রাজবাড়ী, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২২

আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও নকল ঔষধের দৌরাত্ব ———-এড.লিয়াকত আলী বাবু

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল, ২০২০ ১০:১৪ : অপরাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

একদা ঢাকার একটি এনজিও সংস্থার একটি অনুষ্ঠানে একজন বিশেষ গেষ্ট হিসাবে আমন্ত্রিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো। ঐ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ডঃ কাজী সালেহ আহম্মেদসহ অনেক প্রথিতযশা গুনিজন। আমি আমার ছোট্ট বক্তব্যের মাঝে প্রসঙ্গ ক্রমে দেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে কিছু বাড়তি কথা বলতেই সালেহ আহম্মেদ স্যার বললেন যে আমাদের পরিসরের বাইরে বক্তব্য না দেওয়াটাই ভাল। প্রফেসর ডঃ কাজী সালেহ আহম্মেদ গুনিজন ব্যাক্তি এবং আমার সাথে দীর্ঘদিনের ছাত্র-শিক্ষক সুলভ সখ্যতা। আমি ঐ দিনই ভাল ভাবে বুঝতে শিখলাম যে নিজের গন্ডির বাইরে বাড়তি কথা বলা কখনোই উচিত নয়। আমি পেশায় একজন আইনজীবী। আইনের মধ্যে কথা বলাই শ্রেয় মনে করি। চিকিৎসা এবং ঔষধ আমার পেশা ভুক্ত বিষয় নয়। কাজেই চিকিৎসা এবং ঔষধ নিয়ে আমার মাথা না ঘামানোই উচিৎ। কিন্তু যখন কেউ কোন চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় বা চিকিৎসাজনিত অবহেলায় অত্যন্ত দুখজনক ভাবে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হন বা মৃত্যুবরণ করেন তখন ঐ বিষয়টি আমার পেশার মধ্যেই চলে আসে। আর নকল ঔষধ তৈরী করা বা বিক্রয় করা একটি গুরুতর ফৌজদারী অপরাধ, যে অপরাধের বিষয়টিও আমার পেশার মধ্যেই চলে আসে। যখনই কোন বিষয় আমার পেশার মধ্যে চলে আসে তখন সে বিষয় নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকারটি’ও আমার সৃষ্টি হয় বলেই মনে করি। তবে ঐ নৈতিক অধিকারটি’ও আবার যত্রতত্র ব্যবহারযোগ্য নয়। কিন্তু সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যখনই আমার ব্যক্তিগত মৌলিক অধিকার এবং নকল ঔষধ যখন আমার জীবন মৃত্যুর সাথে উৎপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত তখন ঐ প্রসঙ্গে কথা’তো আমি বলতেই পারি এবং বলা উচিতও বটে। আমাদের দেশের সকল ধরনের মানুষ একটি ক্ষেত্রে গরীব বড়লোক বা শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই একই ভাবে অসহায়। আর সে ক্ষেত্রটি হচ্ছে চিকিৎক,চিকিৎসা ব্যাবস্থা এবং প্রয়োগকৃত ঔষধের বিষয়টি। আর ইদানিং সব চাইতে বড় ভয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নকল ঔষধ। প্রথমত কোন চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন’ই সহজে পাঠউদ্ধার যোগ্য নয়। চিকিৎসক এবং ঔষধ বিক্রেতা ছাড়া আমাদের কাছে কোন চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মানেই চীনা ভাষার কোন অবোধ্য কবিতার চরণ। অবোধ্য প্রেসক্রিপশন মানেই যথার্থ প্রেসক্রিপশন বলে মনে করা হয়। যেমন বাংলা ভাষায় নিয়ত করে নামাজ পরলে নামাজ একটু হাল্কা হয়েছে বলে অনুমিত হয়। ঠিক তেনই প্রেসক্রিপশন বোধগম্য ভাবে লেখা মানেই প্রেসক্রিপশনটা কিছুটা হাল্কা বলে মনে হতে পারে। এটা অবশ্য একটা রেওয়াজে পরিনত হয়েছে। তা’না হলে সকল চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন লেখার অবোধ্যতার ধরন একই রকম হবে কেন ? গল্পের ছলে বলি- এক ভদ্রলোক তার গৃহ শিক্ষককে একদিন জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাঁর খুবই শখ তাঁর ছেলেকে তিনি ডাক্তারী পড়াবেন। তা তাঁর ছেলের মেধা কেমন বলে মনে হয় ? গৃহ শিক্ষক একগাল হেসে দিয়ে প্রতিউত্তরে বলেছিলেন যে কোনই সমস্যা নাই। ইনশাল্লাহ এখনই আপনার ছেলের হাতের লেখা ডাক্তারদের মতই অবোধ্য। তবে চিকিৎসার ব্যাপারে ভারতে গিয়ে আমার একটা বড় অভিজ্ঞতা হলো যে সেখানে প্রকাশ্যে ডাক্তার সাহেব বা মহাশয়দের লম্বা ডিগ্রী জুড়ে দিয়ে সাইন বোর্ড টানিয়ে দেওয়া সম্ভবত আইনত নিষিদ্ধ। কারন কোন হাসপাতালের সামনে ডিগ্রীজুড়ে দেওয়া কোন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায় না। আর বিনা প্রেসক্রিপশনে ঔষধের কোন দোকানেই ঔষধ বিক্রয় করা হয় না এটা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। তাতে যত যুক্তি কিংবা অনুরোধই করা হোক না কেন। যেহেতু বিনা প্রেসক্রিপশনে ঔষধ বিক্রয় হয় না কাজেই নকল ঔষধের বিষয়েও ঔষধের দোকানদার বা ড্রাগিষ্টরা খুবই সচেতন বলেই মনে হয়। তবে খুশির বিষয় এই যে আইন করে হলেও স্পষ্ট করে প্রেসক্রিপশন লেখা বাধ্যতা মূলক করার ব্যাবস্থা নাকি করা হচ্ছে। আর দুঃেখের বিষয়টি হচ্ছে স্পষ্ট করে প্রেসক্রিপশন লেখার ব্যবস্থা করা হলেও নকল ঔষধের বিষয়টি স্পষ্ট করার জরুরী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না বলেই ধারনা করা হয়। প্রেসক্রিপশন স্পষ্ট কিন্তু ঔষধ নকল ! তাহলে বিষয়টি কী হলো ? বেশ কিছুদিন একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকের প্রথম পাতায় নকল ঔষধে বাজার সয়লাভের মত একটি ভয়াবহ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিলো। কিন্তু প্রতিকারের কোন জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তেমন কোন তোড় জোড় লক্ষ্য করা যায় নাই এবং নকল ঔষধ প্রস্তুত করার কারনে কারো দন্ড হয়েছে বলে আমার জানা নাই। যারা অত্যন্ত প্রতাপ এবং প্রভাব প্রতিপত্তির সাথে নকল ঔষধের ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকার মালিক হচ্ছেন তাদেরকে আইনের লোকজন একেবারেই চেনে না তা কী হতে পারে ? এ দেশের অত্যন্ত দক্ষ পুলিশ বাহিনী