস্বস্থ গোয়াল ঘর। ঐ গোয়ালে আরও ৫-৬ টা গরু আছে বলে অনুমান হচ্ছিল। প্রচন্ড চোনা (প্রস্রাব) ও গোবরের ভ্যাপসা গন্ধে আমার ভীষন ভাবে বমির উদ্রেক হল। প্রচন্ড দুর্গন্ধে আমার সমস্ত শরীরর রি’রি করতে লাগলো। রাত্রে আমাকে একেবারে অভুক্তই রাখা হলো। গভীর রাত্রে শুরু হলো বেশুমার মশার কামড়। একেতে সমস্ত শরীর আঘাতে আঘাতে ফুলে গেছে ,এরপর মশার কামড় যেন মরার উপর খারার ঘাঁ’র মতই মনে হচ্ছিল। মনে হল বড়ই দূর্ভাগ্য আমার যে এ পৃথিবীতে আমি একটা সামান্য গরু হিসাবে জন্ম নিয়েছি। কাজেই কিছু বলার নেই। পাশেই আরেকটা ষাঁড় বড় লেজ দিয়ে তার নিজের শরীরের উপর চাবুকের মত আঘাত করে করে মশা তাড়াচ্ছিল। ষাঁড়টা বেশ বড়। মনে হল বয়স হয়েছে অনেক। আবার আমার মত গরু মোটা-তাজা করন জটিল ট্যাবলেটের ফলাফলও হতে পারে। পাশের ষাড়টি আমার দিকে মুখ আগিয়ে এনে চুপি চুপি জিজ্ঞাসা করল দাদা কত দুর থেকে এসেছেন ? বুঝলাম বাঙালী জাতের ষাঁড়। ওর মুখ দিয়ে পচা খৈলের গন্ধে পেটের মধ্যে মোঁচড় দিয়ে উঠলো। আমি মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল¬াম হরিয়ানা থেকে। ষাঁড়টি একটু ইজ্জতের সাথে বলে উঠলো দাদা নমঃস্তে–নমঃস্তে–। বিহারের হরিয়ানা’র বড় কুলিন বংশের ষাঁড় আপনি। তা এখানে এলেন কি ভাবে ? মোটেও উত্তর দিতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। তবুও বল্লাম কপালের ফেরে দাদা নিতান্তই কপালের ফেরে। প্রতি-উত্তরে বাঙালী ষাঁড়টি বললে¬া তথাস্তু তথাস্তু–দাদা তথাস্ত। ষাঁঢ়টার মুখ দিয়ে একটা গভীর ধীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে এলো। আমারা যে জাতেরই হইনা কেন দাদা কপাল আমাদের ঐ একই। এর আগে কয়েকটি বাঙালী গরুর সাথে আমার চলা ফেরা করার সুবাদে আমি বাংলা বুঝতে এবং ভাঙা ভাঙা বাংলা বলতেও পারি। সারা রাত অসহ্য মশার কামড়ে বিনিদ্র রজনী কেটে গেল। সকালে সামনে আনা হলো খাওয়ার অনুপযুক্ত লবন আর ইউরিয়া সার মেশানো বাসি ভূষি আর তার সাথে গরু মোটা-তাজা করার গজমতি ট্যাবলেট। গলায় বাঁধা দড়ি, কি আর করি। ক্ষুধার যন্ত্রনায় মনে হল সত্যি পৃথিবীটা গদ্যময়। কাজেই না খেয়ে আর কোন উপায় ছিল না। জীবন বাঁচানো দায়। দুপুর গড়ানোর আগেই আবরও ট্যাবলেট খাওয়ানো হলো। বলা চলে একবারে খালি পেটে ট্যালেট খাওয়ানো হলো। খেলাম বললে ভুল হবে। জোর করেই ট্যাবলেট গেলানো হলো। ট্যাবলেটটা খাওয়ার পর পরই হঠাৎ করে পেট ফুলে গেল। পেটের মধ্যে প্রচন্ড গ্যাসের ভাব মনে হলো। রীতিমত হাবি জাবি খাওয়ানো হচ্ছে। গ্যাস হওয়ারই কথা। ভীষন বমি বমি ভাব লাগছিল। দুপুরে আবারও বাসি ভূষি আর পচা খৈইল দিয়ে লাঞ্চের ব্যাবস্থা। এরপর শুরু হল আমাদেরকে নিয়ে নিরুদ্দেশ যাত্রা। দুই জন রাখাল আমাদের’কে চার জোড়ায় বেঁধে পেছন থেকে পেটাতে পেটাতে পুর্ব দিকে নিয়ে যচ্ছে। পথে পথে ধানের শুকনো বিচালি কিনে খাওয়া’য়ে