• বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

জলাতঙ্ক ও সতর্কতা,পরামর্শক ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

Reporter Name / ২০৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০

জলাতঙ্ক (রেবস):
জলাতঙ্ক হল (আরএনএ) শ্রেণীর অন্তভূক্ত,, Zonnotic রোগ (অর্থাৎ এই
রোগ টি প্রানী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায় ।
রেবডো ( রেবিস ) ভাইরাস এ রোগের মুল কারণ ।

ইহা লিসা ভাইরাস গ্রুপ এর অন্তর্ভুক্ত ।
লালা গ্রন্থি এরনিঃসৃত রস(লালা)
স্নায়ুতে এ ভাইরাস অবস্থান নেয় এবং
যেকোন ভাবে সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ
করলেই -ভাইরাসটি আক্রান্ত স্থানের নার্ভটিস্যুতে
প্রবেশ করে এবং প্রতিদিন ১২-২৪ মিমি করে
ব্রেইন ও মেরুদণ্ড কর্ড এর দিকে এগুতে থাকে।
এই ভাইরাস ব্রেইন টিস্যুতে প্রবেশ করলে
মৃত্যু ১০০% নিশ্চিত।

কিসের মাধ্যমে হয়:
শতকরা ৯৩% কুকুড়ের কামড়ে মানুষ এ রোগ হয়। ৭% বিড়াল,শেয়াল,বানর,বাদুর,গরু,বেজি ইত্যাদি প্রাণীর কামড়ে হয়ে থাকে।

এখানে একটি কথা জেনে রাখা প্রয়োজন”
সুস্থ কুকুর বা প্রাণী কামড়ালে রেবিস হয় না ।
রেবিস ভাইরাসে আক্রান্ত কুকুর (পাগলা কুকুর)
বা অন্য কোনো রেবিস আক্রান্ত প্রাণী কামড়ালে বা ক্ষতস্থানে চেটে দিলে সে ব্যক্তি
রেবিসে আক্রান্ত হন,, ইহা নিশ্চিত ।

তারপর ও যদি কুকুরটি সম্পর্কে ১০০% নিশ্চিত
না হতে পারেন,, অথবা ১০ দিন পর্যবেক্ষণে
রাখতে পারেন,, যদি দেখা যায় কুকুর টি
১০ দিনের ভিতর মারা যায়নি ,তা হলে মনে
করা,, কুকুরটি রেবিস ভাইরাসে আক্রান্ত নয়,, আর যদি মারা যায়। তাহলে মনে করতে হবে কুকুরটি রেবিস্ এ আক্রান্ত ছিল।অনেক সময় মানুষ কামড় দেওয়া কুকুর কে মেরে ফেলে,,
সে ক্ষেত্রে একটু ও দেরি না করে,, রেবিস
ভ্যাকসিন দেওয়া জরুরী ।

লক্ষন ও আচরন :-.
সতর্কবাণী ( কুকুর কামড়ানোর ১০ দিন পর
(সাধারণত ৩ থেকে ৭ সপ্তাহের মধ্যে)
জলাতন্কের প্রথম লক্ষণগুলো দেখা দেয়৷ তাই
যে কোন ভাবে লক্ষণ প্রকাশের পূর্বে চিকিৎসা
শুরু করতেই হবে৷ )
লক্ষন নিরভর করে কামড়ের ধরন,স্থানের উপর
এটা হতে পারে ৪ দিন থেকে ১ বছর। তবে ৮১%
বেলায় ২০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই
জলাতঙ্কের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা
সবচেয়ে বেশি এবং জলাতঙ্কে আক্রান্ত রোগি
কুকুর কামড়ের দিন থেকে শুরু করে ৭০% রোগি
মারা যায় ৫৯ দিনের ভিতর ।

প্রথমত :- ২- ১০ দিনের মধ্যে – সাধারণ জ্বরের
মত, পা ম্যাজ ম্যাজ করা, মাথা ব্যথা, অবসাদ,
বমি বমি ভাব,,,খিদের অভাব, জ্বর ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।

এরপরই দেখা দেয় মারাত্মক লক্ষণ যার নাম
জ্বল +আতঙ্ক = জলাতঙ্ক।

এই রোগ টা এতই মারত্মক যে,,কোনো পরিক্ষা করে বুঝা যাবে না,,কোনো ব্যক্তি রেবিসে
আক্রান্ত কিনা,,তাই নাকি বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।

চিকিৎসা:
আক্রান্ত হয়ে গেলে এর কোন চিকিৎসা নেই।
তবে কামড়ের সাথে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া যায়। এবং টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এর প্রতিরোধ করা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে তিনটি ক্যাটাগরি তে ভাগ করা যায়..

