রাজবাড়ী, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২

আসুন-চাল চোরদের ঘৃণা করি

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল, ২০২০ ৪:২৫ : অপরাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

 

সোহেল মিয়া: গত কয়েক মাস ধরেই অদৃশ্য এক ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করছে বিশ্ব। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্র দমাতে পারছেনা তার বিস্তৃতি। একের পর পর আঘাত করেই যাচ্ছে মানব জাতির ওপর। অসহায়ত্বের পাহাড় সমান বোঝা মাথায় নিয়ে  মানুষ এখন বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। সব কিছু ছেড়ে প্রাণীকূল  বেঁচে থাকার জন্য নিজেকে আত্নসমর্পণ করছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে।

এরই মাঝে আবার বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে খাদ্যের জন্য। পুরো বিশ্ব অবরুদ্ধ থাকায় চরম সংকটে  পড়তে পারে খাদ্যের এমন আভাস দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে বিশ্ব জুড়ে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের হিংস্র থাবা থেকে বাদ পড়েনি বাংলাদেশও। এরই মধ্যে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা । সেই সাথে বাংলার মানুষকে করোনামুক্ত রাখতে সরকার কয়েক দফায় গোটা দেশকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করেছে। বিচ্ছিন্ন রয়েছে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্হা। তাছাড়া বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত ও পোশাক শিল্প।

সবকিছু বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া দুস্হ ও অসহায় শ্রমজীবি মানুষগুলো। দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকায় কর্মহীন এই মানুষগুলো রয়েছে চরম খাদ্য সংকটে। অসহায় মানুষগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ত্রাণের ব্যবস্হা গ্রহণ করেছেন। কোন খেটে খাওয়া মানুষ যাতে অভুক্ত না থাকে সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাবে ত্রাণের ব্যবস্হা করেছে।

কিন্তু সরকারের সেই ত্রাণ বিতরণ নিয়ে চলছে তেলেসমাতি। ত্রাণের চাল আজ চলে যাচ্ছে চোরদের ঘরে। চোরদের নজর এখন ত্রাণের চালের দিকে। প্রকৃত ভুক্তভোগিদের কাছে কতটুকু পৌঁছাচ্ছে ত্রাণ সেটা নিয়ে মানুষের মাঝে রয়েছে নানা প্রশ্ন। ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগ উঠেছে জোড়েসড়েই। তাও আবার খোদ সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই এই ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগ। এ নিয়ে বিব্রত সরকার।

একজন মানুষও না খেয়ে থাকবেনা এমন নীতি নিয়ে যখন সরকার প্রধান কাজ করে যাচ্ছেন ঠিক তখনই বিবেকবর্জিত গুটি কয়েক নেতাকর্মীর কর্মকান্ডে পুরোটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে সরকারের ভালো কাজগুলো। তারপরেও থেমে নেই সরকার। ত্রাণের চাল চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্হানে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নীতি-নির্ধারকরা।

কিন্তু প্রশ্ন হলো ত্রাণের চাল নিয়ে কেন চলবে এই তেলেসমাতি। শুধু এখনই নয়, এর আগেও যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও দেখা গেছে এ সকল চোরদের।  সরকারের ভাবমূর্তীর দিকে না তাকিয়ে তারা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য সুকৌশলে ত্রাণের চাল চুরি করেছেন।

শুধু চুরিই নয়- ত্রাণের চাল বিতরণ নিয়েও চলে ভিলেজ পলিটিক্স। যারা ত্রাণের চাল বিতরণ করেন তারা তাদের পছন্দের মানুষগুলোকেই তালিকাভুক্ত করেন। সেক্ষেত্রে দুস্হ বা অসহায় না হলেও সমস্যা নেই। শুধু মাত্র তালিকাভুক্তকারির মামা-খালু কিংবা ভাই-ব্রাদার হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলে যাচ্ছে তাদের নাম। বাদ পড়ছেন প্রকৃত ভুক্তভোগীরা।

যারা ত্রাণের চাল পাচ্ছেন তারা কয়েক দফায় পাচ্ছেন। আর যারা পাচ্ছেননা তারা কখনোই কোন ত্রাণের চাল পাচ্ছেন না। ফলে একশ্রেণীর অসহায়রা সারা জীবনই বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। সঠিক বন্টন না হওয়ায় অভুক্তই থেকে যাচ্ছেন তারা।

এখনই ত্রাণের চালের যদি  সঠিক বন্টনের ব্যবস্হা গ্রহণ না করা হয় তাহলে এবারের মহামারীতে চরম খাদ্য সংকটে ভুগবে কর্মহীন খেটে খাওয়া দুস্হ অসহায় মানুষগুলো।

চাল চোরদের এখনি যদি সমন্বিত ভাবে প্রতিহত না করা যায় তাহলে আগামিতে এরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে। মানষিক বিকৃত এ সকল চাল চোরদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গর্জে উঠতে হবে। সামাজিক ভাবে চাল চোরদের বয়কট করতে হবে। চোরদের ছবিসহ নামের তালিকা করে তা গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতে টাঙিয়ে রাখতে হবে। একসাথে সবাইকে এই চাল চোরদেরকে ঘৃণা করতে হবে।

আসুন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করি করোনার বিরুদ্ধে, লড়াই করি ত্রাণের চাল চোরদের বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধুর বাংলায় চাল চোরদের ঠাঁই নাই এই নীতিতে চলুন এগিয়ে যায়।

 

লেখক : সোহেল মিয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম ও শিক্ষক, বালিয়াকান্দি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ী।