পুরো তিনদিন ধরে হাটানো হলো। পা ফুলে কলা গাছের মত অবস্থা। একটু দাঁড়াতে গেলেই পিঠের উপর সপাং সপাং শব্দ। শরীরও বিষ ব্যাথায় ফুলে গেল। গভীর রাত। হালকা জ্যোছনার আলোতে মনে হলো আমরা কোন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে হাঁটছি। রাখালদের চুপি চুপি কথা বার্তায় বোঝা গেল সম্ভবতঃ আমাদেরকে বাংলাদেশে’র কেন এক বর্ডারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভীষন ভয় ভয় লাগছিল। কারন শুনেছি বি,এস,এফ’রা নাকি পশুর থেকেও খারাপ আচরন করে। আরও শুনেছিলাম বি,এস,এফ’রা নাকি বাংলাদেশের ফলানী নামের এক শিশু বাচ্চাকে বর্ডারের কাটাতারের উপর পাখীর মত গুলি করে ঝুলিয়ে দিয়েছিল। ওরা পারে না এমন কোন জঘন্য কাজই নাই। যেখানে ওরা মানুষ মারতে দ্বিধা বোধ করে না। সেখানে আমরাতো রীতিমত গরু। গরুরতো কোন কথাই নেই। আমার সাথে সাঁজোড় দেওয়া ষাড়টি অবশ্য আমাকে আস্বস্থ করে বল্লো যে “দাদা ভয় পেওনা। কারন বি,এস,এফ প্রতিদিন মানুষ মারলেও গুলি করে গরু মেরে ফেলেছে এমন ইতিহাস বি,এস এফে’র নাই”। সংগে বাঁধা গরু দাদা’র কথায় কিছুটা আস্বস্থ হলাম বটে কিন্তু একেবারে ভয় কাটলো না। বুঝলাম অবৈধভাবে বর্ডার পার করার প্রস্তুতি চলছে। জীবনের একটা ইচ্ছা ছিল গঙ্গার জলে একদিন স্লান করব। কিন্ত সে ইচ্ছে আর এ’জনমে পূরন হলো না। কারন এ পারের গঙ্গার জল ওপারে গিয়ে পদ্মার পানিতে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। এপারে গঙ্গার জল যা ওপারে গিয়ে পদ্মার পানিতে রুপান্তরিত হচ্ছে। এপারে জল ওপারে পানি। কী আযব কায়দাখানি। এই নিয়েই নাকি যত হানাহানি। বি,এস,এফ আমাদের সামনেই ঘুষের টাকা পকেটে ভরলো। আমরা গরু হলেও লজ্জায় এবং ঘুষ নেওয়ার ঘৃনায় মুখ ফিরিয়ে নিলাম। বি,এস,এফ একজন দালালের মাধ্যমে আমাদেরকে বিশাল এক কলা বাগানের ভীতর নিয়ে গেল। সেখানে বাঁশের বিশাল ঢেকির মত চগো বানানো আছে। ঐ চগোর আগায় গরুর চার পা বেঁধে উঠিয়ে নিয়ে কাঁটাতারের ঐ পাশে ধবাস করে ফেলে দিচ্ছে। বলা চলে এখন একেবারের মৃত্যুও মুখোমুখি। এত উপর থেকে ঐ পাশে ফেলে দিলে মরে যাওয়ারই কথা। এক সময় আমারও চার পা বেঁধে বাঁশের চগোতে ঝুলিয়ে কাঁটা তারের বহু উপরে উঠিয়ে ধবাস করে বাংলাদেশের মধ্যে ফেলে দিলো। আমার তখন কয়েক মিনিট দম বন্ধ হয়ে ছিলো। ঠিক মৃত্যুও কাছাকাছি একটা অবস্থা। এ ভাবেই জীবনের উপর নরকের যন্ত্রনা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেলে দিয়েছিলো। এ ভাবেই অবৈধ ভাবে বর্ডারই পার হয়ে গেলাম। অবৈধ ভাবে পাড় না করেই বা কী করবে ? গরুদে’র নাকি ভিসা দেওয়া হয় না। যদিও মানুষেরা ভিসা নিয়ে অনেক বড় বড় অপরাধ করলেও গরু’রা কোন দিন অমানবিক না ভুল বললাম অগরুবিক কোন অন্যায় কাজ এ পর্যন্ত করে নাই। বর্ডার পার হওয়ার পর পরপরই আমাদের মালিকও বদল হয়ে। নতুন মালিক-এর রাখাল’রাও আমাদেরকে