রাজবাড়ী, ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

এসপি’র উদ্যোগে শৃংখলা ফিরেছে দৌলতদিয়ায়

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২:০৭ : অপরাহ্ণ

 

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-পথে ফেরিতে বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে ভিআইপি প্রথা বাতিল করে দিয়েছেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। একই সাথে ওইঘাটে অধিক পরিমান যানবাহন জড়ো হয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ কাজে লাগিয়ে দালাল, চাঁদাবাজ, অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধে কঠোর ভুমিকা রেখেছেন। তার উদ্যোগে আমুল পরিবর্তন ঘটেছে দৌলতদিয়া ঘাট। শুধু দৌলতদিয়া ঘাট কেন্দ্রিকই নয় তার যোগদানের পরে থানা গুলোতে বেড়েছে সেবার মান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে তিনহাজার গাড়ি পার হয়। এরমধ্যে এক হাজার ট্রাক, এক হাজার বাস ও এক হাজার ছোট গাড়ি। এক হাজার বাসের মধ্যে তিন থেকে চারশ’র মতো দূরপাল্লার এসি বাস। এতো দিন এসিবাস গুলিকে ভিআইপি হিসেবে সরাসরি দ্রুত পার করা হতো। এজন্য এসিবাস প্রতি একহাজার টাকা করে অতিরিক্ত দিতে হতো। এছাড়া প্রতিটি ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি করা হতো। চাঁদাবাজির টাকা দালাল, শ্রমিক নেতা, সরকারি দলের ছোট নেতা, বড় নেতা, পুলিশের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হতো বলে অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। দৌলতদিয়া ঘাট পাড়ে সাধারণত দুই ধরনের যানজট দৃশ্যমান ছিল। প্রথমত: তীব্র স্রোত, নদী ভাঙ্গনের ফলে ঘাট ভেঙ্গে যাওয়া, কুয়াশা ও বৈরী আবহাওয়ার জন্য ফেরি চলাচলে বন্ধ থাকার কারনে। আর দ্বিতীয়তটি হচ্ছে মানবসৃষ্ট ও কয়েকটি চক্রের পরিকল্পিত।

দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহন পারাপারে নৈরাজ্য বন্ধ করতে, দালাল চক্রের তৎপরতা বন্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন তিনি। শুধুমাত্র দৌলতদিয়া ঘাট কেন্দ্রীকই নয় সুষ্ঠু জবাবদিহীর মাধ্যমে রাজবাড়ীর থানাগুলোতে অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরী, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ব্যক্তিগনের সেবা পেতে যাতে কোন প্রকার অনৈতিক লেনদেন না করতে সেদিকেও রয়েছে কঠোর নজরদারী। ইতিপূর্বে তিনি কোন পুলিশ সদস্যের দ্বারা হয়রানী কিংবা থানায় সেবা পেতে হয়রানীর স্বীকার হলে সরাসরি অভিযোগ করার অনুরোধও করেছিলেন সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের। বালিয়াকান্দি থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে আসা একজন সেবা গ্রহিতা জানান, কোন প্রকার অর্থ ছাড়াই একটি সাধারণ ডায়েরী করলাম। সাধারণ ডায়েরীর ফর্মটিও থানা থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটে যানজট এড়ানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস ও পচনশীল দ্রব্য পারাপারকারী ট্রাক সিরিয়ালে অপেক্ষমান রাখা হয়না। দিনরাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে আট ঘন্টা ট্রাক পারপার বন্ধ রাখা হয়। সকাল ১১ টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত ও রাতে ১১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত ট্রাক পারাপার বন্ধ রাখা হয়। এই সময় ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকে। তবে ঘাটে যদি অপেক্ষামান গাড়ি না থাকে তাহলে পার্কিং করা হয় না। ট্রাক পারাপার শুরু হলে ঘাট থেকে অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় দাঁড় করিয়ে রাখা ট্রাকগুলি ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

পদ্মা পাড়ের অপেক্ষায় থাকা একাধিক ট্রাক চালক জানান, আগে ফেরীর টিকিট পেতে দালাল ধরতে হতো। এখন আর সেই সমস্যা নেই। আগে দালালের নিয়ন্ত্রণে ছিল ফেরীর টিকিট। এখন সেই সমস্যা নেই। ঘন কুয়াশায় ফেরী বন্ধ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া মানবসৃষ্ট সমস্যা গুলো এখন আর নেই।

রাজবাড়ী জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আক্তারুজ্জামান হাসান বলেন, গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় ট্রাক পার্কিংয়ের বিষয়টির সুফল আমরা পেতে শুরু করেছি। কারণ আগে যানজট বাধিয়ে ঘাটে ব্যাপক চাঁদাবাজি হতো। সিরিয়াল দেওয়ার নামে যাচ্ছে তাই অবস্থা বিদ্যমান ছিলো। সাধারণ মানুষের নানা ধরণের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন সে পরিস্থিতির অবসান হয়েছে।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, সাধারণ যাত্রীদের কথা চিন্তা করে প্রথমে ভিআইপি বাস প্রথা বাতিল করা হয়েছে। ঘাটে যাত্রীদের সকল দুর্ভোগের কেন্দ্র বিন্দু হলো যানজট। এই যানজট বেশির ভাগ সময়ে সাধারণত কৃত্রিম ভাবে সৃষ্টি করা হতো স্বার্থবাদীদের লাভের জন্য। যাত্রীদের দুর্ভোগ কাজে লাগিয়ে আগে দালাল, চাঁদাবাজ, অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টিসহ অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িতরা সক্রিয় ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যানজট থাকলে সবধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড যাতে বন্ধ থাকে সেদিকেও কঠোর নজরদারী রয়েছে। শুধু দৌলতদিয়া ঘাটই নয় রাজবাড়ীর সকল থানা থেকে সেবা গ্রহিতারা যেন নিশ্চিন্তে পুলিশী সেবা পায় সেদিকেও নজরদারী রয়েছে আমার।