রাজবাড়ী, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০২২

পাংশায় মাস্ক ব্যবহার না করেই বাজার আসছে মানুষ ॥ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না অনেকেই

প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২০ ৭:৫৭ : অপরাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

এস,কে পাল,রাজকন্ঠ ডট কম

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সারাবিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মাস্ক ব্যবহার করে চলাচলের জন্য বলেছেন। এছাড়াও কিছুক্ষণ পর পর সাবান পানি দিয়ে হাত ধৌত ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। প্রথম দিকে সবরকম স্বাস্থ্যবিধি মানতে শুরু করেন সকলেই। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে এসকল জিনিসের ব্যবহার কমে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকার সারাদেশ লকডাউন ঘোষণা করেন এবং জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে নিষেধ করেন।

সরকারের ঘোষণার পর থেকেই জেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে দেশের সকল উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য সচেতনতায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালায়।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকেই রাজবাড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এমপি ও তার জ্যেষ্ঠ পুত্র আশিক মাহমুদ মিতুল, পাংশা উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান, পাংশা মডেল থানা পুলিশ ও পাংশা পৌরসভা জনসচেতনতায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালান।

এমপি জিল্লুল হাকিম ও তার পুত্র আশিক মাহমুদ মিতুলের নির্দেশনায় উপজেলা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতৃবৃন্দ জনসাধারণের মাঝে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস ও জনসচেতনাতমূলক প্রচারপত্র বিলি করেন।

পাংশা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদ হাসান ওদুদ উপজেলাবাসীকে সচেতন করতে উপজেলা এলাকায় মাইকিং করেন।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপজেলাবাসীকে বাইরে বের না হওয়ার জন্য ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিয়মিত মাঠে কাজ করেন। তার কঠোর পরিশ্রমের ফলে মানুষ সকল স্বাস্থ্যবিধি মানতে শুরু করে।

পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ্ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় পাংশা থানা এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্টে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে থানা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা করেন। বাজারে আগতদের মাস্ক ব্যবহার করার জন্য সচেতন করেন এবং মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করেন।

পাংশা পৌরসভার মেয়র আব্দুল আল মাসুদ পৌর এলাকায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তবে গত ১০ মে থেকে সীমিত পরিসরে দোকানপাট খুলে দেয়ায় কোনকিছুই মানছেন না পাংশার মানুষ। প্রতিনিয়তই তারা ভীড় জমাচ্ছেন পাংশা বাজারের দোকানগুলোতে। মানছেন না কোন স্বাস্থ্যবিধি। কোন ব্যবসায়ীদেরকেও স্বাস্থ্য সচেতনতায় কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

সরকার লকডাউন শিথিল করায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মানুষজন ঘর থেকে বের হয়ে পড়েছেন। ব্যবহার করছেন না মাস্ক।

বুধবার সকালে পাংশা বাজারে দেখা যায় অনেকেই বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছেন তবে তাদের মুখে মাস্ক নেই। অনেক ভ্যানচালকরাও ব্যবহার করছেন না মাস্ক।

এ বিষয়ে পাংশা পৌরসভার মেয়র আব্দুল আল মাসুদ পাংশা কালী বাড়ি মোড়ে একটি মাইকের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। মাস্ক ব্যবহার ছাড়া কোন ক্রেতার কাছে মালামাল বিক্রয় করতে নিষেধ করছেন।

তার এ প্রচারও যেন ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা সকল সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

তবে এভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে পাংশা বাজারে জনসাধারণের আসা-যাওয়া বাড়তে থাকলে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।