রাজবাড়ী, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২২

যে ২ কারণে কমছে চালের দাম

প্রকাশ: ১ মে, ২০২০ ৩:৫৮ : অপরাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের মূল‌্য ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সুখবর দিলো চালের বাজার।  প্রায় এক মাস পর হঠাৎ রাজধানীর বাজারে কমতে ‍শুরু করেছে চালের দাম।  এর পেছনে দুটি কারণের কথা জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন-  বোরো ধান উঠতে শুরু করায় ও রোজায় বাজারে চালের চাহিদা কমায় দাম কমেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে মানভেদে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে কমেছে ৩ থেকে ৬ টাকা।  যা ক্রেতাদের জন‌্য স্বস্তির খবর।

শুক্রবার (০১ মে) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ, শান্তিনগর বাজার, কারওয়ানবাজারসহ বিভিন্ন চালের বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল আগের দামের চেয়ে প্রতিকেজি ৩ থেকে ৬ টাকা (মানভেদ) কমে বিক্রি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ার পাশাপাশি চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে চালের দাম কমতে শুরু করেছে।  আর নতুন চাল এলে লোকসানের ভয়ে বিক্রেতারা তা ছেড়ে দিচ্ছেন।

বাজারে দেখা যায়, মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬২ টাকা কেজি (মানভেদে), যা রমজানের শুরুতে ৫৮ থেকে ৬৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।  পায়জাম ও লতা বর্তমানে (মাঝারি মানের) কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা, যা রমজানের আগে ৪৮ থেকে ৫৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।  মোটা চাল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪৪ টাকায় (মানভেদে), যা রমজানের আগে ৪০ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হয়।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে চিকন চালের দাম কমছে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।  আর মাঝারি মানের চালের দাম কমেছে ২ দশমিক ৯১ শতাংশ।  গত ২৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) থেকে চালের দাম কমতে শুরু করে।

যাত্রাবাড়ী বাজারে কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও গত সপ্তাহের চেয়ে এসপ্তাহে চালের দাম কমেছে।  যা সবার জন‌্য স্বস্তির।

চালের দাম কমার কারণ জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আলাউদ্দীন বলেন, নতুন ধান উঠছে এবং বিক্রি কম হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। বাদামতলীতে আগের মতো চাল আর বিক্রি হচ্ছে না।  তাই কম দামে কিনে অল্প লাভে  বিক্রি করছি।

প্রায় একই কথা জানালেন রায়েরবাগ বাজারের পাইকারি চাল বিক্রেতা ‘সাজ্জাদ রাইস এজেন্সি’র স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান এবং ‘বাবু বাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন।

এই দুই ব্যবসায়ী বলেন, করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর কে কতো বস্তা চাল কিনে রাখবে, সে প্রতিযোগিতা চলে।  তখনই চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন চাল বিক্রি কমছে।  তাই একটু কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অটো রাইস মিল মালিক ও বেপারী অ‌্যাগ্রো প্রোডাক্টের মালিক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, চালের চাহিদা কমায় দাম কিছুটা কমেছে।  কিছু দিন পর আরও কমবে।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।  চালের সরবরাহে ঘাটতি নেই।  নতুন বোরো ওঠায় চালের দাম কমতে শুরু করেছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কেউ চালের বাজার অস্থির করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।