রাজবাড়ী, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০

যেভাবে ধরা পড়লেন সাহেদ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০২০ ৮:০৯ : অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:রাজকন্ঠ ডট কম

করোনা শনাক্তের জন‌্য নমুনা নিয়ে পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় গত ৬ জুলাই অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় আটজনকে আটক করা হয়। ওই দিন রাতেই রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. সাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে র‌্যাব। এর পর সাহেদের অন‌্যান‌্য প্রতারণার তথ‌্যও বেরিয়ে আসে।

মামলা দায়েরের পর আত্মগোপনে চলে যান সাহেদ। তাকে গ্রেপ্তার করতে ৯ দিন ধরে চেষ্টা করছিল র‌্যাব। কিন্তু সাহেদ ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। বারবার তার কাছাকাছি গিয়েও তাকে ধরতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সিলেট বিভাগে সাহেদ অবস্থান করছেন ও সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে পারেন, এ আশঙ্কায় ১৩ জুলাই তৎপরতা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সিলেট নগরীর পাঠানপাড়ায় সাহেদের শ্বশুরবাড়িতেও নজরদারি করা হয়।

সাহেদের মুঠোফোন ট্র্যাক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে, তিনি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থান করছেন। ১৩ জুলাই তার অবস্থান ছিল কমলগঞ্জের শমশেরনগরে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার চাতলাপুর সীমান্ত দিয়ে সাহেদ ভারতে পালিয়ে যেতে পারেন, এ সন্দেহে আকস্মিক পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। বিকেল থেকে শমশেরনগর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় তৎপরতা বাড়ানো হয়। সাহেদের অবস্থান অনুমান করে জেলাজুড়ে তল্লাশি চালায় র‌্যাব ও পুলিশ। জেলার সব সীমান্ত এলাকা, রিসোর্ট, হোটেল-মোটেলেও নজরদারি বাড়ানো হয়। কিন্তু সেখানেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারপরও হাল ছাড়েনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খবর পায়, পিতৃভূমি সাতক্ষীরা দিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছেন সাহেদ। এ খবরে দিনরাত সেখানে অভিযান চালানো হয়। সাতক্ষীরা সীমান্তে যাওয়ার পথে প্রায় সব গাড়িতে মঙ্গলবার রাত থেকে তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পক্ষে সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়। পাশাপাশি চলে গোয়েন্দা নজরদারি।

রাতভর অভিযান চালানোর পর সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার শাখরা কোমরপুর গ্রামে লবঙ্গবতী নদী তীরে অবশেষে ধরা পড়েন সাহেদ। ভোর ৫টার দিকে নদী পেরিয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় র‌্যাব তাকে ধরে ফেলে। তিনি র‌্যাবের নাগালের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় তিনি নদী তীরে কাদায় পড়ে যান।

গ্রেপ্তার এড়াতে সাহেদ ছদ্মবেশ ধারণ করেন। গোফ কামিয়ে ফেলেন তিনি। বোরকা পরে চেহারা লুকানোর চেষ্টা করেন।

গ্রেপ্তারের পর হেলিকপ্টারে করে সাহেদকে সকাল ৯টার দিকে ঢাকায় আনা হয়। তাকে র‌্যাবের সদর দপ্তরের নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সাহেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরায় তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব।

উল্লিখিত মামলায় এখন পর্যন্ত সাহেদসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সাহেদের অপকর্মের অন‌্যতম সহযোগী মাসুদ পারভেজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এর আগে সাহেদের সহযোগী তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলী, রিজেন্ট হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহসান হাবীব হাসান, হেলথ টেকনিশিয়ান আহসান হাবীব, হেলথ টেকনোলজিস্ট হাতিম আলী, রিজেন্ট গ্রুপের প্রকল্প প্রশাসক মো. রাকিবুল হাসান ওরফে সুমন, মানবসম্পদ কর্মকর্তা অমিত বনিক, গাড়িচালক আবদুস সালাম ও হাসপাতালের কর্মী আবদুর রশিদ খান ওরফে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুরুতে মামলাটি তদন্ত করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। মঙ্গলবার মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হন্তান্তর করা হয়।

 

Facebook Comments