অযথা পেটাতে পেটাতে একটা নদীর পার দিয়ে হাঁটায়ে নিয়ে যাচ্ছে। এপারের মানুষ আর ওপারের মানুষের মধ্যে ভাষাগত কিছু পার্থক্য থাকলেও আচরন গত কোন পার্থক্যই নাই। ওপারের বর্ডার দাদা আর এপারের বর্ডার ভাই সবারই আচরন দেখলাম ‘যা পাই তাই খাই’। এ’পার ও’পারের রাখাল গুলোরও আচরনও দেখলাম এক। গরু পেটাতে দু’পারের লোকই ওস্তাদ। শুনলাম এটা নাকি কুষ্টিয়া শহর। প্রশাসনের লোকজনের সামনে দিয়েই বীর দর্পে আমাদেরকে শহরের মধ্য পথ দিয়ে হাঁটায়ে শহরের এক পাশে নিয়ে আসা হলো। পথে পথে শুধু বখরা ছিটাতে দেখলাম। সব কিছুই একেবারে চোখের সামনেই দেখলাম। নো-প্রটেকশন,নো-টেনশন। কুষ্টিয়া থেকে আমাদেরকে আরও ৮-১০ টা গরুর সাথে চিড়ে চ্যাপ্টা করে ট্রাকে উঠানো হলো। সবাই মোটা তাজা ষাঁড়। দড়ি দিয়ে আমাদের গলা এমন করে বাঁধা হয়েছে যে একটু নড়া চড়া করলেই গলায় ফাঁস লেগে যাবে। তারপর আবার চোখের মধ্যে মরিচ গুঁজে দেওয়া হলো। চোখের এ যন্ত্রনা ব্যাখ্যা দেওয়ার আর কোন ভাষা নাই। তারপর রাখালদের অযথা পিটা পিটি। মনে হলো আমাদেরকে পেটাতে না পারলে ওদের হাতের মধ্যে কামড়াতে থাকে। আমাদের মুখের উপর যে কয়টা করে বারি দিয়েছে তাতে মানুষরা যে পশুর চাইতেও খারাপ তাতে এক চুল পরিমানেও সন্দেহ নেই। এরপর গোয়ালন্দ নামক ঘাটে এসে যখন আগুনের তাপের মত রোদ্রের মধ্যে প্রায় ৮-১০ ঘন্টা যানজটে গলায় ফাঁস নিয়ে আটকে থাকলাম। তখন মনে হচ্ছিল এর থেকে মৃত্যুও অনেক ভালো। প্রায় ২৪ ঘন্টা পার হয়ে যাচ্ছে কিন্ত পেটে কিছুই দেওয়া হয নাই। আর কত ঘন্টা না খেয়ে থাকতে হবে তা এক মাত্র ভগবানই জানেন। গভীর রাতে গাবতলী নামক হাটে নিয়ে আমাদেরকে নামানো হলো। গবতলী হাটের পশেই গরুর বিশাল একটা বিউটি পার্লার। সেখানে নিয়ে আমাদেরকে খুব সুন্দর করে সাজানো হলো। শিংয়ে এবং সমস্ত শরীরে এক ধরনের জেল মাখানো হলো। তারপর সামনের এবং পেছনের দুই পায়ে দুটো করে ইন্জেকশন দেওয়া হলো। সহসাই সমস্ত শরীর ফুলে উঠলো। ইন্জেকশন দেওয়ার পর শরীরের মধ্যে প্রচন্ড জ্বালা পোড়া শুরু হয়ে যায়। ইন্জেকশন ফুটানোর পরপরই সমস্ত শরীর ফুলে উঠে। পরের ঘটনা আরও মর্মষ্পশী এবং হৃদয় বিদারক ও অমানবিক কিংবা পশু শ্রেনী হওয়ার জন্য ভয়ানক পাশবিক। অবলা জীবের প্রতি এমন নির্মম অত্যাচার একমাত্র মানুষই করতে পারে। পৃথিবীতে এমন কোন কাজই নাই যা কি মানুষ জাতি করতে পারে না। আমার অল্প বয়স হওয়ার কারনে আমার সাবালকত্বের দাঁত উঠে নাই। আমার দুধের দাঁত পরে বয়সের দাঁত না উঠায় গভীর রাত্রে সাঁড়াশি দিয়ে আমার সামনের দুটো দাঁত গোড়ার থেকে ভেঙ্গে দেওয়া হলো। ওহ্ কি নির্মম সে ভয়াবহ দৃশ্য ! উহ্ কী‏ মর্মন্তুদ সে পাশবিকতা! আমার হাম্বা হাম্বা আর্ত চিৎকারে কোন মানুষেরই মন গলাতে পারলাম না। সর্বশেষ বুঝতে পারলাম এদের নামই নাকি মানুষ। মানুষের কাছ থেকে পাওয়া আমার গরু জীবনেরর এ এক বিচিত্র