রাজবাড়ী, ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, রোববার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২

গবেষণা: মৃতদেহ থেকেও ছড়ায় করোনাভাইরাস

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল, ২০২০ ১০:৫২ : পূর্বাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

 

করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃতদেহ থেকে ভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে থাইল্যান্ডে। মৃত ব্যক্তি থেকে আক্রান্ত হয়েছেন একজন মেডিকেল পরীক্ষক। আর এই ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা মর্গে ও অন্তেষ্টিক্রীয়ার কাজ যারা করেন তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিতে বলেছেন। জোর দিতে বলেছেন ময়নাতদন্তকারীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও।

রোববার মৃতদেহ থেকে করোনা ছড়ানো সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব ফরেনসিক অ্যান্ড লিগ্যাল মেডিসিন স্টাডি’তে। সেখানে ব্যাংককের আরভিটি মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার ওন শ্রীউইজিতালাই ও চীনের হাইনান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার ভিরোজ উইওয়ানিতকিট লিখেছেন, ‘মেডিকেল পার্সোনেলদের মধ্যে মৃতদেহ থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর এটাই প্রথম নজির। তাই জীবানু নিস্ক্রয়করণের বিষয়টি প্যাথলোজি ও ফরেনসিক ইউনিটেও কার্যকর করতে হবে। মৃতদেহ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ঠিক কতোজন এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন সে সম্পর্কিত সুস্পষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত কারো কাছে নেই। যদিও থাইল্যান্ডে নিয়মিত করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতব্যক্তিদের ময়নাতদন্ত করা হয় না। যেহেতু সুস্পষ্ট তথ্য ও গবেষণা এখনো হয়নি এ বিষয়ে তাই মৃতদেহ থেকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কিন্তু রয়েই গেছে।’

সিইউএনওয়াই জন জয় কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিজের প্রফেসর (প্যাথোলোজি) আঙ্গেলিক কোর্থালাস বলেছেন, ‘এক্ষেত্রে কেবল মেডিকেল পরীক্ষকই নন, মর্গে যারা কাজ করেন, যারা শেষকৃত্যের জন্য মৃতদেহ প্রস্তুত করেন, অন্তেষ্টিক্রীয়ার কাজ করেন, তাদের নিরাপত্তায় ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়ার উচিত। এক্ষেত্রে তাদেরও নিরাপত্তা পোষাক পরিধান করা উচিত।’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জনসন ম্যাকগি বলেছেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি যিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ব্যক্তির (মৃত কিংবা জীবিত) সংস্পর্শে আসবে তাকে অবশই পিপিই ও অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরিধান করেই আসা উচিত।’

যদিও ২৫ মার্চ থাইল্যান্ডের মেডিকেল সার্ভিস বিভাগ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে মৃতদেহ থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। অবশ্য এই ঘোষণা দেওয়ার পেছনেও একটা ঘটনা রয়েছে। অনেক মন্দির করোনা আক্রান্ত মৃতদেহের শবকার্য সম্পাদনা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলো।

ঠিক কতক্ষণ মৃত ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস বেঁচে থাকে এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি। মৃতদেহ নিয়ে যারা কাজ করে তাদের জন্য সেটা করোনা সংক্রামক কিনা সেটাও জানা যায়নি।

অবশ্য ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের শরীরে জীবানুর উপস্থিতি ছিল। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) গাইডলাইন অনুযায়ী যারা মৃতদেহ নিয়ে কাজ করে তাদের হেপাটাইটিস, যক্ষ্মা ও কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তবে দিনশেষে সবাই জোর দিয়ে বলেছেন, ‘যারা মৃতদেহের যত্ন নেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের যত্নশীল  হওয়া উচিত’।