রাজবাড়ী, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

পাংশায় ব্যবসায়ীদের সাথে করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা

প্রকাশ: ৭ মে, ২০২০ ৬:০০ : অপরাহ্ণ

মাসুদ রেজা শিশির ॥রাজকন্ঠ ডট কম

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ঝুঁকি মোকাবেলায় সারাদেশ লকডাউন ঘোষনা করে বাংলাদেশ সরকার। সে আলোকে সারাদেশে লকডাউন পালিত হয়। লকডাউন কার্যকর করতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে সরকার আগামী ১০ মে থেকে সকল প্রকার ব্যবসা/বাণিজ্য, দোকান-পাট, শপিংমল/বিপণী বিতানসহ অন্যান্য কার্যাবলী সীমিত পরিসরে খোলা রাখা এবং সীমিত পরিসরে চলাচলের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছে।

সেই আলোকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে পাংশা বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা পাঠ করেন উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, করোনা প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদ হাসান ওদুদ, সদস্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুজহাত তাসনীম আওন, পাংশা মডেল থানার ওসি মোঃ আহসান উল্লাহ, পৌর মেয়র আব্দুল-আল মাসুদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জালাল উদ্দিন বিশ্বাস, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ রোকেয়া বেগম, সদস্য সচিব ডাঃ আনজুয়ারা খাতুন সুমি ও পাংশা বাজারের ব্যবসায়ীবৃন্দ।

সভায় যেসকল নির্দেশনা দেয়া হয় : (১) হাট-বাজার, ব্যবসা কেন্দ্র, দোকান-পাট ও শপিংমলগুলো সকাল ১০:০০টা হতে বিকাল ৪:০০টার মধ্যে সীমিত আকারে খোলা রাখা যাবে। তবে ফুটপাতে বা প্রকাশ্য স্থানে হকার/ফেরিওয়ালা/অস্থায়ী দোকানপাট বসতে দেয়া যাবে না। (২) প্রতিটি শপিংমল-এ প্রবেশের ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লোভস পরিধান করতে হবে। (৩) প্রতিটি শপিংমল/বিপণী বিতানের সামনে সতর্কবাণী ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানলে, মৃত্যু জুঁকি আছে’ সম্বলিত ব্যানাটর টানাতে হবে। (৪) ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালন করতে হবে। (৫) রাত ০৮:০০টা হতে সকাল ০৬:০০ টা পর্যন্ত অতীব জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে আসা যাবে না। (৬) আন্তঃজেলা, আন্তঃউপজেলা যোগাযোগ/চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। তবে সড়ক ও নৌপথে সকল প্রকার পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন (ট্রাক, লরি, কার্গো, ভেসেল প্রভৃতি) চলাচল অব্যাহত থাকবে। (৭) সাধারণ ছুটিকালীন নিষেধাজ্ঞাকালে রাজবাড়ী জেলা হতে অন্য জেলা এবং জেলার অভ্যন্তরে এক উপজেলা হতে অন্য উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। (৮) আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের সরকারি ছুটিতে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না এবং উক্ত সময়ে জনগণকে নিজ নিজ স্থানে থাকতে হবে। আন্তঃজেলা/আন্তঃউপজেলা/বাড়িতে যাওয়ার ভ্রমণ থেকে নিবৃত্ত থাকতে হবে এবং উক্ত সময়ে আন্তঃজেলা গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। (৯) রাজবাড়ী জেলার সকল ব্যবসায়ী সমিতি ভলান্টিয়ার এর মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। এক্ষেত্রে কোন দোকানে এক সাথে বেশি মানুষ প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। (১০) ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক মাইকিং করতে হবে। (১১) শপিংমল/বিপণী বিতানের প্রবেশ পথে থার্মাল স্ক্যানারসহ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কর্মী নিয়োগ করতে হবে। কোন রকম জ্বর, সর্দি, কাশি থাকলে মার্কেটে প্রবেশ করা যাবে না। (১২) প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে মার্কেট এর অভ্যন্তরীণ পথগুলোতে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। (১৩) প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ঘরে ফেরার পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনামতে স্বাস্থ্য বিধি পালন করে নিজেকে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।