রাজবাড়ী, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে গ্রামীণফোন-রবির

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০১৯ ৫:০৭ : অপরাহ্ণ

সরকারের পাওনা টাকা আদায় করতে দেশের দুই শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির লাইসেন্স বাতিলের মত চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ওই দুই অপারেটরের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে ইতোমধ্যে নোটিস পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে।

বুধবার (২৮ আগস্ট) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা তো প্রথমে ক্যাপ (ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেয়া) করেছি, পরে তাদের এনওসি (সেবার অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র) দেয়া বন্ধ করেছি। এখন তাদের নোটিস দেয়া, আরও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি।”

বিটিআরসির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর কমিশন গ্রামীণফোন ও রবিকে লাইসেন্স বাতিলে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্ট, ২০০১ এর ৪৬ ধারা অনুযায়ী এ নোটিস পাঠানো হচ্ছে, যেখানে যৌক্তিক কারণে কমিশনকে লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিতের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। অপারেটরদের দেয়া লাইসেন্সের শর্ত ও বিধিবিধান ভঙ্গ হলে এমন নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে কমিশন।

কোনো মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিতের আগে কমিশনকে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের ব্যাখ্যা চেয়ে ৩০ দিনের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টেলিকম অ্যাক্টের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হওয়ায় গ্রামীণফোন ও রবির কাছে ১৩ হাজার ৪৪৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা আদায়ে কমিশন কয়েক দিনের মধ্যেই কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠাবে। এতে অপারেটরদের ব্যাখ্যা পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বিটিআরসি। দেশের মোবাইল ফোন গ্রাহকের ৭৬ শতাংশই হচ্ছে গ্রামীণফোন ও রবির।

যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটার কাছে সরকারের পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা ও রবি আজিয়াটার কাছে ৮৬৭ কোটি বকেয়া রয়েছে।

১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা ও এর সুদ মিলিয়ে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা দাবি করে গত ২ এপ্রিল চিঠি পাঠায় বিটিআরসি।

তবে বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় গত ৪ জুলাই গ্রামীণফোনের ৩০ শতাংশ ও রবির ১৫ শতাংশ ব্যান্ডউইথ কমিয়ে দেয় বিটিআরসি। এই নির্দেশনা কার্যকরের পর থেকে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা নানা সমস্যায় পড়েন।

গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ায় গত ১৭ জুলাই ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে অপারেটর দুটিকে অনাপত্তি পত্র (এনওসি) না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। এতে করে অপারেটর দুটির নতুন প্যাকেজ অনুমোদন বন্ধ হয়ে যায়।

এরপরও বকেয়া আদায়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় চলতি মাসে গ্রামীণফোন ও রবির বিদ্যমান প্যাকেজ নবায়ন না করার প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি উদ্যোগের অনুমোদন চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বিটিআরসি।

তবে পাওনা বিষয়ে বিটিআরসির দাবির সঙ্গে একমত নয় গ্রামীণফোন ও রবি। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে পাওনা আদায়ে বিটিআরসির নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সালিশ আইন, ২০০১-এর অধীনে অমীমাংসিত অডিট দাবির নিষ্পত্তিতে সহযোগিতার অনুরোধ জানায় গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি।

তবে গ্রামীণফোনের এমন প্রস্তাব বাতিল করে বিটিআরসি জানায়, টেলিকম আইনে এ ধরনের সুযোগ নেই।

Source: amar-sangbad.com

Facebook Comments