রাজবাড়ী, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০২২

রাজবাড়ীর পাংশায় ত্রাণের জন্য অবরুদ্ধ চিকিৎসকরা ॥ রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল, ২০২০ ৭:২৬ : অপরাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

স্টাফ রিপোটার ॥ জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২০ উপলক্ষে ত্রাণ বিতরণের কথা জানতে পেরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করে পাংশা পৌর এলাকার ৫ শতাধিক হত দরিদ্র মানুষ। ত্রাণ না পেয়ে এক পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোসাম্মাৎ আনজুয়ারা খাতুন (সুমি) সহ অনান্য ডাক্তারদের আধ ঘন্টা অবরোধ করে রাখেন তারা।
পরে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম ও পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত লোকজনদের হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায়। অবরুদ্ধের ঘটনাটি সকাল ১১টার দিকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটে।
ত্রাণ নিতে আসা হতদরিদ্ররা বলেন, গতকাল সোমবার হাসপাতাল থেকে ডা. মোসাম্মাৎ আনজুয়ারা খাতুন (সুমি) সরকারি ভাবে গোপনে কয়েক জনকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেন। আজকে ত্রাণ বিতরণ করা হবে এমন তথ্য জানতে পেরে আমরা এখানে এসে অবস্থান করি। ত্রাণ নিতে আসা ব্যক্তিরা আরো বলেন আমরা ত্রাণ না পেলে হাসপাতাল ত্যাগ করবো না। এ সময় সুমির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলেন বিক্ষুব্ধরা।এছাড়াও বিভিন্ন সময় ডা. মোসাম্মাৎ আনজুয়ারা খাতুন (সুমি)র বিরুদ্ধে চিকিৎসা সেবারও নানা অবহেলার অভিযোগ রয়েছে।
আধা ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার ঘটনাটি স্বীকার করেন পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.তরুন কুমার পাল।
এ ব্যাপারে ডা. মোসাম্মাৎ আনজুয়ারা খাতুন (সুমি) বলেন, করোনা ভাইরাসে কারণে এ বছর খাদ্য সহায়তা বিতরণের নির্দেশনা আসে। সেই নির্দেশনা মোতাবেক ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে ১৬ হাজার টাকার হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক ক্রয়ের জন্য রাখা হয়েছে বাকী টাকা ত্রাণের জন্য বরাদ্দ করে ২৭ এপ্রিল (সোমবার) ৭৫ জনের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করি। সেটা জানার পর আজ হতদরিদ্ররা দল বেঁধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
অভিযোগ উঠেছে ডা.আনজুয়ারা খাতুন নিজের পছন্দের লোকদের ডেকে এনে সরকারী বরাদ্দের ত্রাণ দিয়েছেন। এর মধ্যে ক্লিনিকে কাজ করে এমন মানুষদেরও দেখা গিয়েছে ।
এ ব্যাপারে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোসাম্মাৎ আনজুয়ারা খাতুন (সুমি) আমাকে অবহিত না করেই নিজে নিজে এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ত্রাণ বিতরণের বিষয়টি জানাজানি হলে আজ প্রায় তিন শতাধিক হতদরিদ্র মানুষ খাদ্য সহায়তার জন্য হাসপাতালে আসে। এক পর্যায় চিকিৎসকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর আমি দ্রুত হাসপাতালে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। বিক্ষুব্ধদের একটি তালিকা তৈরি করি এবং খাদ্য সহায়তার আশ্বাস দিলে হতদরিদ্র এসব বিক্ষুব্ধকারীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এদিকে পাংশা উপজেলায় ৪৫ মে.টন চাউল বিতরন চলছে সুষ্ঠু ভাবে আর আগে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ৮৬০ টি পরিবারের মধ্যে সরকারী ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম এমপি ও জেলা আ.লীগের অন্যতম সদস্য বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী আশিক মাহমুদ মিতুল ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে খাদ্য সামগ্রী, শিশু খাদ্যসহ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নানা উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে চলছেন। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।