রাজবাড়ী, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা

প্রকাশ: ১৭ জুন, ২০২০ ৮:১৯ : পূর্বাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক:রাজকন্ঠ ডট কম

গোপালগঞ্জে একের পর এক বেড়েই চলছে করোনা রোগীর সংখ্যা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত থেকে বাদ পড়ছেন না ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্য কর্মীরাও।

লকডাউন শিথিল করায় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানছেন না এই জেলার সাধারন মানুষ। যে যার মত করে বাইরে বের হচ্ছেন।

ইতিমধ্যে জেলায় চারশো ছাড়িয়েছে করোনা রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নতুন করে ২৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৪০২ জনে। এরমধ্যে ডাক্তার, নার্সসহ ৩৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে মুকসুদপুর উপজেলায় ৯ জন, সদর উপজেলায় ৫ জন, কোটালীপাড়া উপজেলায় ৪ জন, কাশিয়ানী উপজেলায় ৪ জন ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় একজন করেছে। আক্রান্তদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেয়ার পশাপাশি পরিবারের সদস্যদের হোম কেয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, জেলা থেকে মোট ৩ হাজার ৯৮৪ জনের নমুন সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট আক্রান্তদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গিপাড়া, মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলায় মোট ৬ জন মারা গেছেন। বাকীদের মধ্যে ১৮৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও ২১১ জন জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত ১৪ এপ্রিল রাত ১০ থেকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে লক ডাউন শুরু হয়। পরবর্তীতে লকডাউন শিথিল করলে নিয়ম-নীতি না মেনে কেউ ঘরেই থাকতে চাচ্ছেন না। তারা নানা অযুহাতে ঘরের বাইরে যাচ্ছেন। জেলা সদরে লকডাউনের নিয়ম-নীতি অনেকটা মেনে চললেও উপজেলাগুলোতে বেশীরভাগ জনসাধারণ তা মানতেই চাচ্ছেন না।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন শ্রমজীবী জানান, তারা দীর্ঘদিন ঘরে বসে ছিল লকডাউনের জন্য। তাদের ঘরে খাবার নেই। বাজার করার টাকা নেই। তাই তারা লকডাউন শিথিল করার সাথে সাথে কাজের খোঁজে রাস্তায় বেরিয়েছেন।

করোনা আক্রান্তে সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, লকডাউন শিথিল করার পর সাধারন মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। জেলার বিভিন্ন মার্কেট, দোকান খোলা থাকায় ক্রেতা ও বিক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Facebook Comments