রাজবাড়ী, ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১

দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে পাংশা বিদ্যুৎ অফিস বিলের গ্যাড়াকলে প্রায় ১ লাখ গ্রাহক অফিসের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৮ মে, ২০২০ ৯:৩৫ : অপরাহ্ণ

রতন মাহমুদ :রাজকন্ঠ ডট কম

সরকারের অগ্রাধিকার উদ্যোগ বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে দেশব্যাপী বিদ্যুৎ খাতের উত্তরণ এখন দৃশ্যত। লোডশেডিং, যান্ত্রিকত্রুটি, সিস্টেমলস, মিটারচুরি, সংযোগ ভোগান্তি ইত্যাদি নামের সমস্যাগুলির স্থান এখন যাদুঘরে। অথচ নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার গ্যাড়াকলে গ্রাহক ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতি আজও পর্যন্ত নিত্য সঙ্গী হয়ে আছে পাংশা উপজেলাধীণ প্রায় ১ লাখ গ্রাহকের।

তাদের অভিযোগ বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের তুলনায় কিঞ্চিত উত্তরণ হলেও প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উর্ধ্বে থেকে দিনের পর দিন মাস বা বছর ধরে মনগড়া ভৌতিক বিলের খড়গ চাপিয়ে নানামুখি ভোগান্তিসহ গ্রাহকের পকেট কেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ  ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার সাফলাইয়ে পাংশা অফিস (আবাসিক প্রকৌশলী বিদ্যুৎ পিডিপি )এর বিরুদ্ধে।

এমনকি করোনাকালে গ্রাহক স্বার্থে দেওয়া সরকারি নির্দেশও মানা হয়নি। তবে বিল ভোগান্তির সত্যতা স্বীকার করে পরবর্তী মাসে তা ঠিক করে দেওয়ার কথা জানালেন কর্তৃপক্ষ। যদিও বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না কোনো গ্রাহক।

পাংশা উপজেলার পৌরশহরের মাগুড়াডাঙ্গী গ্রামের কৃষি মজুর আবাসিক গ্রাহক জসিম আলীর অভিযোগ, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি-মার্চ এই তিন মাসের বিল যোগ করে তিন ভাগ করলে গড় বিল হয় ৩৫১ টাকা অথচ এপ্রিল মাসে অফিসে বসে গড় বিলের নামে আমার বিল করে দিয়েছেন ৫৭৩ টাকা। এটা কোন জাতীয় গড় বিল? বিদ্যুৎ একবার যে বিলের বোঝা গ্রাহকের ঘাড়ে চাপায় তা আদায় করেই ছাড়ে।

শহরের উপজেলা সড়কের গ্রাহক স্কুল শিক্ষক আতাউল্লাহ রাজকন্ঠকে বলেন, এ যেন গোদের ওপর বিষফোঁড়া, একদিকে করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত লকডাউন বা সাধারণ ছুটিতে কর্মহীন ঘরবন্দি মানুষের আর্থিক ও খাদ্য সংকটে জীবন-জীবিকা নাভিশ্বাস। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিলে বিলম্ব মাসুল মওকুফসহ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে সরকারি নির্দেশনাকেও মানছেন না। গড়বিলের কথা বলে দ্বিগুন বা তিনগুন বেশি ভৌতিক বিলের বোঝা গ্রাহকের ঘাড়ে চাপিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ।

সময়মতো বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলেই লাইন বিচ্ছিন্ন করবে এবং পুনঃসংযোগ দেওয়ার সময় গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির সঙ্গে ভোগান্তিও রয়েছে।

উপজেলার মৈশালা এলাকার করিম শেখ রাজকন্ঠকে বলেন,  দীর্ঘদিন ধরে মাঝে মধ্যেই এমন মনগড়া ভৌতিক বিলের ঘানি টানছেন। নিয়ম না মেনে এভাবে অতিরিক্ত বিলের টাকা আদায় করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

তিনি বলেন, আমি ২৫ বছর আগে বিদুতের আবাসিক সংযোগ নিয়েছি। এভাবে অসংখ্যবার তাদের মনগড়া বিলের অতিরিক্ত টাকা শোধ করতে হয়েছে। ওরা একবার যে বিল গ্রাহকের হাতে ধরিয়ে দেয় তা ঠিক হোক বা ভুল হোক ওই বিল সংশোধন করার কোন উদাহরণ আমার চোখে পড়েনি। জেনে শুনে ইচ্ছা করেই এভাবে অতিরিক্ত বিল করে তা আদায় করে যাচ্ছেন। সীমাহীন এই ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির প্রতিকার চায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন মহলের কাছে।

উপজেলার পারনারায়নপুর এলাকার হাবিবুর রহমান বলেন, করোনার কারণে বাড়ি আসবে না বলে মিটার না দেখে বিল করেছে । তবে বিলের কাগজ ঠিকই বাড়ি বাড়ি বিলি করেছে। এটা একটা ধোঁকাবাজি।

এছাড়া এসব ভুতুড়ে বিল সংশোধন করতে পাংশা বিদ্যুৎ অফিসে এসেও হয়রানির শিকার হন গ্রাহকরা। সেইসঙ্গে অদৃশ্য কারণে ডিমান্ড চার্জের নামেও নেওয়া হয় অতিরিক্ত টাকা।

রাজকন্ঠকে  ভৌতিক বিল করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন পাংশা বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক  কর্মকর্তা পরিমল কুমার বিশ্বাস ।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম’র সাথে পাংশা বিদ্যুৎ অফিসের চলমান কার্যক্রম নিয়ে কথা  বলতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অসম্মতি প্রকাশ করেন।

 

 

Facebook Comments