এক রাতের ব্যাবধানে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করে ফেলে আর সেখানে নকল ঔষধের প্রতিকার করতে পারছে না তা’তো হয় না। আমাদের দক্ষ পুলিশ ভাইয়েরা একটা পারে আরেকটা পারে না তা কী করে হয় ? যাক আবার অধিকারের পরিসর ছাড়িয়ে যাচ্ছি। তবে পরিসর ছাড়ালেও সবার জন্যই নকল ঔষধের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুকিপুর্ন এবং ভয়াবহ। একেতে আমাদের দেশের চিকিৎস্যা ব্যাবস্থা অপ্রতুল তার পরে আবার নকল ঔষধ !! যাকে বলে মরার উপর খাড়ার ঘা। এ ব্যাপরে যে যেখানে আছে সেখান থেকেই জরুরী প্রতিরোধের জন্য এগিয়ে আসা উচিৎ। নইলে কেউই এই মারাত্মক ভয়াবহ নকল ঔষধের হাত থেকে মুক্তি পাবেন না। যেটা করোনা ভাইরাসের চাইতে কোন অংশেই কম বলা যাবে না। এ ভাবে চলতে থাকলে সবাইকে এক দিন না এক দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নকল ঔষধ সেবন করতে করতে করোনার চাইতেও ভয়ানক পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হতে পারে। এমন কী ডাক্তার সাহেব কিংবা আইনের লোকজনও এই ভয়াবহতার হাত থেকে কিছুইে রেহাই পাবেন না। এরই সাথে আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যাবস্থার একটা করুন চিত্র তুলে ধরতে চাই। চিকিৎসা অপ্রতুলতার যে ভয়তে মানুষ করোনার মত ঝুঁকিপূর্ন রোগ নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করছে। আমরা সাধারন মানুষ করোনা ভাইরাসসহ পালানো রুগীদের বিরুদ্ধে যতই গালাগাল দেই না কেন বাস্তব পরিস্থিতিটা একটু বিবেচনায় আনতেই হবে। এ ব্যাপারে সিকাই পাগল নামের একজন ভূক্তভোগীর লেখা একটি চিঠি স্থানীয় একটি পত্রিকায় ছাপানো হয়েছিল। চিঠিটির সার সংক্ষেপ ছিল ঠিক এই রকম। সিকাই পাগল লিখেছেন-
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বন্ধুরা, পত্রে আমার শত কোটি ছালাম নিবেন। বেশ কয়েক মাস আগে প্রচন্ড পেটের ব্যাথা নিয়া জেলা সদরের একটি আধুনিককৃত সদর হাসপাতালে ভর্তি হইয়াছিলাম। হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে আমার বিছানা পাতার যায়গা করিয়া দেওয়া হইয়াছিল। বাড়ি থেকে ল্যাপ-ক্যাঁথা আনাইয়া বারান্দার মেঝেতেই বিছানা পাতিয়া শুইয়া পরিলাম। অসহ্য পেটের ব্যথায় কুঁকড়াইতে কুঁকড়াইতে কয়েকঘন্টা কাটিয়া গেল। কিছুক্ষন পার পরই পেটের অসহ্য ব্যাথায় কুঁড়াইয়া উঠিতেছিলাম। কিন্তু ডাক্তার আসার কোন লক্ষনই দেখা গেল না। আমি এ সমাজের একজন আধা পাগল মানুষ। বিশ্রী রকমের নেংড়া কাপড় চোপড় পরিয়া জীবন কাটাইয়া দিতেছি। আমার বাড়ী’তো নয় যেন একটা অপরিস্কার ময়লার ভাগার। আশে পাশের কেউই আমার বাড়ীতে ঘেন্না করিয়া যাইতে চায় না। বাড়ীর পাশে গেলে দূর্গন্ধে সবাই নাক চাপিয়া ধরে। কিন্তু জেলা সদরের ঐ হাসপাতলটির নেংড়া অবস্থা দেখিয়া মনে হইল যে ঐ হাসপাতালটির চাইতে আমার বস্তিমার্কা বাড়িটি শতগুনে না হইলেও পঞ্চাশ গুনে পরিস্কার। হাসপাতালের দূর্গন্ধে আমার মত একজন পাগলেরও দম আটকাইয়া যাওয়ার মত অবস্থা হইল। সেকি যাইতাই গন্ধ নাকিরে বাবা !! আমার বমি বমি ভাব শুরু হইয়া গেল। বারান্দাতেই যে পরিমান গন্ধ, না জানি হাসপাতালের রুমের মধ্যে কি পরিমান দোজখ-ই অবস্থা তাহা অনুমান করাও কষ্ট। এবার তাহইলে ভাবিয়া দেখুন হাসপাতালের পায়খানা-প্রশাবখানার অবস্থা কি হইতে পাওে ? ওখানেও ঢুকিয়া দেখিলাম অন্তত আটজন রুগী মেঝেতেই কাজ সারিয়াছেন। যাক তারপরেও নাম কিন্তু আধুনিকৃত সদর হাসপাতাল!! আর আমি সেই হতভাগা পাগল কিনা সেই আধুনিক হাসপাতালে সৌভাগ্যক্রমে ভর্তি হইতে পারিয়াছি !! অবশেষে হাসপাতালের ডাক্তারের দেখা না পাইলেও একজন নাক শিট্কানো নার্স আসিয়া আমাকে ধমক দিয়া কান্দাকাটি করিতে নিষেধ করিয়া গেলেন। বুঝিতে পারিলাম এতক্ষনে বোধ হয় আমার প্রাথমিক চিকিৎসার কাজটা শুরু হইল। মাথায় সাদা কাপড় টানানো নার্স। এরা নাকি খুবই দামী নার্স হয়। কিন্তু আবারও ঘন্টা পার হইয়া যাইতে লাগিল। এদিকে বাইরের কুয়াশা এবং প্রচন্ড হিমেল বাতাসে আর বারান্দায় শুইয়া থাকা আর সম্ভবপর হইতেছিলো না। ওদিকে আমাকে প্রাথমিক ধমক মার্কা চিকিৎসা দেওয়া সেই নার্সেরও আর কোন দেখা পাওয়া যচ্ছে না। বাধ্য হইয়া অনুমতি ছাড়াই ক্যাঁথা-বালিশ বোগলে চাপিয়া হাসাতালের রুমের মধ্যে ঢুকিয়া পরিলাম। একেতে ঘরের মধ্যে দম আটকানোর মত বিকট গন্ধ তারপর আশেপাশের অসহায় রুগীদের আহাজারিতে আমার হতাশা আরও দ্বিগুন বাড়িয়া গেল। যাক কিচুক্ষন পর একজন নার্স আসিয়া পারেতো আমাকে মারে। অপরাধ বরান্দা হইতে ভিতরে আসিয়াছি কেন। অবশেষে শীতের ঠেলায় ভিতরে আসার বিষয়টি নার্স আপাও ক্ষমার চোখেই দেখিলেন। এরপর আমার রক্ত হইতে শুরুকরিয়া শরীরের ৭-৮ রকমের টেষ্ট পরীক্ষার একখানা লম্বা চুতা ধরাইয়া দিলেন নার্স আপা। আরেক হাতে ধরাইয়া দিলেন একখানা প্রেসক্রিপশন। বাহির হইতে নাকি ইঞ্জেকশন ও স্যলাইন কিনিয়া আনিতে হইবে। আমি ভয়েভয়ে জিজ্ঞাসা করিলাম,আপা সরকারী ভাবে একটু আধটু ঔষুধের ব্যাবস্থা ট্যাবস্থা করা যায় না ? নার্স আপা দাঁত কিট মিট করিয়া বলিলেন,আল্লাদ করার আর যায়গা পাচ্ছেন না। এটা কি মামার বাড়ির আব্দার নাকি ? আমার মা’র কোন ভাই ছিল না। কাজেই মামারবাড়ি‘র আব্দার সম্পর্কে আমার তেমন কোন ধারনা নাই। অগত্যা আমার ভাতিজাকে দিয়া একটা ইঞ্জেকশন ও স্যলাইন আনাইয়া নার্স আপার হাতে ধরাইয়া দেওয়া হইল। নার্স আপার চেহারা দেখিয়া মনে হইল আমাদের মত রুগীদের হাজারও রকমের অপরাধ সহ্য করিয়া নার্স আপা আমাদের সেবা করিয়া যাইতেছেন। আহা ব্যাচারীর চোখ মুখের ভাব খানা দেখিয়া খুব কষ্ট হইতে লাগিল। অবশেষে শেষ রাতের দিকে নার্স আসিয়া আমার হাতে