রাজবাড়ী, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০২২

রমজানে চিনির নামে বিষ খাচ্ছেন না তো-??? ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

প্রকাশ: ৩ মে, ২০২০ ২:২৪ : অপরাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

রাজকন্ঠ অনলাইন ডেস্ক:

চিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং শিশুর মেধা বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য বছরে ১৩ থেকে ১৪ কেজি চিনি গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর সেই চিনিই এখন ‘বিষ’। পরিশোধিত মিহিদানার ঝকঝকে চিনি মূলত: বিষ। আমরা সেই বিষ খাচ্ছি। যদিও গোটা বিশ্বে এই মিহিদানার পরিশোধিত চিনি বর্জন চলছে। অপরদিকে আখ থেকে উৎপাদিত চিনি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি হলেও বাংলাদেশের ভোক্তা সাধারণ আখের চিনি ব্যবহার না করে বিষাক্ত মিহিদানার পরিশোধিত চিনির প্রতি ঝুকে পড়ছে। আমরা রমজানে শরবত বানাতে চিনির বিক্লপ চিন্তা করতেই পারি না। আমরা চিনির নামে ঝকঝকে চিনিকেই বেছে নেই কিন্তু একটি বার ও কি ভেবে দেখেছি নিউট্রিয়েন্টস ছাটাই করা  ঝকঝকে চিনি তৈরির সময় স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর যে সকল  কেমিক্যালস যেমন- বোনচারকোল, হাড়ের গুড়ো, ফসফোরিক এসিড, ডি-কালারিং এজেন্ট, রেজিসন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। যার ফলে চিনিতে ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, এনজাইম এবং অন্যান্য উপকারি পুষ্টি উপাদান দূর হয়ে যায়। এছাড়া মিষ্টতা বাড়াতে বাড়তি ক্যামিক্যালস ব্যবহার করা হয়। শুধু তাই নয়, আরো অনেক বাড়তি কেমিক্যালস ব্যবহার করা হয়। ফলে এই চিনি মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় বিশ্বের যেসব দেশে আখের চিনি উৎপাদন হয় না, সেসব দেশে বিকল্প হিসেবে এখন স্টিভিয়ার ব্যবহার শুরু হয়েছে। সাদা চিনি যে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, সে সম্পর্কে ড. ইউলিয়াম কোডা মার্টিন এক গবেষণাপত্রে পরিশোধিত চিনিকে বিষের সাথে তুলনা করেছেন।
তিনি তার গবেষণাপত্রে বলেছেন, রিসাইকিলিং চিনিতে প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল না থাকায় এই চিনির মধ্যে স্টার্চ ও কার্বোহাইড্রেট শরীর পরিপাক করতে পারে না। সঠিকভাবে পরিপাক না হওয়ায় এই কার্বোহাইড্রেট রাসায়নিকভাবে রূপান্তরিত হয়ে পাইরুভিক এসিড ও অস্বাভাবিক চিনি তৈরি করে। এই পাইরুভিক এসিড মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে এবং অস্বাভাবিক চিনি লোহিত কণিকায় জমা হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। ফলে কোষ পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পায় না এবং এক সময় এসব কোষগুলো মারা যায়।
এতে করে শরীরের বিভিন্ন অংশের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়ে নানা বিধি জটিল রোগের সৃষ্টি করে। নষ্ট করে শরীরের শর্করা ও পুষ্টিগুণ। আমাদের দেশে আখের চিনি থাকলেও আমদানিকৃত মিহিদানার পরিশোধিত চিনির ক্ষতিকর বিষয়ে ভোক্তা সাধারণ জ্ঞাত নন বলে সাদা ঝকঝকে বিদেশি পরিশোধিত চিনির প্রতি বেশি আগ্রহী। পুষ্টিবিদদের মতে পরিশোধিত চিনিতে মিষ্টির কোন এসেনসিয়াল নিউট্রিয়েন্ট নেই এবং কৃত্রিম উপায়ে মিষ্টতা বৃদ্ধি করা হয়। যার কারণে এই চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
#চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেছেন, পরিশোধিত চিনি ১।ব্লাড প্রেসার ২। ডায়াবেটিসের মাত্রা বাড়ায় ৩। পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ হয়। ৪। গ্যাষ্ট্রিকের  সমস্যায় ভূগে থাকে, যার ফলে রোগীদের নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকের ঔষুধ সেবন করতে হয়। আর এই চিনি দিয়েই তৈরি হচ্ছে মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার (চকলেট, আইসক্রিম, কনডেন্সড মিল্ক, বেকারি ও বেভারেজ দ্রব্য, এনার্জি ড্রিংকস, স্পোর্ট ড্রিংকস ইত্যাদি)। অনেকে আবার আখের চিনির বিকল্প হিসেবে আর্টিফিসিয়াল সুইটেটনার্স বা কৃত্রিম চিনি যেমন- স্যাকারিন, সোডিয়াম সাইক্লামেন্ট, ম্যাগনেসিয়াম, সালফেট, সুক্রোল ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন।

এগুলো খেয়ে বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা প্রায়ই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই চিনি তৈরিতে ব্যবহার হয় সোডা ও কপি সুইটেনার্স যা মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এই সোডা আর পরিশোধিত চিনি ক্যান্সারের জীবানু বৃদ্ধির জন্য দায়ি।
আমাদের সতর্ক হওয়ার বিকল্প নেই ।
লেখকঃ
ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক ও,পরামর্শক
মোবাইল ০১৭১৯৯৩৯৫৫৩