রাজবাড়ী, ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০

ক্ষুদ্রঋণ পাওয়ার আশায় প্রতিষ্ঠান কবে খুলবে সেদিকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গ্রহকরা

প্রকাশ: ১৪ জুন, ২০২০ ১০:২৭ : অপরাহ্ণ

মাসুদ রেজা শিশির ॥ রাজকন্ঠ ডট কম

সরকার জুন মাস পর্যন্ত কিস্তি আদায় নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমন খবর ফেইসবুকে চাওর হয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। কেউ কেউ এ নিয়ে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। সরকার করোনা প্ররিস্থিতি মাথায় রেখে ক্ষুদ্রঋণ আদান প্রদানের অনুমতি প্রধান করেছেন সেই সাথে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মাঠ পর্যায়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। এ দিকে অনেক এনজিও কর্মী মাঠ পর্যায়ে কিস্তির টাকা আনতে গিয়ে লাঞ্চনারও স্বীকার হচ্ছেন এমন সংবাদও পাওয়া গিয়েছে। এদিকে সরকার ৩০ জুন পর্যন্ত কোন গ্রাহককে চাপ দিয়ে কিস্তি আদায় না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অপর দিকে গ্রাহকরা কিস্তি দিলে তা গ্রহণ করে অন্য গ্রাহকদের লোন প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এনজিও প্রতিষ্ঠান গুলো। এনজিও প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের নিয়ন্ত্রক সরকারী সংস্থা, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) দ্বারা কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠান গুলোর জন্যই এ নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রহকের সাথে কথা বলে জানাগেছে করোনা প্রতিস্থিতির কারনে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। একই সাথে টাকা পয়সার অভাবে কোনো লাভ জনক খাতে বিনিয়োগ করতে পারছে না, তারা ক্ষুদ্রঋণ পাওয়ার আশায় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কবে খুলবে সেদিকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এমন কথাও আমাদেরকে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ডেভেলপমেণ্ট ফর পুওর পিপলস ডি.পি.পি’র প্রধান নির্বাহী খান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম নকীব বলেন সরকারের নির্দেশ মোতাবেকই ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলো কাজ করে চলছেন। সরকার ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেটা হলো প্রতিষ্ঠান গুলো যাতে কাউকে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধে জোর জবরদস্তি না করে, ক্ষুদ্র ঋণ গ্রাহকরা ৩০ জুন পর্যন্ত যে ভাবে ঋণ পরিশোধ করবে সেভাবেই নিতে হবে এবং এসময়ে গ্রাহকদের ঋণ খেলাপি করা যাবে না, এটা সব প্রতিষ্ঠানই মানতে বাধ্য। আর একটা কথা কিস্তি আদায় করে কোন প্রতিষ্ঠানই সেই টাকাগুলো তাদের বাড়ি নিয়ে যায় না, ঘরে জমা করে রাখেনা, তারা সেগুলো আবার ক্ষুদ্র ঋণ গ্রাহকদের মাঝেই সহজ শর্তে বিতরণ করে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকদের জোর জবরদস্তি না করে, বুঝিয়ে যদি কিস্তির টাকা আদায় করতে পারবে। তিনি আরো বলেন ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দেশের ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ বিভিন্ন ভাবে উপকৃত হচ্ছেন। দেশের সব ব্যাংক মিলে যে টাকা এই ঋণ খাতে বিনিয়োগ করেছে তার চাইতে বহু টাকা বিনিয়োগ করেছে এই ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান গুলো। ব্যাংক গুলো ঋণ দেয় বড়লোক দের, বড় বড় ব্যবসায়ীদের। আর এই এনজিও গুলো সহজ শর্তে ঋণ দেয় শহর ও গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের, কৃষকদের, খেটে খাওয়া মানুষের। আর এই ঋণ নিয়ে আজ অনেকেই স্বাবলম্বী। দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলছে এই ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) গুলো। তিনি বলেন এনজিও কর্মীরা নিয়ম মেনেই তাদের কাজ পরিচালনা করে চলছেন আপনারা সমাজের সচেতন মানুষ কোন এনজিও কর্মীর সাথেই আপনারা অসাদআচরণ করবেন না এটা আমার অনুরোধ।

Facebook Comments