ইঞ্জেকশন ফুটাইয়া একটা স্যলাইন জুড়িয়া দিয়া গেল। তারপর এভাবেই সারা রাত কাটিয়া ভোরের আলো ফুটিয়া উঠিল। তবুও কোন ডাক্তারের টিকিটি পর্যন্তু দেখা পাওয়া গেল না। হাসপাতালে আসিলে মানুষের সুস্থ্য হইয়া উঠার কথা। কিন্তু মনে হইতে লাগিল যে হাসপাতালের সকল রুগীই যেন ধীরে ধীরে আরও অসুস্থ হইয়া যাইতেছে। সারা রাতের মধ্যে কেউই কোন ডাক্তারের সন্ধান দিতে পারিলেন না। আদৌ হাসপাতালে কোন ডাক্তার আছে কিনা তাহাও ঠাহর করিয়া উঠা মুশকিল। সকাল বেলা একজন সাবেক এমপি গ্রামের একজন হার্টের রুগীকে দেখিতে আসিলেন। ঐ রুগীর পাশে আরেকজন হার্টের রুগী বুকের ব্যাথায় কুঁকড়াইয়া বিছানার মাঝে চিৎ হইয়া পরিয়া ছিল। এমপি সাহেবকে দেখিয়া পাশের রুগীটির দু’চোখ বাহিয়া শেষ বারের মত কয়েক ফোটা লোনাপানি গড়াইয়া পরিল। বুকের ব্যথায় তাহার অবস্থা খুবই গুরুতর এবং মরনাপন্ন। কিন্তু কোন ডাক্তার নাই। সাবেক এমপি সাহেব বহু কষ্টে ঐ হাসপাতালেরই একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞকে ডাকাইয়া আনিতে সমর্থ হইলেন বটে। কিন্তু আর শেষ রক্ষা হইল না। জীবনের শেষ প্রদীপ শিখাটি নিবু নিবু করিতেছিল। ইংরেজী টেন্স শেখার প্রশ্নের মতই বলা চলে ডাক্তার আসিবার পূর্বেই রুগী মারা গেল। সৌভাগ্যক্রমে সাবেক এমপি সাহেবের হাতের উপরেই হতভাগ্য রুগীটির করুন মৃত্যু হইয়াছিল। বলা চলে বিনাচিকিৎসায় এমন অপঘাতের মৃত্যু। মৃত্যুর সময় লোকটি সমাজপতিদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়া বোবা ভাষায় কি বুঝাইয়া গেলেন তাহা স্পষ্ট বোঝা গেল না। চিকিৎসাহীন এই করুন মৃত্যুর জন্য এই দেশের চিকিৎসার অব্যাবস্থাপনাই দায়ী। কিন্তু কেন ? কেন জেলা সদরের মত একটি আধুনিক হাসপাতালের মধ্যে অহরহ এমন অসহায়ত্বের মৃত্যু ঘটিতেছে ? আমরা কি মানুষ হিসাবে এতই হতভাগ্য ? সদর হাসপাতালটির কতৃপক্ষও এক বাক্যে বলিতে বাধ্য হইবেন যে ঐ জেলা সদর হাসপাতালটির নিজের শারীরিক অবস্থাও খুব একটা ভাল না। অবশেষে আমি হাসপাতালে কাউকে খুঁজিয়া না পাইয়া দুইদিন পর বাড়িতে ফিরিয়া আসিয়াছি। বর্তমানে আমার কবিরাজী চিকিৎসা চলিতেছে। শারিরীক অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হইয়াছে। বিশেষ আর কি লিখিব। আমি পাগল মানুষ। অনেকে আমাকে আধা পাগল বলে। তবে পাগল আধা হই আর ফুলই হইনা কেন,আমি এটা বুঝিতে পারিয়াছি যে করোনা ভাইরাস আসার আগেই আমি ভালোয় ভালোয় বাড়িতে আসিতে পারিয়াছি ইহাই রক্ষা। না হইলে হাসপাতাল হইতে অসুস্থ্য অবস্থায় পালাইয়া আসার জন্য গনপিটুনি অথবা পুলিশ ভাইদের হাতে গ্রেফতার হইতে হইতো। তারপর চলিত ১৪‘দিনের করোনা পরীক্ষা। যে দেশে সাধারন পেটের ব্যথার চিকিৎসা নাই সেখানে আবার করোনা চিকিৎসা ? ? ? যাক আল্লাহপাক এ যাত্রায় এই পাগলকে রক্ষা করিয়াছেন। আলহামদুলিল্লাহ!!