রাজবাড়ী, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২

পাকুন্দিয়া খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে কৃষকদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ২৫ জুলাই, ২০১৯ ৯:২০ : পূর্বাহ্ণ

প্রিন্ট করুন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সাবিকুন্নাহারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলার সাধারণ কৃষক। বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে এগারটায় একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদের গেইটের সামন থেকে শুরু হয়ে পৌর সদর বাজার প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা গেইটের সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয়।

এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষক প্রতিনিধি জালাল উদ্দিন বাচ্চু, পৌর ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফ হোসেন, কৃষক হারুন অর রশিদ, নূরুল ইসলাম, গোলাপ মিয়া, রেনু মিয়া। কৃষক তাহের উদ্দিন বলেন, পাকুন্দিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাবিকুন্নাহার সরকার ঘোষিত সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে অসদুপায়ে ধান ক্রয় করে সাধারণ কৃষকদেরকে সুবিধা বঞ্চিত করছে।

ভুক্তভোগী কৃষক ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি ধান ক্রয়ের বিষয়ে কৃষকদের উদ্দেশ্যে সমগ্র উপজেলায় মাইকিং করার কথা থাকলেও গুদাম কর্মকর্তা তা করেননি। ১০৪০ টাকা মণ দরে গত ২৫ মে থেকে পাকুন্দিয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা কৃষি বিভাগ প্রথম দফায় ২৮০ মেট্রিকটন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। গত ১০ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফায় ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হয়। এ দফায় ৪৬৯ মেট্রিকটন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কৃষকদের কাছ থেকে চিটামুক্ত, উজ্জল সোনালি রঙের ১৪ শতাংশ আর্দ্র ধান সংগ্রহ করে সংরক্ষণের নিয়ম থাকলেও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার ব্যক্তিস্বার্থে তা মানা হচ্ছে না।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম আরিফ বলেন, খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সাবেকুন্নাহার প্রতি টনে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গুদামে ধান ঢুকাচ্ছেন। অথচ দূরদূরান্ত থেকে নিয়ে আসা কৃষকের ধান গুদামের সামনের মাঠে স্তূপ করে রেখে দিয়েছে। টাকা দিতে পারছেন না বলে কৃষকের কোনো ধানই গুদামে ঢুকাচ্ছে না।

আন্দোলনকারী কৃষক নেতা দুলাল মিয়া বলেন, গুদাম কর্মকর্তা সাবেকুন্নাহারের স্বামী মুনির মিয়া বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান কিনে ট্রাকভর্তি করে রাতের আঁধারে গুদামে ধান ঢুকাচ্ছেন। গুদামটি এখন স্বামী-স্ত্রীর ব্যবসাকেন্দ্র হয়ে পড়েছে।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) সাবেকুন্নাহারের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি তার ওপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কিছু রাজনৈতিক নেতা পাঁচ-সাতটি করে কার্ড নিয়ে আসে ধান কেনার জন্য। আমি তাদের দাবি পূরণ করতে না পারায় তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।