রাজবাড়ী, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০২২

করোনার ধাক্কায় থমকে গেছে রেলের চলমান ৩৫ প্রকল্প

প্রকাশ: ৯ মে, ২০২০ ২:৪৯ : অপরাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

রাজকন্ঠ ডেস্ক:

সব উন্নয়ন প্রকল্পের মতোই কোভিড-১৯ এর আঘাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের চলমান ৩৬টি প্রকল্পে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। তবে পদ্মায় রেলসংযোগ প্রকল্পটি চলমান আছে। বাকিগুলোর বাস্তবায়ন এখন থমকে গেছে। এই ৩৬ প্রকল্পের বিপরীতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো সমাপ্ত হবে কিনা সেটি নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে খোদ বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর। করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন যত দ্রুত উঠে যাবে, তত দ্রুত কাজ শুরু সম্ভব হবে। চারটি স্ট্যাডি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি আগামী জুনের মধ্যে সমাপ্ত হবে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের চলতি এডিপিতে চলমান প্রকল্প রয়েছে ৩৬টি। প্রকল্পগুলো হলো, পদ্মা সেতু রেলসংযোগ (১ম সংশোধিত), ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ উন্নয়ন প্রকল্প, পাহাড়তলী ওয়ার্কসপ উন্নয়ন (২য় সংশোধিত), দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমারের নিকটে গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ (১ম সংশোধিত), খুলনা হতে মংলা পোর্ট পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধিত), বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ (১ম সংশোধিত), আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান রেল লাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর, আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেলসংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু, ঢাকা শহরের চতুর্দিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্যক্রম, চট্টগ্রাম পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত বে-টার্মিনালে রেলওয়ে সংযোগের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বাংলাদেশ রেলওয়ের খুলনা-দর্শনা জংশন সেকশনে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সিগন্যালিংসহ রেললাইন সংস্কার ও নির্মাণ (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে) প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও রয়েছে, ভারতের সাথে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি বর্ডারের মধ্যে ব্রড গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল প্রকল্প প্রস্তুতিমূলক সুবিধার জন্য কারিগরি সহায়তা প্রকল্প (১ম সংশোধিত), দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমারের নিকটে গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প এর প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে কারিগরি সহায়তা প্রকল্প।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, এসব প্রকল্পের বেশির ভাগই দীর্ঘ সময় ধরে চলমান। চলতি বছরের জুনে কিছু প্রকল্প সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। যেহেতু এসবের বেশির ভাগই মাঠপর্যায়ের কাজ, তাই করোনার কারণে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় এনে এবং সরকারের লকডাউন ঘোষণায় মাঠপর্যায়ের কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে অফিসিয়াল কাজ যেগুলো রয়েছে সেগুলো সামাজিক দূরত্ব মেনে করা হচ্ছে। কিছু প্রকল্প আছে, বিভিন্ন ধরনের যাত্রীবাহী ক্যারেজ, বিভিন্ন ধরনের লোকমোটিভ সংগ্রহ-এসব বিদেশ থেকে আমদানি করার কথা। করোনার কারণে এসব আমদানির চুক্তি হলেও তা এখন আনা সম্ভব হচ্ছে না।

রেলওয়ের অন্য সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত আধুনিক রেল যোগাযোগের আওতায় আনতে ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সাথে চুক্তি হয়। এরপর ২০১৭ সালের জুন মাসে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। এ সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। করোনাসহ নানা কারণে এই কাজ এক বছর বাড়িয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে মূল ডিপিপি তৈরির মাধ্যমে প্রকল্পের আটটি মূল কাজ শেষ করবে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রকল্পগুলো ভালোভাবেই চলমান ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস যেভাবে আঘাত করেছে তার নেতিবাচক প্রভাব রেলওয়ের প্রকল্পগুলোর উপর পড়েছে। তবে পদ্মা রেল প্রকল্পটির কাজ চলমান আছে। চলমান প্রকল্পগুলো সংশোধিত এডিপিতেও যুক্তকরা হয়েছে।