নির্মম কলঙ্কময় অভিজ্ঞতা। মুখ দিয়ে রক্ত পরছিল দেখে মুখের মধ্যে বরফ দিয়ে মুখ বেঁধে রাখা হল। সে মহা যন্ত্রনার কথা অন্তঃত মানুষকে বুঝানো যাবে না। আর বুঝাতে চাইও না। রাতে শুনলাম বাংলাদেশে গরুর বানান পাল্টে গোরু করা হয়েছে। কারন গোমূর্খ বানানে শুবিধা হয়। আমাদের নামের বানান পাল্টে লাভ কি ? আমাদের জীবন যন্ত্রনার বিষয়টি পাল্টানো দরকার। গোরুদের এ যন্ত্রনা দিয়ে কোরবানী দেওয়া হারাম ঘোষনা করে দিলে হয়তো কিছুটা রেহাই পাওয়া যেতে পারে। কোরবানীর কথাটা গাবতলী হাটে এসে শুনেছি। পরের দিন সকালে আমাদের শিংয়ে এবং গলায় সুন্দর দুটো রঙ-বেরঙের কাগজ ফুলের মালা পরানো হলো। এক কথায় আমাদেরকে এক আকর্ষনীয় বিউটিফুল ষাঁড়ে রূপান্তরিত করা হলো। সকালে সুর্য উঠার পরেই আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো ঢাকার গাবতলী’র মুল হাটে। গোয়লন্দ ঘাটে এসেই গবতলী হাটের নাম শুনে ফেলেছি। শুধু বুঝতে পারছিলাম না কেন আমাদেরকে গবতলী হাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর কেনই’বা আমাদেরকে বিউটি পার্লারে নিয়ে সাজানো হলো। বোঝার বিষয়টা অবশ্য আর বেশীক্ষন গোপন থাকলো না। শুনাশুন জানতে পারলাম ঐ দিন নাকি কোরবানীর শেষ হাট। রাতেই কোরবানীর কথা শুনেছি কিন্তু বিষয়টা বুঝে উঠতে পারি নাই। এবার কারবানীর কথা কানে আসতেই আমার পিলে চমকে উঠলো। বুকের মাঝে চিন্ চিন্ করে ব্যাথা অনুভব করতে থাকলাম। কুরবানী মানেই ভারতে’র বলি দেওয়ার মত একটা ভয়ংকর ঘটনা। মনে হচ্ছিল দড়ি ছিঁড়ে দৌড়ে পালিয়ে যাই। কিন্ত অতিশয় শক্ত মোটা দড়ি দিয়ে একটা খুঁটির সাথে আমাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। পালানোর কোন সহজ উপায় নাই। কোরবানীর গল্পটা গত রাত্রে আমার সাথী বাঙালী বন্ধুর কাছ থেকে শুনেছি। কোরবানীটা নাকি মুসলমানদের একটা ধর্মীয় রীতি। তোমার প্রিয় পশুকে অতি যত্নের সাথে কোরবানী দাও। এমনটাই নাকি ধর্মের নিয়ম। ভারতের হরিয়ানা থেকে আমাদেরকে অবৈধ পথে নিয়ে এসে টাকার জোরে জবাই করে মাংস খাওয়া যায় বটে কিন্তু ধর্মীয় দৃষ্টিতে এ’ভাবেতো কোরবানী জায়েজ হওয়ার কথা না। আরও শুনেছি যে আমাদেরকে অবৈধ পথে ভারত থেকে নিয়ে এসে আমাদের মাংস খাওয়ার পর চোরাই পথে আবার আমাদের চামড়া ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কি নির্মম কি মর্মন্তুদ ঘটনা। আমি গরু হলেও আমার সাধারন জ্ঞানে বুঝি যে এ ভাবে কিছুতেই ধর্মের নামে কুরবানী জায়েজ হতে পারে না এবং হয়তো হয়ও না। সারা দিন আমাকে হাতাহাতি করার পর সন্ধ্যার দিকে আমার দামদর ঠিক হয়ে গেলো। বিক্রি হয়ে গেলাম ঢাকার এক ধনবান ক্রেতার কাছে। এবার বুঝতে পারলাম আর রক্ষা পাওয়া গেল না। এখন শুধুই নিশ্চিত মৃত্যুর প্রহর গুনা ছাড়া আর কোন উপায় নাই ? সকাল হলেই নিজের জীবন উৎস্বর্গ করে নতুন মালিকের পুন্য অর্জনে আমাকে