রাজবাড়ী, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞদের যেসব পরামর্শ

প্রকাশ: ১০ মে, ২০২০ ৭:৪৪ : অপরাহ্ণ

রাজকন্ঠ অনলাইন ডেস্ক:

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) বজ্রপাতে সারাদেশে ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।  এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে হাওরাঞ্চল।  ফলে বিশেষ করে বছরের এ সময়টায় বজ্রপাত নিয়ে হাওরাঞ্চলের কৃষকসহ দেশের সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেনতা ও প্রযুক্তিগত কিছু উন্নয়নের মাধ্যমে বজ্রপাত নিরোধ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব।

বজ্রপাত নিয়ে দেশে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য সোসাইটি অ‌্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় মূলত বজ্রপাত বাড়ছে।  এছাড়া বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড না থাকা, লম্বা গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া, মেঘের ঘর্ষণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, যত্রযত্র মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন এর অন্যতম কারণ।

এক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশব্যাপী ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে বজ্র নিরোধক অ‌্যান্টেনা স্থাপন ও আশ্রয়স্থল তৈরি করলে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, দেশে চৈত্র, বৈশাখ, জৈষ্ঠ‌্য মাসে বেশি বজ্রপাত হয়। এই সময়ে মেঘে মেঘে ঘর্ষণের ফলে বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়।  এছাড়া যত বেশি বৃষ্টিপাত হবে তত বেশি বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকে।

জানা গেছে, সারাদেশে কমবেশি বজ্রপাত হলেও হাওরাঞ্চল অর্থাৎ সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা,কিশোরগঞ্জ জেলা ও সাতক্ষীরা জেলায় মাছের ঘেরগুলোতে বেশি বজ্রপাত হয়।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, মূলত দুটি মেঘের ঘর্ষণের কারণে বজ্রপাত ও বৃষ্টি হয়। ফলে বজ্রপাতের মৌসুম হিসেবে চৈত্র থেকে জৈষ্ঠ‌্য- এ তিন মাস সতর্ক থাকলে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচা সম্ভব। বিশেষ করে যখন আকাশে মেঘ জমবে এবং বৃষ্টির সম্ভবনা থাকবে তখন বাইরে না থাকা এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী বস্তু এড়িয়ে চলতে হবে।

সার্বিক পর্যবেক্ষণে সেভ দ্য সোসাইটি অ‌্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম বলছে, ‘মানুষের শরীর বিদ্যুৎ পরিবাহী। এ কারণে মানুষের ওপর বজ্রপাত হয়। যদি খোলা জায়গায় কোনো বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ না থাকে আর সেখানে যদি মানুষের বেশি উচ্চতার বিদ্যুৎ পরিবাহী না থাকে তাহলে মানুষের ওপর বজ্রপাত হয়। কারণ সরাসরি মাটিতে বজ্রপাত হয় না।’

পরামর্শ দিয়ে তারা বলছে, আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখলে সাবধান হতে হবে এবং বৃষ্টি শুরুর আগে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।  পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া বেশি নিরাপদ।  বজ্রপাতের সময় জানালার কাছে না থাকাই ভালো। পায়ে রাবারের স্যান্ডেল পরে থাকা এবং পানি ও যেকোনো ধাতববস্তুর যেমন সিঁড়ির বা বারান্দার রেলিং, পানির কল ইত্যাদির স্পর্শ থেকে বিরত থাকতে হবে।  পুকুর বা জলাশয়ে থাকা নিরাপদ নয়।  বজ্রপাতে বাড়ির ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র যেগুলো ইলেকট্রিক সংযোগ বা ডিসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা ভালো। এগুলো বন্ধ থাকলেও স্পর্শ থেকে বিরত থাকতে হবে।

মাঠের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় থাকলে যদি বজ্রপাত হওয়ার অবস্থা তৈরি হয় তাহলে কানে আঙুল দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিচু হয়ে বসে থাকতে হবে। তবে মাটিতে শোয়া যাবে না, কেননা মটিতে শুয়ে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হলে তাল গাছ জাতীয় সুউচ্চ প্রজাতির গাছ প্রচুর পরিমাণে মাঠের মধ্যে লাগাতে হবে।

বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা বৈদ্যুতিক শকে আহত ব্যক্তিদের মতো জানিয়ে ফোরামটি বলছে, শরীর থেকে দ্রুত বৈদ্যুতিক চার্জ অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শরীরে ম্যাসেজ করতে হবে। আহত ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণে বিচলিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।  গাড়ির ভেতরে থাকলে জানালার কাঁচ ও ধাতব বন্তু ধরা যাবে না। যথা সম্ভব, এগুলোতে স্পর্শ থেকে বিরত থাকতে হবে।

ফোরামের গবেষণা সেলের প্রধান আব্দুল আলিম বলেন, বজ্রপাত একটি বিদ্যুৎ। সাধারণত আমরা ৩২ হাজার কেভি বিদ্যুতের কথা জানি। কিন্ত বজ্রবিদ্যুৎ এর চেয়েও কয়েক কোটিগুণ বেশি শক্তিশালী। মেঘে মেঘে ঘর্ষণের ফলে যখন বজ্রবিদ্যুতের সৃষ্টি হয়, তখন কাছে যেখানে ঋণাত্মক চার্জ পায় সেখানে চলে আসে।   এক্ষেত্রে আমরা পরামর্শ দেই, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে বজ্রনিরোধক দণ্ডের টাওয়ার ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা। ফলে যারা মাঠে কাজ করবে তারা বজ্রপাতের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে এসে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবে।

বাসা বাড়িতেও বজ্রপাত থেকে রক্ষায় ১৭৫২ সালে ফ্রাংকলিন নামে একজন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার করা থ্রি-শোল পদ্ধতির বজ্রনিরোধক দণ্ড ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।