রাজবাড়ী, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

মানবতার ফেরিওয়ালা মিতুল হাকিম গরীর দুঃখী মানুষের আস্থার প্রতিক হয়ে দাঁড়িয়েছেন

প্রকাশ: ১২ মে, ২০২০ ৭:১৭ : অপরাহ্ণ

মাসুদ রেজা শিশির॥রাজকন্ঠ ডট কম

করোনা ভাইরাস এসে মানুষ চেনার একটি বড় উপায় সৃষ্টি করে দিয়েছে। কে কখন কোথায় কার পাশে কে প্রকৃত বন্ধু কে মানবতার সেবক তার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে করোনা ভাইরাস নামক অচেনা শত্রু আসার পরে।

মানুষ পুলিশকে হরহামেশই গালি দিত আজ কিন্তু চিত্রটা ভিন্ন পুলিশই এগিয়ে এসেছে এই মহামারির সময়। ডাক্তার মানে কসাই এমন ধারনা আজ পাল্টে দিয়েছে এই করোনা ভাইরাস নামক অদৃশ্য প্রতিপক্ষ। প্রকৃত সেবক চেনার অনন্য উপায় বের করে দিয়েছে এই করোনা ভাইরাস।

জনগণের কে বন্ধ,গরীব-দুঃখী মানুষের পাশে কে রয়েছে, দরিদ্রদের পাশে কারা দাঁড়িয়েছেন, শিশুদের কথা কে ভাবছেন তাদের জন্য কে কি করছেন, গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষার কথা কে ভাবছেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষার কথা কে চিন্তা করছেন করোনা ভাইরাস না এলে হয়ত বুঝতেই পারত না রাজবাড়ী জেলার মানুষ।

যার কথা বলছি তিনি কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন। একজন ব্যবসায়ী তরুণ রাজনীতিক। রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এর জ্যেষ্ঠ পুত্র আশিক মাহমুদ মিতুল।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন সারাদেশ লকডাউন ঘোষণা করেন সরকার। সকল বিত্তবান মানুষকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন ঠিক তখনই ঢাকা থেকে ছুটে আসেন নিজ এলাকায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে মেনে নিজ এলাকায় এসে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ান তরুন নেতা আশিক মাহমুদ মিতুল।

উদ্যোগ গ্রহণ করেন নানা কর্মসূচী। এ দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রথমে তিনি পাংশা উপজেলার চা বিক্রেতা, ভ্যানচালক, রিক্সাচালক, অটোচালকদের তালিকা করে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় রাজবাড়ী-২ আসনের ৩াট উপজেলার সকল গ্রামে গ্রামে নিজ অর্থায়নে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন। মানুষকে আশ্বাস দেন পাশে থাকার। বিনিময়ে শুধু চান আপনারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করুন। নিজেদের পরিবারকে বাঁচান, জাতিকে বাঁচান তথা এই সোনার বাংলাকে বাঁচান।

একে একে তিনি গ্রহণ করেন আরও বেশ কয়েকটি উদ্যোগ। শিশুদের পুষ্টির কথা চিন্তা করে আদর্শ বাড়তি খাবার কর্মসূচীর মাধ্যমে যে সকল পরিবারের শিশু রয়েছে সেই সকল পরিবারের মাঝে শিশু খাদ্য বিতরণ করেন।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে যখন চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছিল ঠিক তখনই তিনি চিকিৎসকদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা হিসেবে পিপিই, এন-৯৫ মাস্ক ও গগলস প্রদান করেন।

এছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে কোন রোগী হাসপাতালে এসে যাতে চিকিৎসার জন্য বিড়ম্বনায় পড়তে না হয় সেজন্য হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান করেন।

করোনা ভাইরাসের আগমনের পর থেকেই মানুষকে সচেতন করতে মাঠে কাজ শুরু করেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা চিন্তা করে প্রদান করেন পিপিই ও মাস্ক।

এরপরেই যারা রয়েছেন তারা হলেন সংবাদকর্মী। করোনা ভাইরাসের সংবাদ সংগ্রহ করতে যারা কাজ করেন এলাকার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে যান। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে তিনি রাজবাড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকদের মাঝে পিপিই, মাস্ক ও গগলস প্রদান করেন।

গরীব দুঃখী মানুষের চিকিৎসার কথা চিন্তা করে ‘ডাক্তারের কাছে রোগী নয়, রোগীর কাছে ডাক্তার’ শ্লোগানকে সামনে রেখে চালু করেন ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম। যে টিম প্রতিটা মূহূর্তে পাংশা-কালুখালী-বালিয়াকান্দি উপজেলার প্রতিটা গ্রামে গ্রামে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন যা অদ্যবধি চলমান । সেই সাথে বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে ঔষধ।

দুর্যোগের এই সময়ে রাজবাড়ী-২ আসনের পাংশা-কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলার মানুষের পাশে যেন দেবদূত হয়ে হাজির হয়েছেন আশিক মাহমুদ মিতুল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত ছুটে বেড়াচ্ছেন এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। যেখানে এখন পর্যন্ত নেই তার কোন স্বার্থ। তবুও তিনি করে যাচ্ছেন এ সকল কর্মকা-। কারণ একটাই রাজবাড়ী-২ আসনের জনগণের প্রিয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম তার পিতা।

পিতার আদর্শকে লালন করে এই দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তার কর্মকান্ডকে ইতিমধ্যে রাজবাড়ী জেলায় মানবতার ফেরিওয়ালা বলে আখ্যায়িত করেছেন অনেকে। তিনি এখন গরীব-দুঃখী মানুষের আস্থার প্রতীক ও ভরসা হয়ে উঠেছেন। এমন দুর্যোগে রাজবাড়ী-২ আসনে আর কোন নেতার উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি। অনেকেই বলেছেন, নির্বাচন আসলেই রাজবাড়ী-২ আসনের মনোনয়নের জন্য অনেক নেতাকেই দেখা যায় গাছে পাতায় ব্যানার ফেসটুনের মাধ্যমে । যারা কেবল ঢাকায় পোস্টার সাঁটিয়ে নিজেদের জানান দেন। তবে এই দুর্যোগের সময়ে তেমন কাউকেই দেখা যায়নি রাজবাড়ী-২ আসনের মানুষের পাশে। শুধুমাত্র রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এমপি জিল্লুল হাকিমের পরিবার আর পিতার হয়ে এ কাজে নিরলশ ভাবে মাঠে রয়েছেন তরুন উদিয়মান নেতা আশিক মাহমুদ মিতুল।

তবে শুধু দুর্যোগের সময় নয় সবসময়ই মানুষের পাশে থাকতে চান বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন তরুণ এই রাজনীতিবিদ মানবতার ফেরিওয়ালা আশিক মাহমুদ মিতুল। তিনি আরো বলেছেন, আমার পিতা জিল্লুল হাকিম এই জনপদের প্রত্যেকটা মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করেছেন। বিপদে-আপদে থেকেছেন তাদের পাশে। তাই আমিও তার এই সেবা চালিয়ে যেতে চাই জীবনের বাকিটা সময়ে। শুধু চাই আপনাদের দোয়া-আশির্বাদ। আশিক মাহমুদ মিতুলের মত মানুষেরা আজীবন বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে।