রাজবাড়ী, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

লকডাউনে অনলাইন আড্ডায় মেতেছে তারুণ্য

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল, ২০২০ ৩:৫৮ : অপরাহ্ণ

দেশে চলমান লকডাউনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এখন বাসায় অবস্থান করছে। কিন্তু এই লকডাউনেও থেমে নেই তারুণ্য। ঘরে বসে  অনলাইনে যেমন অফিস,মিটিং করছেন। তেমনি অনলাইনে গল্প,গান আড্ডায় মেতে উঠছে তারুণরা। দেশে বিদেশে থাকা বন্ধু,আত্মীয়-স্বজনদের করোনা সম্পর্কে সচেতনও করছেন তারা।

মনোবিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে ও একঘুয়েমি ঘুচাতে অনলাইনে কাজের পরিধি বাড়ানো ও  আড্ডার বিকল্প নেই। তবে তরুণদের সব সময় আড্ডায় ডুবে না থেকে অনলাইনে গঠনমূলক কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

হোম কোয়ারেন্টাইনের শুরু  থেকে অনলাইনে প্রতিদিন   নির্দিষ্ট একটি সময় কাটান আজিজুর রহমান সোহেল। তিনি বিট্রিশ ল’ অ্যালামনাইয়ের সমন্বয়ক। সোহেল রাইজিংবিডিকে বলেন,করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাসায় আছি। অনেক সময় বিরক্তি এসে যায়। তখন কাছের মানুষদের সঙ্গে অনলাইনে আড্ডা দেই, গল্প করি। আবার অনেকদিন সংগঠনের মিটিং বন্ধ। সবাই মিলে একসঙ্গে বসে গল্প করতে পারি না-আড্ডা দিতে  পারি না। তাই গতকাল  সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ১৩ জন বন্ধু মিলে অনলাইনে মিটিং করলাম।  প্রাণবন্ত আড্ডাও  হয়ে গেল। আড্ডার ফাঁকে  সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ফান্ড কালেক্ট করবো। সেই ফান্ডের টাকা দিয়ে ঈদ উপলক্ষে গরিব-অসহায়দের সহযোগিতা করবো।

নর্থ সাউথের শিক্ষার্থী ফাতেমা মৌ হোম কোয়ারেন্টাইনের প্রতিদিনের রুটিনে অনলাইনে আড্ডা রেখেছেন। মৌ রাজকন্ঠকে বলেন, প্রতিদিন রাত ১০টার পর এক/দেড় ঘণ্টা ভিডিও কলে অংশ নেই। বন্ধু-আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে গল্পে আড্ডায় মেতে উঠি। করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতামূলক বিভিন্ন বিষয় নিজেদের মধ্যে শেয়ার করি।

মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানির সিনিয়র অ্যাসোসিয়েটস ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন চেম্বার বন্ধ। তবে তাদের কাজ থেমে নেই। সানজিদ বলেন, আমাদের চেম্বারের সব অ্যাসোসিয়েটস মিলে সপ্তাহে তিনদিন জুমে মিটিং করছি। একেকদিন একেকজন একটা নির্ধারিত বিষয়ের ওপর আলোচনা করছি। এতে সময় ভালো কাটছে।

ধানমন্ডির অধিবাসী ফারিতা তাব্বাসুম। ইংল্যান্ডে পড়াশুনা করে এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করছেন। ফারিতা বলেন, প্রতিদিন অনলাইনে বন্ধু-আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে আড্ডা হয়। করোনাভাইরাসের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা বলি। দেশে থেকেই অনলাইনে লন্ডনের এক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পড়াচ্ছেন বলেও জানান ফারিতা।

এক সময়ের লাক্স সুন্দরী ব্যারিস্টার উপমা বিশ্বাস। সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী কাজ করেন শেখ অ্যান্ড চৌধুরী লিগ্যাল অ্যাসোসিয়েটসে। উপমা বলেন, অনেকদিন চেম্বারের কলিগদের সঙ্গে দেখা হয় না। গতকাল চেম্বারের আটজন সহকর্মী মিলে ভিডিও কনফারেন্সে প্রাণবন্ত আড্ডা দিয়েছি। নিজেরা নিজেদের খোঁজ খবর নিয়েছি। লকডাউন কবে খুলবে, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। খুব ভালো লেগেছে সবার সঙ্গে কথা বলে।

লকডাউনে অনলাইনে কাজ, আড্ডার বেড়ে যাওয়া নিয়ে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মাহফুজা খানম রাজকন্ঠকে বলেন, বাসায় একা থাকতে থাকতে অনেকেই ডিপ্রেশনে ভোগে। এ সময়ে অনলাইনে আড্ডা  সেটা থেকে মুক্তি দিতে পারে। তবে আমি বলবো,তরুণরা যেন সব সময় অনলাইনে আড্ডায় মেতে না  থাকে। বরং অনলাইনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এখন নিজেদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। সময়কে অপচয় না করে অনলাইনে পড়াশুনা,গঠনমূলক কাজ করতে পারে। পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে অনলাইনে আড্ডা আমি পজিটিভ দৃষ্টিতেই দেখি।

এ বিষয়ে প্রায় একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি রাজকন্ঠকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে অনলাইনে কাজ বেড়ে গেছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। কাজের পাশাপাশি তরুণরা অনলাইনে আড্ডা দিচ্ছেন,গল্প করছেন এটাও আমি পজিটিভভাবে দেখি। কারণ সব সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে। একটা কথা আছে ‘অলস মস্তিস্ক শয়তানের কারখানা’। নিজেকে ব্যস্ত রাখলে তরুণরা খারাপ পথে পা বাড়াবে না। তবে সারাদিন অনলাইনে ডুবে থাকা যাবে না। এতে চোখের সমস্যাসহ শরীরে নানান ধরনের রোগে সৃষ্টি হতে পারে।  লকডাউন চলাকালীন তিনি প্রতিদিনের একটি  কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার পরামর্শ দেন এ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।