রাজবাড়ী, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০

এমপি পাপুলের ৪ ঘনিষ্ঠজনের সম্পদের তথ্য চায় দুদক

প্রকাশ: ১৬ জুন, ২০২০ ৮:২৬ : পূর্বাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক:রাজকন্ঠ ডট কম

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে তার ঘনিষ্ঠ চার ব্যক্তির সম্পদের খোঁজ নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ওই চার ব্যক্তি হলেন- জামশেদ কবীর বাকি বিল্লাহ, নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, সালাহউদ্দিন টিপু ও আরিফ।

সোমবার (১৫ জুন) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তাদের সম্পদের তথ্য চেয়ে ঢাকা ও লক্ষীপুরের রায়পুরের সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে চিঠি পাঠিয়েছে অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।

দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র রাইজিংবিডিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ব্যক্তিদের পরিচয়ের বিষয়ে দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সম্পদের তথ্য চাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তারা লক্ষীপুর স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাংসদ পাপুলের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। দুদকের কাছে তথ্য আছে, পাপুলের সাথে তাদের ব্যবসায়ীক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের নামেও অবৈধ সম্পদের তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাপুলের আজকের অবস্থানের পিছনে ওইসব ব্যক্তিদের যোগসাজশ রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। এ কারণে তথ্য চাওয়া হতে পারে।’

এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা পরিচালক প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় অনুসন্ধান কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেবেন। এটা অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ের রুটিন কাজ। বিভিন্ন নথিপত্র চেয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা চিঠি দিয়েছে বলে জেনেছি। বিস্তারিত পরে জানাতে পারব।’

এর আগে গত ৯ জুন অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের পাঠানো চিঠিতে পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও সেলিনার বোন জেসমিনের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, টিআইএন নম্বর, আয়কর রিটার্নসহ ব্যক্তিগত সকল নথিপত্র তলব করা হয়েছিল।

ইতোমধ্যে কিছু নথিপত্র দুদকে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। তবে সকল নথিপত্র এখনও পাওয়া যায়নি। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক কাজী সহিদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গ্রাহককে লোন বরাদ্দ করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ মানিল্ডারিং করে বিদেশে পাচার এবং শত শত কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানধীন রয়েছে।

গত ৬ জুন (শনিবার) রাতে কুয়েতের মুশরেফ আবাসিক এলাকা থেকে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গ্রেপ্তার করেকাজী সহিদ ইসলাম পাপুলকে। তার বিরুদ্ধে দেশটিতে মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর এমপি পাপুলকে আদালতে হাজির করলে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘মানব ও অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, এমন কয়েক’শ ব্যক্তির তালিকা করেছে কুয়েত সরকার। সেই তালিকা ধরেই সম্প্রতি বিতর্কিত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ। সেই অভিযানেই গ্রেপ্তার হন বাংলাদেশের এমপি পাপুল।

অভিযোগ রয়েছে, সাংসদ পাপুল ব্যবসার আড়ালে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। এ ছাড়া ২০১৬ সালে দেশ থেকে ২৮০ কোটি টাকা হুন্ডি ও বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাচার করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কয়েকজন ব্যাংক মালিক অর্থ পাচারে পাপুলকে সহযোগিতা করেছেন। ৫০ কোটি টাকার শেয়ার কিনে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন পাপুল। স্ত্রীর নামে একই ব্যাংকের ৩০ কোটি টাকার শেয়ার কিনে অংশীদার হয়েছেন।

গুলশান-১ এর ১৬ নম্বর সড়কে গাউসিয়া ডেভেলপমেন্টের প্রকল্পে মেয়ে ও স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট, গুলশান-২ এর পিংক সিটির পেছনে গাউসিয়া ইসলামিয়া প্রকল্পে স্ত্রীর নামে ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। স্ত্রী ও নিজের নামে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৯১ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

Facebook Comments