রাজবাড়ী, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

মৃতদেহ থেকে করোনা ছড়ানোর দাবির ভিত্তি নেই— ডা. জাফরুল্লাহ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল, ২০২০ ৮:৪৭ : অপরাহ্ণ

প্রথমবারের মতো থাইল্যান্ডে মৃতদেহ থেকে করোনা ছড়ানোর যে খবর বেরিয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ।

গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ আবারও বলেছেন, এ ধরনের দাবির কোন ভিত্তি নেই।  করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলে ওই মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে তিন-চার ঘণ্টা পরে আর ভাইরাস ছড়ায় না।

থাইল্যান্ডে মৃত ব্যক্তি থেকে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে-সংবাদ মাধ্যমে এমন তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ ডা. জাফরুল্লাহর বলেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘এ ধরনের দাবির কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। সব কিছু বিশ্বাস করতে হয় না। মারা যাওয়ার তিন-চার ঘণ্টা পরে গ্লাভস পরে সাবান দিয়ে ভালো গোসল করিয়ে মৃতদেহ কবর দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘মৃতদেহ তিন থেকে চার ঘণ্টা পরে দাফন করে দিলে তা থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। করোনার জন্য জীবিত প্রাণী দরকার হয়।’

তিন চার ঘণ্টা পরেও কবর না দিলে করোনা নয়, অন্যান্য রোগ ছড়ানো আশঙ্কা থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিন চার ঘণ্টা পরে কবর না দিয়ে রেখে দিলে অন্যান্য রোগ ছড়াবে। কবর যদি না দেয়, মৃহদেহ যদি বেশিক্ষণ পড়ে থাকে, অন্যান্য পোকা-মাকড়, মশা-মাছি ইদুর-বাদুর নানা রোগ ছড়াবে। করোনা ছড়াবে না। অন্যান্য রোগ ছড়াবে। এজন্য মরে যাওয়ার তিনচার ঘণ্টা পরে গ্লাভস পড়ে সাবান দিয়ে গোসল করিয়ে কবর দিয়ে দেন। লাশ আটকিয়ে রাখেন না।

থাইল্যান্ডে মৃত ব্যক্তি থেকে একজন আক্রান্ত হয়েছে-এ বিষয়ে ড. জাফরুল্লাহর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই সবের ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। সবকথায় বিশ্বাস করা যাবে না।’

প্রসঙ্গত, এর আগে সংবাদ আসে, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃতদেহ থেকে ভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে থাইল্যান্ডে। মৃত ব্যক্তি থেকে আক্রান্ত হয়েছেন একজন মেডিকেল পরীক্ষক। আর এই ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা মর্গে ও অন্তেষ্টিক্রীয়ার কাজ যারা করেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিতে বলেছেন। জোর দিতে বলেছেন ময়নাতদন্তকারীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও।

রোববার মৃতদেহ থেকে করোনা ছড়ানো সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব ফরেনসিক অ্যান্ড লিগ্যাল মেডিসিন স্টাডি’তে। সেখানে ব্যাংককের আরভিটি মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার ওন শ্রীউইজিতালাই ও চীনের হাইনান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার ভিরোজ উইওয়ানিতকিট লিখেছেন, ‘মেডিকেল পার্সোনেলদের মধ্যে মৃতদেহ থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর এটাই প্রথম নজির। তাই জীবানু নিস্ক্রয়করণের বিষয়টি প্যাথলোজি ও ফরেনসিক ইউনিটেও কার্যকর করতে হবে। মৃতদেহ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ঠিক কতোজন এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন সে সম্পর্কিত সুস্পষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত কারো কাছে নেই। যদিও থাইল্যান্ডে নিয়মিত করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতব্যক্তিদের ময়নাতদন্ত করা হয় না। যেহেতু সুস্পষ্ট তথ্য ও গবেষণা এখনো হয়নি এ বিষয়ে তাই মৃতদেহ থেকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কিন্তু রয়েই গেছে।’

গত ৬ এপ্রিল ডা. জাফরুল্লাহ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছিলেন, মৃত ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস বাঁচতে পারেনা, তার বৃদ্ধিও হয় না। করোনায় মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য কোন ব্যক্তির শরীরে প্রসারিত হয় না। মৃত ব্যক্তিকে ধর্মীয় মত সাবান দিয়ে গোসল করালে করোনার প্রসার বন্ধ হয়।

করোনায় মৃত ব্যক্তিকে নির্ভয়ে দাফনের আহবান জানিয়ে ওই বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসে মৃত ব্যক্তিক নির্ভয়ে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী দাফন-কাফন করুন। অন্যরাও নির্ভয়ে নিজ নিজ ধর্মের নিয়মানুযায়ী সৎকার করুন।

করোনায় মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা ছড়ায় কিনা এই বিতর্ক শুরু থেকেই। যেকারণে মৃতদেহ সৎকারে শুরু থেকেই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে আসা হচ্ছে।পিপিই ব্যবহার করে খুব সতর্কতার সাথে লাশের সৎকার করা হচ্ছে। ১৩ এপ্রিল এক সংবাদ মাধ্যম জানায়, থাইল্যান্ডে মৃত ব্যক্তি থেকে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

প্রবাসী সাংবাদিক ও কানাডায় কর্মরত নার্স সেরীন ফেরদৌস এক নিবন্ধে লিখেছেন-বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই নিশ্চিত করেছেন যে, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাইরাস ছড়ানো বা কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না।

করোনা মৃতদের শেষকৃত্য সম্পাদন নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সেরীন ফেরদৌস লেখেন- ভুল ধারণা এবং ভুল প্রচারণার কারণেই এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ঘটেছে।