সহায়তা করতে হবে। জীবন দেব আমি আর পুন্যি হবে মালিকের ? কী অদ্ভুত পুন্য কাজ করার ব্যবস্থা। মালিক অবশ্য হাটে আসেন নাই। শুনা গেল তিনি নাকি খুব মহা ব্যাস্ত একজন বড় মাপের রাজনীতিবিদ। তার বিরুদ্ধে ভয়ানক দূর্নীতির অভিযোগ থাকায় তিনি নিজে হাটে আসেন নাই। মালিকের লোকজন আমার গলার দুই পাশে ফাঁসির মত করে দড়ি বেঁধে নিলো। এরপর দুইজন টান টান করে দড়ি ধরে রেখে পেছন থেকে আরেকজন সপাং সপাং করে পিটাতে পিটাতে মালিকের অতি প্রিয় পশুকে কোরবানী দেওয়ার জন্য মালিকের বাড়ীতে নিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে আঘাতে আঘাতে আমার শরীর কিছুটা ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে। বিক্রেতা ঐ ক্ষত জায়গা গুলোতে লাল নীল রঙ মাখিয়ে আরও উজ্জ্বল্য করে দিয়েছে। ভাবলাম রাতে মালিক এসে আমার নাদুস নুদুস শরীরটা দেখে আহল্লাদে একেবারে আটখান কিংবা অতি আহল্লাদে আট দুগুনে ষোলখান হয়ে যাবেন। আমার শরীরের উপরে হাত বুলিয়ে আমাকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করবেন যে কোরবানী হওয়ার আগে আমার কোন শেষ ইচ্ছা টিচ্ছা আছে কি না। কিন্ত দুভার্গ্য। সারা রাতের মধ্যে আমার প্রিয় মালিক একটি বারের জন্যও আমাকে দেখতে আসলেন না। শুনলাম আমার মালিক মহোদয় নাকি তিন তলার বিশাল বেলকুনির ইজি চেয়ারে হেলান দিয়ে সারারাত বিদেশী বেয়ার খেয়ে বুদ হয়ে পরে আছেন। কারন দুদুক নামের কি যেন একটা বড় মাপের অফিস তাকে দূর্নীতির দায়ে তলব করেছে। এমন কথাই রাতে কানা ঘুষা হচ্ছিল দেখে জানতে পারলাম। রাত্রে মালিকের আলিশান বাড়ীর সামনের পাকা রাস্তায় একটা বিদ্যুৎ-এর খুঁটির সাথে আমাকে শক্ত করে বেঁধে রাখা হলো। ক্ষুধায় জীবন বের হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা। তিন চার দিনের ক্লান্তিতে শরীর একেবারে অসার হয়ে পরায় একটু ঘুমের ঝুল এসেছিল। হঠাৎ কয়েকজন হকারের গগন বিদারী চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে গেল। তখন মধ্য রাত। হকাররা ১০-১২ টি দেশী জাতের গরু হাটায়ে নিয়ে চিৎকার করে বলছে “গরু রাখবেন গরু ? দেশী জাতের এক নাম্বার সার বিহীন ইনজেকশন দেওয়া ছাড়া গরু ছিলো। অল্প দাম পাইকেরী রেট। হকারদের সাথের গরু গুলোর হাঁটার মত অবস্থা নাই। কিন্তু নিরুপায়। গরু বিক্রি হচ্ছে না। গরু বিক্রি হচ্ছে না কেন ? পরে অবশ্য রাস্তার লোকজনের কথায় বুঝতে পারলাম ভয়ানক করোনার কারনে গররু দাম পরে যাওয়ার কারনে হাটে গরু বিক্রি হচ্ছে না। এরপর নাকি শেয়ার বজারের লুটপাট,ঘুষের টাকা ধরা পরা, দেশে গনদূর্নীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকা লা-পাত্তা হওয়া, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারীর হাজার হাজার কোটি টাকা গায়েব হওয়া এবং সর্বপরি লুটপাটের টাকার বিষয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে