রাজবাড়ী, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২

করোনা পজিটিভ হলে করণীয়। ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

প্রকাশ: ৭ মে, ২০২০ ৮:১২ : অপরাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

রাজকন্ঠ অনলাইন:

বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। দেশেও এর সংক্রমণ বাড়ছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব করোনা রোগীর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই।
তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় রোগীকে ঘরে থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু কীভাবে করতে হবে চিকিৎসা তানিম্নে আলোচনা হলো। করোনা পজিটিভ রোগীর ঘরোয়া চিকিৎসা
   দীর্ঘদিন যাবত ফ্রি টেলি মেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছি কোনো কোনো রোগী বলেন স্যার আমি আর বঁাচবো না কেন??? স্যার করোনা ভাইরাস পজেটিভ আসছে। কোনো কোনো রোগীদের ধারণা করোনা পজিটিভ হলেই মনে করেন, তিনি আর বাঁচবেন না। আমি প্রথমেই বলতে চাই- করোনা মানেই জীবনঘাতী কোনো রোগ নয়। এক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগীর সমস্যা জটিল নয়। অন্যসব সাধারণ ঠান্ডা, কাশি, জ্বরের মতো তাদেরও বাসায় চিকিৎসা করা সম্ভব। অবশ্য এক্ষেত্রে তাদের বাসায় কিছু পরিবর্তন এবং কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাহলে করোনার ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।’
পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের রোগীরও করোনার চিকিৎসা বাসায় থেকে হচ্ছে। এটি খুব স্বাভাবিক। বিষয়টিকে ‘হোম আইসোলেশন’ পদ্ধতি উল্লেখ করে  করোনা পজিটিভ রোগীর ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পরামর্শ
★ বাসায় রোগীর জন্য অবশ্যই আলাদা রুমের ব্যবস্থা করতে হবে।
★ আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে।
★ রোগীর জামা-কাপড়, ব্যবহারের জিনিসপত্র সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে।
★ রোগী পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে চার সপ্তাহ আলাদা থাকবেন। তবে একই পরিবারের সবাই কোভিড-১৯ পজিটিভ হলে তারা একসঙ্গে থাকতে পারবেন। সেক্ষেত্রে পরিবারের কেউ বাইরে যেতে পারবেন না অথবা বাইরে থেকে কেউ বাসায় প্রবেশ করতে পারবেন না।
★ বাসায় রোগী এবং অন্যান্য সবার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
 ★ হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় অবশ্যই রুমাল ব্যবহার করতে হবে।
★ বাসার মেঝে জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে।
#করোনায় আক্রান্ত রোগী কী ধরনের খাবার গ্রহন করবেন
★পর্যাপ্ত পানি পান করা : দেহের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার পান করতে হবে
★ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া : * ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়।
তাই কমলা, লেবু জাতীয় খাবার, করলা, আমলকী, পেয়ারা এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে।
 ★ অঙ্কুরিত ছোলা ভিটামিন ‘সি’ এর একটি ভালো উৎস। -ছোলা অঙ্কুরিত করতে হলে এক রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে তারপর একরাত ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে ছোলা থেকে ছোট ছোট শেকড় বের হয় অর্থাৎ এটি অঙ্কুরিত হয়। তখন এটা খাওয়া যেতে পারে।
★ রঙিন শাকসবজি খাওয়া : রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার আরেকটি ভালো উপাদান হচ্ছে- অ্যান্টি অক্সিডেন্ট।
★খেজুর খাওয়া যেতে পারে খেজুরর মধ্যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে।
৪. জিঙ্ক, সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার :  জিঙ্ক খুব ভালো করে পাওয়া যায় গরুর মাংসে।
★ খুব বেশি কোলেস্টেরলের সমস্যা যদি না থাকে তাহলে সপ্তাহে দুদিন গরুর মাংস খাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও মিষ্টি কুমড়ার বিচি, বাদাম এগুলোতেও জিংক প্রচুর পরিমাণে থাকে। সেলেনিয়াম প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়- ইলিশ আর সরিষার দানার মতো খাবারে।
#করোনায় আক্রান্ত রোগী কী ধরনের ওষুধ গ্রহণ করতে পারবেন।
★ সাধারণভাবে জ্বর, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথার জন্য রোগী তিন বেলা প্যারাসিটামল খাবেন। জ্বর বেশি হলে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি ব্যবহার করা যাবে।
★ ঠান্ডা, শুকনো কাশির জন্য এন্টি হিস্টামিন যেমন ফেক্সোফেনাডিন, লরাটিডিন, রুপাটিডিন ইত্যাদি খাওয়া যাবে।
★ অন্যান্য কিছু ওষুধ প্রয়োজন অনুযায়ী খেতে পারবেন। যেমন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ।
★ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ আগে থেকে যারা খাচ্ছেন তারা সেগুলো চালিয়ে যাবেন।
 তাছাড়া যেকোনো জটিলতা দেখা দিলে করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে যাওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই। যে কারণে হাসপাতালে যেতে পারেন  যাদের বাসায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ আলাদা কক্ষ নেই, দেখাশোনা করার লোক নেই বা পরিবারে সদস্য সংখ্যা অনেক। এছাড়া-
★ রোগীর যদি শ্বাসকষ্ট থাকে।
★ রোগীর যদি কাশি বা জ্বর অনেক বেড়ে যায়।
★ রোগী যদি অতিরিক্ত দুর্বল অথবা অজ্ঞান হয়ে যায়।
★ যাদের অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, ক্যানসারসহ জটিল রোগ আছে।
লেখকঃ
ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক ও পরামর্শক।
মোবাইল নাম্বার ০১৭১৯৯৩৯৫৫৩