রাজবাড়ী, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২

বালিয়াকান্দির নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যানের লকডাউন ভঙ্গ করে সালিশ,

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল, ২০২০ ৭:১৮ : অপরাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

কাজী হুমায়ন,  রাজবাড়ী প্রতিনিধি: লকডাউন অমান্য করে ডাকা রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আবুল হোসেন আলী সালিশে সংঘর্ষ বেধে ৮ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বালিয়াকান্দির নবাবপুর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামে চেয়ারম্যানের উপস্থিতেই এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- দিলালপুর গ্রামের পান্না বেগম (৩৫), নুরজাহান বেগম (৭০),  মো: নিরুজ মোল্লা (৩৫), হিরণ শেখ (৫০), ইসলাম মোল্লা (৩০), রাসেল শেখ (৩০), হারুন শেখ (৪০) ওরফিক শেখ (২০) । আহতদের মধ্যে নিরুজ মোল্লাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাকিদেরকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আটককৃতরা হলো- বহরপুরের নিরু ও শাজাহান এবং দিলালপুরের ফারুক ও ফরহাদ।
আহত হিরন শেখ  বলেন, চেয়ারম্যান আজ সালিশ হবে বলে আমাদেরকে গতকাল জানায়। আমরা সালিশে গেলে সালিশ চলাকালিন সময়েই চেয়ারম্যান, আমাদের মেম্বার মাসুদ ও চায়না বেগমের সামনেই মজিদ শেখের ভাড়া করে নিয়ে আসা লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক কুপাতে থাকে।
নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আবুল হোসেন আলী  বলেন, দিলালপুর গ্রামে মজিদ শেখ ও হিরন শেখের মধ্যে জমি নিয়ে একটি ঝামেলা ছিল। বৃহস্পতিবার হিরন শেখের স্ত্রী পান্না বেগম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে গ্রামের কয়েকজন লোক আমাকে অনুরোধ করে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য। সেখানে উভয় পক্ষের দুজন করে থাকবে এই শর্তে আমি রাজি হয়।
আজ মিমাংসা চলাকালিন সময়ে মজিদ শেখের পক্ষে নিরু ও শাজাহান উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলতে থাকলে মারামারি শুরু হয়ে যায়। পরে আমি সেখান থেকে চলে আসি।
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, চেয়ারম্যান সালিশের আয়োজন করেছেন এটা আমাদেরকে আগে জানাননি। সালিশের সময় সংর্ঘষ শুরু হলে তখন আমাদেরকে বিষয়টি তিনি ফোনে জানান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের সময় সালিশ ডাকাটা উচিত হয়নি। লকডাউন চলাকালিন সময়ে এর আগে আমার কাছে একজন সালিশের অনুমতির জন্য এসেছিল। কিন্তু  আমি অনুমতি দেয়নি।