রাজবাড়ী, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০

বাবা-মায়ের পাশে দাফন করা হবে আবদুল্লাহকে

প্রকাশ: ১৪ জুন, ২০২০ ১:৪২ : অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক:রাজকন্ঠ ডট কম

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর মরদেহ নিজ জেলা গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে রোববার বাদ আসর।

সদর উপজেলার মধুমতি বিধৌত কেকানিয়া গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মা-বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

এদিকে শনিবার রাতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর মৃত্যুতে গোপালগঞ্জের সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে।

রোববার সকাল থেকেই স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনরা শহরের কলেজ রোডের তার বাসভবনে খোঁজখবর নিতে আসেন। কিন্তু বাড়িতে কেউ না থাকায় সেখানে কেউ অবস্থান করেননি।

সকাল ৮টায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর গোপালগঞ্জের বাড়িতে বসবাসকারী তার অত্যন্ত স্নেহধন্য দীপক সরকারের (৩২) সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, রাতে মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই আমরা নির্বাক হয়ে গেছি। শনিবার সকালে ফোনে মন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়। তখন তিনি তার শরীরিক অবস্থা একটু খারাপ বলে জানান।

ওই সময় তিনি আমাকে সব কিছ খেয়াল রাখার কথাও বলেন। এভাবে উনি চলে যাবেন, তা বিশ্বাস করতেও হচ্ছে বলে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন।

দীপক সরকার আরও বলেন, রাতেই মন্ত্রীর ছোট ভাই শেখ মোহাম্মদ আবু দাউদসহ নিকটাত্মীয়রা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সহকারী শেখ নাজমুল হক সৈকত বলেন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মরদেহ গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা করবে।

এর আগে সেখানে তার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফল সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মরদেহ গোপালগঞ্জে পৌঁছে বাদ আসর সদর উপজেলার মধুমতি বিধৌত কেকানিয়া গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মা-বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ দুই স্ত্রী, ৯ মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর আস্থাভাজন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহচর গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শেখ রুহুল আমিন বলেন, শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ছিলেন আওয়ামী লীগের মাঠের একজন ত্যাগী নেতা ও দুঃসময়ের কাণ্ডারি। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে সব লোভ, লালসার ঊর্ধ্বে থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল বাশার খায়ের বলেন, শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে হারিয়ে আমরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছি। তিনি ছিলেন আমাদের নেতা ও অভিভাবক। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘসময় তার সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে।

সুখে ও দুঃখে সবসময় পাশে পেয়েছি। পেয়েছি সহযোগিতা ও পরামর্শ। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজনৈতিক কারণে ছোটবেলা থেকে শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সান্নিধ্য পেয়েছি।

তিনি ছিলেন দক্ষিণবঙ্গের আওয়ামী লীগের নেতা এবং একজন গুণী মানুষ। কোটালীপাড়ার রাজনীতিতে তার অবদান আমরা সারাজীবন স্মরণ করব। মহান আল্লাহতায়ালা এ মহান নেতাকে বেহেশতবাসী করবেন এ দোয়া করি।

Facebook Comments