ক্যাটাগরি ১
যারা বলেন কুকুর পাড়া দিয়েছে,চেটেছে
লেজের বাড়ি লাগছে,কিংবা নখের খুচা লাগছে
রক্ত পরে নাই,জ্বালা করে না। এসব গুলো
ক্যাটাগরি ১ এর অন্তভুক্ত।

*করনীয়: ভ্যাকসিন নেবার পয়োজন নেই।কোন
anti-septics দিয়ে পরিষ্কার করুন অথবা সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ক্যাটাগরি -২
যদি পশুর আঁচড়ের দাগ দেখা যায়, তবে কোনো
রক্তক্ষরণের ঘটনা না ঘটে, তাহলে ভ্যাকসিন দিতে হবে,,,ভ্যাকসিন দিতে হয় ৫টি। পশু
কামড়ানোর পরপরই টিকা নেওয়া উচিত এবং তা ৫ দিনের মধ্যে নিলেও হবে।

ভ্যাকসিনের সময় সুচি ঃ-
টিসিভি এর বর্তমান ডোজ ০.২
মিলি করে বাহুতে চামড়ার নিচে
১ম দিন,
৩য় দিন,
৭ম দিন ও
২৮তম দিনে দিতে হয়।
প্রেগন্যান্ট মহিলাকেও এটি দেয়া যাবে
.
ক্যাটাগরি -৩
কামড়ে যদি রক্ত বের হয়,দাত বসিয়ে দেয় মাংস
নিয়ে যায়,তবে ক্যাটাগরি -৩।অথবা ক্যাটাগরি ২
যদি মাথা,গলা, বুক,কাধে হয় তবে সেটিও ক্যাটগরি -৩ এর এর অন্তভূক্ত হবে।

ক্যাটাগরি -৩ হলে
Vaccination + Human RIG(Rabies IG) দিতে হবে।
আঁচড় বা কামড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে কাপড় কাচা
সাবান দিয়ে ১৫ মিনিট ধরে ধুতে হবে। মনে
রাখবেন,, ক্ষতস্থানে কোন সেলাই দিবেন না। বা
বরফ, চিনি, লবন ইত্যাদি ক্ষারক পদার্থ
ব্যাবহার না করা ভাল । শুধু অতিরিক্ত রক্তপাত
হলে সেটি বন্ধের ব্যবস্থা নিবেন,,, সেকেন্ডারি ক্লোজার হিসাবে ।

প্রথম ডোজের ভ্যাক্সিন দেয়ার সাতদিনের
মাঝেই এটা দিতে হবে।এটি ক্ষতস্থানে(২০IU/Kg) হিসেবে Intralessional (ক্ষতস্থানের চার
পাশে) বা ডেলটয়েডে ও দেয়া যায়।
সামাজিক কিছু কুসংস্কার বা কিছু ভ্রান্তধারণা::
কেউ কেউ মনে করেন পাগলা কুকুরে কামড়ালে
রোগীর পেটে কুকুরের বাচ্চা হয়ে যায়। যা
মোটেই ঠিক নয়।এটি এক ধরনের মানসিক
রোগ এর নাম Puppy Pregnancy Syndrome.
এটি সাধারনত রোগীর মনের চিন্তা।রোগী মনে
করেন যে কুকুরের বাচ্চা পাকস্থলিতে বড় হচ্ছে
বিশেষ করে পুরুষ রোগীরা।তারা মনে করে মনে
করে পুরুষাঙ্গ দিয়ে কুকুরের বাচ্চা হয়।
এটি একদম ভুল ধারনা, কুসংস্কার।

১.পরিবারের কারো এই রোগ হলে বা কুকুর
কামড়ালে আক্রান্ত ব্যাক্তির অবশিষ্ট খাবার খাওয়া উচিৎ নয়।
২.নখের আচর বা কামড় থেকে সতর্ক থাকুন।
প্রতিকার:
৩.পোষা প্রানি (, বিড়াল) কে রেবিসের টিকা দিন।

 

 

লেখকঃ ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক ও পরামর্শক
চেম্বার, পিপলস কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লালবাগ ঢাকা ১২১১
সিরিয়ালের জন্য ০১৯১৬৯৮২৫৪৩

 

Facebook Comments


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Recent Comments