কেউই কোরবানীতে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। আহা আমি যদি না বেচার দলে পরতাম। কিন্ত সে আশা শেষ । রাত্রেই আমার ভাগ্য নির্ধারন হয়ে গেছে। সকালে আমার মালিকের কর্মচারীরা মিলে আমাকে ভাল করে গোছল করিয়ে নিলো। ধীরে ধীরে কোরবানীর সময় ঘনিয়ে আসতে থাকে। বিগত জীবনের অনেক স্বৃতি মনের কোনে ভেসে উঠছিল। মায়ে’র কথাটা খুব বেশী করে মনে পড়তে থাকে। জন্মের পর আমার কাছে আসার জন্য আমার মা একজন বয়সী লোককে গুতো মেরে একেবারে রক্ত বের করে দিয়েছিল। আজ আমি মৃত্যুর মুখোমুখি। আজ আমার কাছে মা নেই। শেষ পর্যন্ত আমার শেষ মলিকেরও দেখা পেলাম না। যার নামে তার প্রিয় পশু কোরবানী হচ্ছে তার সাথে আমার সাক্ষাৎ হবে না। এটা যে কত কষ্টের অনুভূতি কত বেদনার অনুভুতি তা আজ কাকে বোঝাবো ? আমার দু’চোখ দিয়ে গরম পানি গড়িয়ে পরতে লাগলো। আমি নির্জীব, নির্বাক,নিস্তব্দ। ধীরে ধীরে আমার শেষ সময় ঘনিয়ে আসতে থাকে। আমার ক্রেতা মালিক সাহেব নাকি মন খারাপের জন্য ঈদের মাঠেও যান নাই। কাজেই আমার কাছে তিনি আসবেন না সেটা বুঝে ফেললাম। কিন্তু পরপারে গিয়ে আমার মালিকের পক্ষে স্বাক্ষী দিবো কি ভাবে? এ কথা ভাবতে ভাবতেই আমার পা’ বেধে আমাকে পাকা রাস্তার উপরেই শুইয়ে দেওয়া হলো। আমি আর বাধা দিলাম না। জানি বাধা দিয়ে কোন লাভ নেই। বিশাল লম্বা কোর্তা পরা হুজুরের হাতে রক্ত মাখানো তরবারী। বোঝা গেল আরও বেশ কয়েক সাথীকে জবাই করে তবেই কিনা আমার সামনে এসে হাজির হয়েছেন উনি। আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলি আর ভাবতে থাকি আমার চামড়া আবার চোরাই পথে ভারতে পাচার করে দেওয়া হবে। হয়তো বা ভারতের শ্রী-লেদারে আমার সর্বশেষ ঠাঁই হলেও হতে পারে। আমি আজীবন এই মানুষেরই জুতা স্যান্ডেল কিংবা লেদার ভ্যানটির সাথে স্বৃতি হয়ে বেঁেচ থাকবো। আমার গলা টান টান করে ধরে উর্দ্ধমুখি করে আমার শ্বাস নালি চেপে ধরা হয়েছে। আমি আর নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। জীবন সায়হ্নের শেষ চেষ্টা হিসাবে শরীরের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও ছুটে যেতে ব্যার্থ হলাম। হঠাৎ কানে ভেসে আসে বিসমল্লিাহির রাহমানির রাহিম। মৃত্যু পথে এ এক মধুর বানী আমার কর্ন কুহরে প্রবেশ করলো। আর এক মুহুর্ত দেরী হলো না। আমার গলায় ধারালো ছুরি চালিয়ে দেওয়া হলো। মনে হচ্ছিল আমি এক মহা-জাগতিক স্বপ্নের জগতে চলে যাচ্ছি। মনে হলো চারিদিকে শুধু বিদ্যুৎ চমকানোর মত হলুদ রঙের মহা জাগতিকের অনন্ত বিস্ফোরন। ফিনকি দিয়ে আমার গলা থেকে গরম রক্ত বের হয়ে যাচ্ছে। গরম রক্তের ধারা আমার চোখের উপর দিয়ে গড়িয়ে পরতে থাকে । অনেক চেষ্টা করেও আমি আর শেষ শ্বাসটা নিতে পারলাম না। শুধু গোঁংরানোর শব্দ হতে থাকলো। ধীরে ধীরে আমি অসার হয়ে পরলাম। এরপর——-???

Facebook Comments