রাজবাড়ী, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

কওমি আলেমরা ১৪ শর্তে তারাবি-জুমা-জামাত চান

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল, ২০২০ ৮:৫৫ : অপরাহ্ণ

১৪টি শর্তে সুস্থ মুসল্লিদের মসজিদে জুমা, ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ও তারাবি আদায়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ কওমি ঘরানার শীর্ষ আলেমরা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হেফাজতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও বেফাকের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।

১৪টি শর্ত মানার জন্য মুসল্লিসহ মসজিদ সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বিবৃতিতে তারা বলেন, পবিত্র রমজানুল মুবারক অত্যাসন্ন।  এ মাস রহমত ও নাজাতের মাস।  করোনাসহ সব বালা-মুসিবত থেকে মুক্তির জন্য এ মাসের সদ্ব্যবহার একান্ত জরুরি।

১৪টি শর্ত মানা সাপেক্ষে মসজিদে নামাজের ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এসব আলেম।  তবে শর্ত যথাযথভাবে মানা না হলে কিংবা কোনো এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক হয়ে গেলে প্রশাসন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারবেন বলেও জানান তারা।

মসজিদে সুস্থদের জুমা, জামাত, তারাবি পড়ার ১৪টি শর্ত উল্লেখ করে তারা বলেন, মসজিদে কার্পেট, জায় নামাজ বা গালিচা বিছানো যাবে না; জুমার বয়ান, খুতবা, জামাত ও দোয়া সংক্ষিপ্ত করা হবে এবং নামাজের আগে বা পরে মসজিদের ভেতরে বা সামনে জড়ো হওয়া যাবে না; পঞ্চাশোর্ধ্ব মুসল্লি এবং ১২/১৩ বছর পর্যন্ত বয়সের বালক মসজিদে আসবে না; যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আছে, যারা আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন কিংবা যারা উক্তরূপ মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন তারা মসজিদে আসবে না; যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এবং যারা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত তারা মসজিদে আসবেন না; যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন তারাও আসবেন না; পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদকে জীবাণুনাশক, স্যানিটাইজার ইত্যাদি দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবে এবং ওজুখানায় অবশ্যই সাবান ও পর্যাপ্ত টিস্যু রাখবে।

তাছাড়া মুসল্লিদের দু’জনের মধ‌্যে অন্তত দুই ফুট পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রেখে দাঁড়াতে হবে; বাসা থেকে ওজু করে যেতে হবে এবং হাত ও পা ভালোভাবে ধুয়ে মুছে যেতে হবে; বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। পরস্পর হাত মেলানো ও আলিঙ্গন থেকে বিরত থাকতে হবে; সম্মিলিত ইফতারের আয়োজন করা যাবে না; মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে; ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম সাহেবদের প্রশাসনের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে এবং বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ‌্য রাখার জন্য প্রতি মসজিদে একটি করে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করতে হবে।

বিবৃতি দিয়েছেন- আল্লামা শাহ আহমদ শফি, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মুফতি মো. ওয়াক্কাস, মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর, মাওলানা আব্দুল হামীদ (পীর সাহেব, মধুপর), মাওলানা রুহুল আমীন, মাওলানা শামসুল হক, মাওলানা আব্দুল হালীম বুখারী,

হযরত মাওলানা আবু তাহের নদভী, মুফতি শাসমুদ্দীন জিয়া, হযরত মাওলানা মুহিব্বুল হক, হযরত মাওলানা আব্দুল বছীর, হযরত মাওলানা আরশাদ রাহমানী, হযরত মাওলানা মাহমুদুল আলম, হযরত মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, হযরত মাওলানা মোহাম্মাদ আলী, হযরত মাওলানা সাজিদুর রহমান, হযরত মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ, হযরত মাওলানা মুছলেহুদ্দীন রাজু, হযরত মাওলানা মাহফুজুল হক, হযরত মাওলানা মুফতি জসীমুদ্দীন, হযরত মাওলানা আনাস মাদানী, হযরত মাওলানা আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, হযরত মাওলানা মুফতি নূরুল আমীন, হযরত মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুব, হযরত মাওলানা মোশতাক আহমদ, হযরত মাওলানা নূরুল হুদা ফয়েজী, হযরত মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়্যা, হযরত মাওলানা ছফিউল্লাহ, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইসমাইল, হযরত মাওলানা মুফতি আব্দুল মালেক, হযরত মাওলানা মুফতি দেলোয়ার হুসাইন, হযরত মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান সায়ীদ, হযরত মাওলানা মুফতি এনামুল হক, হযরত মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, হযরত মাওলানা মুফতি মাহমুদুল হাসান, হযরত মাওলানা রিজওয়ান, হযরত মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, হযরত মাওলানা মনজুরুল ইসলাম, হযরত মাওলানা মাসঊদুল করীম, হযরত মাওলানা মুফতি নাজমুল হাসান, হযরত মাওলানা মুফতি ইয়াহইয়া, হযরত মাওলানা মুফতি সাইফুল ইসলাম, হযরত মাওলানা আবুল কালাম।